বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM

দারিদ্র্যের নির্মম থাবায় থমকে গেছে তিন সন্তানের জীবন



দারিদ্র্যের নির্মম থাবায় থমকে গেছে তিন সন্তানের জীবন
দারিদ্র্যের নির্মম থাবায় থমকে গেছে তিন সন্তানের জীবন

মানুষ স্বপ্ন নিয়েই বেঁচে থাকে। একটি নিরাপদ বসতঘর, দুমুঠো খাবার এবং সন্তানদের মুখে হাসি—এটাই একজন মানুষের স্বাভাবিক প্রত্যাশা। কিন্তু সবার ভাগ্যে সেই স্বপ্ন পূরণ হয় না। কেউ এগিয়ে যায় সচ্ছল জীবনের পথে, আবার কেউ প্রতিদিন লড়াই করে টিকে থাকার জন্য।

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার বাঘাইছড়ি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের উগলছড়ি এলাকার দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা স্বামী-পরিত্যক্তা মিনু আক্তারের জীবন সেই কঠিন বাস্তবতারই প্রতিচ্ছবি। দুই মেয়ে ও এক ছেলে সন্তানকে নিয়ে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন তিনি।


সরেজমিনে দেখা যায়, পরিত্যক্ত টিন ও প্লাস্টিক দিয়ে কোনোরকমে তৈরি করা হয়েছে তাদের বসতঘর। জরাজীর্ণ ঘরটির ছাউনি বৃষ্টি হলেই বিভিন্ন জায়গা দিয়ে পানি চুইয়ে পড়ে। ফলে রাতের বেলায় সন্তানদের নিয়ে কখনো ঘরের ভেতরে ছাতা মাথায় বসে থাকতে হয়, আবার কখনো বাধ্য হয়ে আশ্রয় নিতে হয় প্রতিবেশীদের বাড়িতে।

মিনু আক্তার জানান, অন্যের বাড়িতে কাজ করে এবং প্রতিবেশীদের সহায়তায় কোনোমতে সংসার চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। অনেক কষ্টে বড় মেয়ে লিজা আক্তারকে উচ্চমাধ্যমিক (ইন্টারমিডিয়েট) পর্যন্ত পড়ালেখা করাতে পারলেও অর্থাভাবে তার উচ্চশিক্ষা এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে মেজো মেয়ে ও ছোট ছেলের পড়াশোনাও ঝুঁকির মুখে। এমনকি অনেক সময় তিনবেলা খাবারের ব্যবস্থাও করা সম্ভব হয় না। তাই স্বাভাবিক জীবন তাদের কাছে আজও অধরা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে চরম কষ্টের মধ্যে দিন পার করছেন মিনু আক্তার। নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করলেও স্থায়ীভাবে এই সমস্যার সমাধান করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। পরিবারটির জন্য একটি নিরাপদ বাসস্থান এবং টেকসই আয়ের ব্যবস্থা করা না গেলে এই দুর্দশা থেকে মুক্তি মিলবে না।

স্থানীয় সচেতন মহলের অভিমত, বড় মেয়ে লিজা আক্তারের জন্য একটি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা কিংবা পরিবারটিকে সরকারি পুনর্বাসনের আওতায় আনা গেলে তাদের জীবন নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হবে।

পরিবারটির মানবিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় ব্যক্তিদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


দারিদ্র্যের নির্মম থাবায় থমকে গেছে তিন সন্তানের জীবন

প্রকাশের তারিখ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

মানুষ স্বপ্ন নিয়েই বেঁচে থাকে। একটি নিরাপদ বসতঘর, দুমুঠো খাবার এবং সন্তানদের মুখে হাসি—এটাই একজন মানুষের স্বাভাবিক প্রত্যাশা। কিন্তু সবার ভাগ্যে সেই স্বপ্ন পূরণ হয় না। কেউ এগিয়ে যায় সচ্ছল জীবনের পথে, আবার কেউ প্রতিদিন লড়াই করে টিকে থাকার জন্য।

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার বাঘাইছড়ি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের উগলছড়ি এলাকার দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা স্বামী-পরিত্যক্তা মিনু আক্তারের জীবন সেই কঠিন বাস্তবতারই প্রতিচ্ছবি। দুই মেয়ে ও এক ছেলে সন্তানকে নিয়ে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন তিনি।


সরেজমিনে দেখা যায়, পরিত্যক্ত টিন ও প্লাস্টিক দিয়ে কোনোরকমে তৈরি করা হয়েছে তাদের বসতঘর। জরাজীর্ণ ঘরটির ছাউনি বৃষ্টি হলেই বিভিন্ন জায়গা দিয়ে পানি চুইয়ে পড়ে। ফলে রাতের বেলায় সন্তানদের নিয়ে কখনো ঘরের ভেতরে ছাতা মাথায় বসে থাকতে হয়, আবার কখনো বাধ্য হয়ে আশ্রয় নিতে হয় প্রতিবেশীদের বাড়িতে।

মিনু আক্তার জানান, অন্যের বাড়িতে কাজ করে এবং প্রতিবেশীদের সহায়তায় কোনোমতে সংসার চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। অনেক কষ্টে বড় মেয়ে লিজা আক্তারকে উচ্চমাধ্যমিক (ইন্টারমিডিয়েট) পর্যন্ত পড়ালেখা করাতে পারলেও অর্থাভাবে তার উচ্চশিক্ষা এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে মেজো মেয়ে ও ছোট ছেলের পড়াশোনাও ঝুঁকির মুখে। এমনকি অনেক সময় তিনবেলা খাবারের ব্যবস্থাও করা সম্ভব হয় না। তাই স্বাভাবিক জীবন তাদের কাছে আজও অধরা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে চরম কষ্টের মধ্যে দিন পার করছেন মিনু আক্তার। নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করলেও স্থায়ীভাবে এই সমস্যার সমাধান করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। পরিবারটির জন্য একটি নিরাপদ বাসস্থান এবং টেকসই আয়ের ব্যবস্থা করা না গেলে এই দুর্দশা থেকে মুক্তি মিলবে না।

স্থানীয় সচেতন মহলের অভিমত, বড় মেয়ে লিজা আক্তারের জন্য একটি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা কিংবা পরিবারটিকে সরকারি পুনর্বাসনের আওতায় আনা গেলে তাদের জীবন নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হবে।

পরিবারটির মানবিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় ব্যক্তিদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream