বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর বক্তব্যকালে বহু দেশের ওয়াকআউট: তীব্র প্রতিবাদের মুখে ফাঁকা সাধারণ পরিষদ

জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর বক্তব্যকালে বহু দেশের ওয়াকআউট: তীব্র প্রতিবাদের মুখে ফাঁকা সাধারণ পরিষদ

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাষণ চলাকালে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক কূটনৈতিক প্রতিবাদের ঘটনা ঘটেছে। নেতানিয়াহু বক্তব্য দেওয়ার জন্য মঞ্চে ওঠার সাথে সাথেই গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান ও গণহত্যার প্রতিবাদে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি দল একযোগে সাধারণ পরিষদের অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ (ওয়াকআউট) করেন।মুহূর্তের মধ্যেই জাতিসংঘের বিশাল অধিবেশন কক্ষের অধিকাংশ আসন খালি হয়ে যায়। ওয়াকআউটে অংশ নেওয়া এবং বয়কটে শামিল হওয়া দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, ইরান, সৌদি আরব, তুরস্ক, পাকিস্তান, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, স্পেন, আয়ারল্যান্ডসহ এশিয়া, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও লাতিন আমেরিকার বহু রাষ্ট্র।   প্রতিনিধিদের হল ত্যাগের সময় নেতানিয়াহু তাদের কটাক্ষ করে "ভণ্ড মানবাধিকার কর্মী" বলে অভিহিত করেন। ওয়াকআউটের পাশাপাশি জাতিসংঘের ভবনের বাইরে নিউইয়র্কের রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ ফিলিস্তিনের সমর্থনে এবং নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।ওয়াকআউট করা ও অনুপস্থিত থাকা উল্লেখযোগ্য দেশসমূহ:   এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য: ইরান, ইরাক, সিরিয়া, ইয়েমেন, ফিলিস্তিন, তুরস্ক (তুর্কিয়ে), ওমান, কাতার, সৌদি আরব, উজবেকিস্তান, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, মালদ্বীপ, ইন্দোনেশিয়া, কুয়েত, মালয়েশিয়া, ব্রুনাই, মায়ানমার, কিরগিজস্থান, তুর্কমেনিস্তান।  আফ্রিকা: মিসর, সেনেগাল, সুদান, টিউনিসিয়া, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, অ্যাঙ্গোলা, কমোরোস, জিবুতি, দক্ষিণ আফ্রিকা, সোমালিয়া, আলজেরিয়া, ইরিথ্রিয়া, চাদ, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, লিবিয়া, মৌরিতানিয়া, মাদাগাস্কার, নাইজার, বতসোয়ানা, এসওয়াতিনি, উগান্ডা, লেসোথো, নিরক্ষীয় গিনি, মোজাম্বিক, নামিবিয়া, কেনিয়া। ইউরোপ: স্পেন, আয়ারল্যান্ড, স্লোভেনিয়া, সান মারিনো, উত্তর মেসিডোনিয়া, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা।লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল: ভেনিজুয়েলা, কলম্বিয়া, ব্রাজিল, চিলি, নিকারাগুয়া, পেরু, বলিভিয়া, কিউবা, গায়ানা, পানামা, অ্যান্টিগুয়া ও বার্বুডা, বার্বাডোস, ডোমিনিকা, সেন্ট লুসিয়া, দ্য বাহামাস।   ওশেনিয়া: টুভালু, টোঙ্গা।

