আন্তর্জাতিক ডেস্ক : স্পেনে আত্মগোপনে থাকা যুক্তরাজ্যের মোস্ট ওয়ান্টেড পলাতকদের ধরতে যৌথ অভিযান জোরদার করেছে ব্রিটেন ও স্পেন। হত্যা, মাদক পাচার, প্রতারণা ও অর্থ পাচারসহ গুরুতর অপরাধে ওয়ান্টেড ১২ জনকে নিয়ে ২০২৬ সালের ১৪ মে নতুন করে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ প্রচারণা শুরু করে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (NCA) ও দাতব্য সংস্থা ক্রাইমস্টপারস।
অভিযানটি ‘অপারেশন ক্যাপচুরা’র ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে শুরু করা হয়। NCA, ক্রাইমস্টপারস, স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং যুক্তরাজ্য ও স্পেনের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কর্তৃপক্ষের ধারণা, তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের স্পেনের বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপন করে থাকার অথবা দেশটির সঙ্গে যোগাযোগ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
তালিকা প্রকাশের দিনই গ্রেপ্তার
তালিকায় থাকা ৪৯ বছর বয়সী সাইমন ডাটনকে ১৪ মে স্পেনের লা নুসিয়ায়, বেনিডর্মের কাছে গ্রেপ্তার করা হয়। বড় পরিসরে কোকেন আমদানি ও অর্থ পাচারের ঘটনায় তিনি যুক্তরাজ্যে ওয়ান্টেড ছিলেন। তালিকাটি প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্প্যানিশ পুলিশের অভিযানে তাকে আটক করা হয়।
এরপর ১৯ জুন স্পেন্সার ডিলন ল্যাম্ব, ৩৩, বেলজিয়ামে গ্রেপ্তার হন। তার বিরুদ্ধে ডার্বিশায়ারে মাদকসংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। অভিযানে মাদক ও একটি আগ্নেয়াস্ত্রও উদ্ধার করা হয় বলে ক্রাইমস্টপারস জানিয়েছে। ল্যাম্বকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে অপারেশন ক্যাপচুরার শুরু থেকে ১০০তম মোস্ট ওয়ান্টেড পলাতককে আটক করা হয়।
তালিকায় থাকা অন্য পলাতকেরা
২০২৬ সালের প্রচারণায় থাকা অন্যদের মধ্যে রয়েছেন ডিন এইটিন, ডেরেক ম্যাকগ্রা ফার্গুসন, ফিলিপ ব্যারি ফস্টার, আলেকসান্দর কুকসভ, লিয়াম মাইকেল মারে, ফ্রান্সিস ডেভিড পার্কার, কেভিন থমাস পারলে, ম্যাথিউ পারভেস, জন রক্স এবং চার্লি সালিসবারি। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা, মাদকসংক্রান্ত অপরাধ, অর্থ পাচার, প্রতারণা ও যৌন অপরাধসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।
কর্তৃপক্ষের মতে, এসব পলাতকের কেউ কেউ স্পেনের ব্রিটিশ প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে আত্মগোপন করে থাকতে পারেন। বিশেষ করে স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় তাদের সন্ধানে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
২০ বছরে শতাধিক পলাতক গ্রেপ্তার
অপারেশন ক্যাপচুরা ২০০৬ সালে শুরু হওয়ার পর থেকে ব্রিটিশ ও স্প্যানিশ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ প্রচেষ্টায় শতাধিক পলাতককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জুনে স্পেন্সার ল্যাম্বকে গ্রেপ্তারের পর ক্রাইমস্টপারস জানায়, অভিযানের আওতায় গ্রেপ্তার হওয়া পলাতকের সংখ্যা ১০০-তে পৌঁছেছে। একই সময় ১০ জন এখনো পলাতক রয়েছে বলে জানানো হয়।
NCA-এর অপারেশনস ডিরেক্টর জেনারেল রব জোনস বলেন, পলাতকদের খুঁজে বের করার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে এবং তারা যেখানেই থাকুক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের অনুসরণ করা বন্ধ করবে না।
তথ্য দিলে পরিচয় গোপন থাকবে
তালিকায় থাকা পলাতকদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য থাকলে যুক্তরাজ্যে ক্রাইমস্টপারসের 0800 555 111 নম্বরে এবং স্পেন থেকে 900 926 111 নম্বরে সম্পূর্ণ বেনামে তথ্য দেওয়া যাবে। অনলাইনেও পরিচয় গোপন রেখে তথ্য দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা হবে এবং পলাতকদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে জনসাধারণের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।
মতামত