প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ ও হুমকির অভিযোগে অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় কোনো সত্যতা পায়নি পুলিশ। সম্প্রতি পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জাহাঙ্গীর আলম ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ সংক্রান্ত চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।
মামলার বাদী ফ্যাশন ডিজাইনার আয়েশাহ আনুম ফারযাহ সানায়া চৌধুরী পিবিআইয়ের এই তদন্ত প্রতিবেদনে অসন্তোষ প্রকাশ করে বিজ্ঞ আদালতে নারাজির আবেদন করবেন বলে জানিয়েছেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতউল্লাহর আদালতে প্রতিবেদনটির ওপর শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।
মামলার বিবরণ ও তদন্ত প্রতিবেদনে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর শোরুম থেকে একটি শাড়ি নেওয়ার পর তা ফেরত না দেওয়া ও পরবর্তীতে মেসেঞ্জারে কথা-কাটাকাটি ও হুমকির অভিযোগে ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর তানজিন তিশার বিরুদ্ধে সিএমএম আদালতে মামলাটি করেন সানায়া। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে পিবিআই উল্লেখ করে, বাদী ও বিবাদীর মধ্যে দীর্ঘদিনের পেশাগত ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। তিশার সাবেক ড্রাইভারের মাধ্যমে শাড়িটি নেওয়া হলেও তিশা ভুলবশত বিষয়টি ভুলে যান এবং সাবেক ড্রাইভার তা যথাসময়ে ফেরত দেয়নি। পরবর্তীতে জিডি ও মামলার পর ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ বিবাদী ডাকযোগে শাড়িটি ফেরত পাঠান। এছাড়া তাদের মেসেঞ্জারের কথোপকথন বিশ্লেষণ করে কোনো হুমকি দেওয়ার প্রমাণ মেলেনি; বরং শেষ মেসেজে তিশা বাদীর সুন্দর জীবন কামনা করেছেন। সার্বিক তদন্তে তিশার বিরুদ্ধে প্রতারণা বা বিশ্বাসভঙ্গের অপরাধ প্রমাণিত হয়নি।
প্রতিবেদনের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বাদী সানায়া চৌধুরী বলেন, "আমি হুমকি ও প্রতারণার সব অডিও রেকর্ড ও প্রমাণ পুলিশকে দিয়েছিলাম। কিন্তু অজানা কারণে পিবিআই অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি বলে রিপোর্ট দিয়েছে। আমি ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছি, তাই আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করে এই রিপোর্টের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি আবেদন দেব।"
উল্লেখ্য, ডিবির তদন্তে তিশার বিরুদ্ধে অপর একটি পোশাক সংক্রান্ত মামলার সত্যতা মেলায় এই মামলায় পিবিআইয়ের মিথ্যা রিপোর্ট দেওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এই ফ্যাশন ডিজাইনার।
মতামত