‘মক্কা চুক্তি’র আলোকে সৌদিকে সহায়তার প্রস্তাব তুরস্কের

তুরস্ক সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনায় ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক হামলার প্রেক্ষাপটে দেশটিকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছে। রিয়াদকে ঐতিহাসিক ‘মক্কা চুক্তি’র আলোকেই এ সহায়তা দেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে আঙ্কারা।তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভিকে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, “আমরা দেখছি সৌদি আরবের ভৌগোলিক অখণ্ডতার ওপর গুরুতর আঘাত আসছে। একটি পারস্পরিক চুক্তি তাদের সঙ্গে আমাদের রয়েছে। সৌদি আরবের এখন কিছু সামরিক সহায়তা প্রয়োজন, বিশেষ করে কারিগরি ও প্রযুক্তিগত (টেকনিক্যাল) ক্ষেত্রে। এ ধরনের সহায়তা দিতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।”হাকান ফিদান আরও জোর দিয়ে জানান, এই সংকটকালে সৌদি আরবের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে তুরস্ক অঙ্গীকারবদ্ধ এবং কারিগরি সামরিক সহায়তা পাঠাতে আঙ্কারা পুরোপুরি প্রস্তুত।প্রসঙ্গত, গত ৭ আগস্ট সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ‘মক্কা চুক্তি’ হিসেবে পরিচিত এই সমঝোতার প্রধান শর্ত অনুযায়ী—স্বাক্ষরকারী তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র আক্রমণ হলে তা বাকি দুই দেশের ওপরও আক্রমণ হিসেবে গণ্য হবে এবং যৌথভাবে তার মোকাবিলা করা হবে।এর আগে শনিবার হুথি বিদ্রোহীরা দাবি করে, তারা সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং রাষ্ট্রায়ত্ত তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আরামকোর স্থাপনায় বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে।হামলার পরপরই রিয়াদের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশে কালো ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী আকাশে উড়তে দেখা যায়। পরে নিশ্চিত হওয়া যায়, বিমানবন্দরের কাছে অবস্থিত আরামকোর একটি জেট ফুয়েল (বিমানের জ্বালানি) ডিপো লক্ষ্য করে ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে হুথিরা।এ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের জেরে রিয়াদ বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ চলাচলে চরম বিপর্যয় নেমে আসে। তাৎক্ষণিকভাবে শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয় এবং আরও কয়েক শ ফ্লাইটের শিডিউল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়।

‘মক্কা চুক্তি’র আলোকে সৌদিকে সহায়তার প্রস্তাব তুরস্কের

তুরস্ক-পাকিস্তান সম্পর্ক নিয়ে ইসহাক দার ও ফিদানের আলোচনা

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও আঞ্চলিক উন্নয়ন নিয়ে টেলিফোনে কথা বলেছেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এই আলোচনার তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিবৃতিতে জানানো হয়, দুই দেশই ফিলিস্তিনের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। অবৈধ ইসরায়েলি বসতির পণ্য আমদানিতে যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তের ওপর আটটি আরব-ইসলামিক দেশের যৌথ বিবৃতিকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে পাকিস্তান ও তুরস্ক। সামগ্রিক আঞ্চলিক ইস্যুতে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রক্ষা করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে উভয় দেশ। বিশেষ করে সৌদি আরব ও মিসরের সঙ্গে সম্মত হওয়া রিজিওনাল ফোর (আর৪) কাঠামোর আওতায় আঞ্চলিক বিষয়গুলোতে পারস্পরিক পরামর্শ অব্যাহত রাখার বিষয়ে তারা জোর দিয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা

