বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, territorial integrity এবং জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে আমাদের যেকোনো সিদ্ধান্ত হতে হবে অত্যন্ত বিচক্ষণ, বাস্তবভিত্তিক ও দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখে। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো হিসেবে সামনে এসেছে, এবং বাংলাদেশও বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে।
আমার ব্যক্তিগত মত হলো, বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থের জন্য এই উদ্যোগকে গভীরভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি আমাদের অনুরোধ—বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি, সামরিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ—সবকিছু বিচার-বিশ্লেষণ করে যদি দেশের জন্য কল্যাণকর মনে হয়, তাহলে মক্কা প্রতিরক্ষা কাঠামোয় যুক্ত হওয়ার বিষয়টি সাহস ও দূরদর্শিতার সঙ্গে বিবেচনা করুন।
বিশেষ করে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সীমান্ত, পানি, বাণিজ্য, রাজনৈতিক প্রভাব ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে যে উদ্বেগগুলো জনমনে রয়েছে, সেগুলোও উপেক্ষা করা উচিত নয়। ‘অখণ্ড ভারত’ বা ‘Greater India’-র ধারণা ভারতীয় উপমহাদেশকে একটি বৃহত্তর ঐতিহাসিক-সাংস্কৃতিক পরিসর হিসেবে দেখার একটি রাজনৈতিক-আদর্শিক ধারণা; তবে এটিকে ভারতের রাষ্ট্রীয়ভাবে বাংলাদেশকে দখল বা একীভূত করার পরিকল্পনার প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করার আগে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ থাকা জরুরি।
তাই আমাদের অবস্থান হওয়া উচিত কোনো দেশের বিরুদ্ধে অন্ধ বিরোধিতা নয়, বরং বাংলাদেশ প্রথম—যে দেশের সঙ্গেই সম্পর্ক হোক, তা হতে হবে পারস্পরিক সম্মান, সমতা ও বাংলাদেশের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকারের ভিত্তিতে। শক্তিশালী কূটনীতি, আধুনিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব—এই তিনটির সমন্বয়ই পারে বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বকে আরও শক্তিশালী করতে।
মক্কা চুক্তিতে যোগদান যদি বাংলাদেশের জন্য সেই কৌশলগত সক্ষমতা ও নিরাপত্তা বাড়ায়, তাহলে এটি ভবিষ্যতের বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে পারে; তবে সিদ্ধান্তটি অবশ্যই আবেগ দিয়ে নয়, পূর্ণাঙ্গ জাতীয় স্বার্থের হিসাব-নিকাশ করেই নিতে হবে।
আমার পক্ষ থেকে মূল বার্তা একটাই—বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা নীতির চূড়ান্ত মাপকাঠি হতে হবে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব এবং দেশের মানুষের নিরাপত্তা। কোনো বিদেশি শক্তির চাপ, প্রভাব বা স্বার্থ নয়; বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার বাংলাদেশের জনগণ ও রাষ্ট্রেরই।
মতামত