তুরস্ক-পাকিস্তান সম্পর্ক নিয়ে ইসহাক দার ও ফিদানের আলোচনা

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রথম বৈঠক হবে তুরস্কে

মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় প্রথমবারের মতো কমিটির বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের শীর্ষ কর্মকর্তারা। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈঠকে অংশ নিতে তারা ইস্তাম্বুলে জড়ো হবেন। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াশার গুলের ও চিফ অব জেনারেল স্টাফ জেনারেল সেলচুক বায়রাকতারওগ্লু অংশ নেবেন। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার, প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান ও চিফ অব জেনারেল স্টাফ জেনারেল ফাইয়াদ বিন হামেদ আল-রুয়াইলিও বৈঠকে যোগ দেবেন। তিন দেশের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং সামরিক বাহিনীর প্রধানদের নিয়ে গঠিত এই কমিটির কাজ হলো মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় যৌথ কার্যক্রমে কৌশলগত দিকনির্দেশনা দেওয়া। বৈঠকে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং তিন দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় জোরদার নিয়ে আলোচনা হবে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা শিল্পে যৌথ উৎপাদন, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ও গুরুত্ব পাবে। যৌথ কার্যক্রম পরিচালনায় কমিটির সচিবালয় ও প্রয়োজনীয় কাঠামোর রূপরেখা এবং আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। গত ৭ আগস্ট মক্কায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করেন। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলাকে সব পক্ষের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এর লক্ষ্য আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ে নিরাপত্তা, শান্তি ও স্থিতিশীলতা জোরদার এবং যৌথ প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়ানো। আন্তর্জাতিক আইন মেনে শান্তিপূর্ণ সহযোগিতায় আগ্রহী অন্য পক্ষগুলোকেও ভবিষ্যতে এই উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রথম বৈঠক হবে তুরস্কে

তুরস্কের পদক্ষেপে ইসরায়েলের কড়া সতর্কতা

তুরস্ককে সিরিয়া ইস্যুতে আঙ্কারা বিপজ্জনক পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে মন্তব্য করে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ। তিনি জানান, ইসরায়েল দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করে এমন কোনো গোষ্ঠীকে ছাড় দেবে না।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দেওয়া এক বার্তায় কাটজ উল্লেখ করেন, সিরিয়ায় বিপজ্জনক কর্মকাণ্ডে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোগান জড়িয়ে পড়ছেন, যা সিরিয়ার সঙ্গে দেশটির সম্পর্কের ক্ষেত্রে নেতিবাচক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিজের আত্মরক্ষার সক্ষমতাকে পরীক্ষা না করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তুর্কি জাতীয় সংসদে অবাস্তব ও কল্পনানির্ভর বক্তব্য অব্যাহত রাখা এরদোগানের জন্য শ্রেয় হবে, কারণ আত্মরক্ষায় ইসরায়েলের সংকল্প পরীক্ষা করার চেষ্টা করা ঠিক হবে না।’সূত্র: মিডল ইস্ট আই

তুরস্কের পদক্ষেপে ইসরায়েলের কড়া সতর্কতা

অস্ত্র সরবরাহে রাশিয়ার হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-তুরস্ককে

রাশিয়া দাবি করেছে ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোপন পরিকল্পনার গোয়েন্দা তথ্য হাতে এসেছে। রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী, তুরস্কের বন্দর ব্যবহার করে ওই অস্ত্র ইউক্রেনে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এই খবরের পর আঙ্কারার কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছে মস্কো ও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে ওয়াশিংটন।রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা শনিবার (১৫ আগস্ট) এক বিবৃতিতে বলেন, গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে ইউক্রেনকে যুক্তরাষ্ট্র বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও অস্ত্র  পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এসব অস্ত্র প্রথমে তুরস্কের বন্দরে পৌঁছাবে, সেখান থেকে পরে ইউক্রেনে পাঠানো হবে।জাখারোভা সতর্ক করে বলেন, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের কাছে যৌক্তিক ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। যদি সন্তোষজনক জবাব না আসে, তাহলে ওয়াশিংটন ও আঙ্কারার সঙ্গে মস্কোর কূটনৈতিক সম্পর্কে গুরুতর ক্ষতি হতে পারে।চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে সম্প্রতি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতিতে ভুগছিল কিয়েভ। এজন্য ক্ষেপণাস্ত্র সহায়তা চেয়ে সম্প্রতি ওয়াশিংটনে গিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে ইউক্রেনকে আর অস্ত্র সহায়তা দেওয়া হবে না। তুরস্কও বিভিন্ন সময় বলে এসেছে, তারা এমন কোনো পদক্ষেপ নেবে না যা যুদ্ধকে আরও উসকে দেয়।এদিকে গত কয়েক দিন ধরে রাশিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সামারা প্রদেশে টানা হামলা চালাচ্ছে ইউক্রেনীয় বাহিনী। ওই অঞ্চলেই রয়েছে রাশিয়ার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা রোসকসমসের স্থাপনা। শনিবার এক্সে এক বার্তায় জেলেনস্কি দাবি করেন, রোসকসমসের স্থাপনায় সফল হামলা চালানো হয়েছে এবং এতে মার্কিন দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।

অস্ত্র সরবরাহে রাশিয়ার হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-তুরস্ককে

মার্কিন নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে সংশয়, নতুন প্রতিরক্ষা জোটে সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তান

মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামোয় নতুন এক সমীকরণের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত নতুন যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি ঘিরে আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে নানা প্রশ্ন উঠেছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনের পর নিজেদের নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে নতুন কৌশলগত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নামে পরিচিত এই চুক্তি শুক্রবার সৌদি আরবের মক্কায় স্বাক্ষরিত হয়। বৈঠক শেষে দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তিন দেশের যৌথ প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করাই এই চুক্তির প্রধান উদ্দেশ্য। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।চুক্তিটি বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও বহুমুখী করার চেষ্টা করছে। রাইস ইউনিভার্সিটির বেকার ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক পলিসির মিডল ইস্ট ফেলো ক্রিস্টিয়ান কোটস উলরিচসেন বলেন, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে মার্কিন নিরাপত্তা অংশীদারত্বের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে সংশয় বাড়ছে।তার মতে, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান, যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি সামলানোর পদ্ধতি এবং সংকট মোকাবিলায় বারবার অবস্থান পরিবর্তনের কারণে এসব উদ্বেগ আরও বেড়েছে। তবে নতুন চুক্তির লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে দেওয়া নয়; বরং নিজেদের জন্য অতিরিক্ত কৌশলগত ও নীতিগত বিকল্প তৈরি করা।তোসি ব্যাখ্যা করে বলেন, মূলত ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভর না করে সৌদি আরব তার নিরাপত্তা অংশীদারত্বের পরিধি বৃদ্ধি করছে এবং অঞ্চলভিত্তিক নিরাপত্তাব্যবস্থার ভিত্তি তৈরি করছে বলে মনে হচ্ছে। এটিই শর্তসাপেক্ষে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক।সংবাদমাধ্যমের খবরে আরও বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্ররা ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর ক্ষুব্ধ ছিল। কারণ, কোনো আঞ্চলিক সহযোগীদের ওপর এর প্রভাব কেমন পড়বে, তা না ভেবেই গত ফেব্রুয়ারিতে তারা ইরানে আগ্রাসন চালিয়েছিল।ইরানি বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যার ফলে বেসামরিক নাগরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ইরান জ্বালানি ও পানি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্টসহ বেসামরিক অবকাঠামোতেও হামলা চালিয়েছে।অঞ্চলের জ্বালানি রপ্তানির মূল পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধ করার তেহরানের সিদ্ধান্ত স্থানীয় অর্থনীতিতেও ভারী মূল্য চাপিয়ে দিয়েছে।যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক হামলা সত্ত্বেও ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা অনেকটাই বজায় রেখেছে। বিপরীতে ওয়াশিংটন তার মিত্রদের পর্যাপ্ত আকাশ প্রতিরক্ষা গোলাবারুদ জোগাতে হিমশিম খেয়েছে। কারণ, এই আকাশ প্রতিরক্ষার সিংহভাগই ইসরায়েলে পাঠানো হয়েছিল।যুদ্ধের লাগিয়ে দেওয়ার পর সৃষ্টি পরিস্থিতির মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তায় দীর্ঘদিনের ওয়াশিংটন-নির্ভরতা আরও বেশি চাপের মুখে পড়েছে।সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের অধীনে মধ্যপ্রাচ্য নীতির অন্যতম প্রধান পরিকল্পনাকারী ব্রেট ম্যাকগার্ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘এটি মধ্যপ্রাচ্যে একটি পরিবর্তনশীল ও সম্পূর্ণ নতুন শুরুর অধ্যায়।’তবে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, শুক্রবারের এই নিরাপত্তা চুক্তিকে অন্যান্য দেশের সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করা এবং ইরানকে ঠেকানোর একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখাই সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত।ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের বিশ্লেষক ইয়াসমিন ফারুক আল-জাজিরাকে বলেন, ‘এসব দেশ সবই যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র। তারা জানে, এমন কোনো কাঠামো নেই, যা যুক্তরাষ্ট্রকে পুরোপুরি প্রতিস্থাপন করতে পারে।’ফারুক আরও যোগ করেন, এই চুক্তিকে ইরানের সঙ্গে বড় ধরনের সংঘাতের দিকে পা বাড়ানোর পদক্ষেপ হিসেবে দেখা ভুল হবে।বিশ্লেষক ফারুক উল্লেখ করেন, ফেব্রুয়ারির শেষভাগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল প্রথম যখন ইরানে আগ্রাসন চালায়, তার পর থেকেই এই তিন দেশই সাধারণত মধ্যস্থতা ও উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়ে এসেছে।ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের বিশ্লেষক বলেন, এসব দেশের মধ্যে মিল হলো, তারা কেউ-ই আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি করতে চায় না। এতে চুক্তিটির গুরুত্ব ‘আদর্শগত প্রতিরোধ’-এর কাছাকাছি বলে মনে করেন তিনি।ফারুক ব্যাখ্যা করেন, যুদ্ধ শেষে ইরান আরও কঠোর এবং তার লক্ষ্য অর্জনে শক্তি প্রয়োগে আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে।ফারুক বলেন, এখানে শুধুই প্রতিরোধের বিষয় নয়, বরং কৌশলগত সহযোগিতার ওপর একটি দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গিও রয়েছে।

মার্কিন নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে সংশয়, নতুন প্রতিরক্ষা জোটে সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তান

সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তানের যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি, হামলা হলে একসঙ্গে জবাব

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) স্বাক্ষরিত এ চুক্তির লক্ষ্য তিন দেশের পারস্পরিক নিরাপত্তা ও প্রতিরোধ সক্ষমতা আরও জোরদার করা।যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের পাশাপাশি হাউছিদের হামলাকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। এর প্রভাব পড়েছে সৌদি আরবসহ আশপাশের দেশগুলোতে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালী ও লোহিত সাগরে নৌযান চলাচলও ব্যাহত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নিজেদের নিরাপত্তা সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে চাইছে রিয়াদ।সৌদি আরবের সরকারি বার্তাসংস্থা ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, তিন দেশ ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ সই করেছে। এর আওতায় সমষ্টিগত নিরাপত্তা জোরদার এবং অঞ্চল ও এর বাইরেও শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করা হয়েছে।পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী কোনো একটি সদস্য দেশের ওপর হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এর মাধ্যমে তিন দেশের ‘সমষ্টিগত প্রতিরোধ সক্ষমতা’ আরও শক্তিশালী হবে।তবে তুরস্ক পরে স্পষ্ট করেছে, এ চুক্তি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট দফতরের যোগাযোগ পরিচালক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা জানান।দেশটির অপতথ্যবিরোধী সংস্থাও জানিয়েছে, ন্যাটোর মূল অঙ্গীকারসহ তুরস্কের বিদ্যমান আন্তর্জাতিক জোটগুলোর প্রতি দায়িত্বের সঙ্গে নতুন এই চুক্তির কোনো সাংঘর্ষিকতা নেই।সৌদি আরবও জানিয়েছে, চুক্তিটি কোনো সামরিক জোট বা সাম্প্রদায়িক বলয় তৈরির উদ্যোগ নয়। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনকূটনীতি বিষয়ক উপমন্ত্রী রায়েদ ক্রিমলি এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, চুক্তিটি কোনো পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা বা অস্ত্র প্রতিযোগিতার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। বরং টেকসই প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তোলাই এর মূল লক্ষ্য।তিনি আরও বলেন, এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি নয়।সূত্র: বাসস

 সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তানের যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি, হামলা হলে একসঙ্গে জবাব
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream