মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩
Bangla FM

পরিবেশ

সিলেটে টানা ২ দিন ধরে প্রচন্ড গরম, তাপমাত্রা ৩৭.৭ ডিগ্রি

সিলেটে টানা ২ দিন ধরে প্রচন্ড গরম, তাপমাত্রা ৩৭.৭ ডিগ্রি

সিলেটে টানা ২ দিন ধরে প্রচন্ড গরম, তাপমাত্রা ৩৭.৭ ডিগিতে তাড়িয়েছে। শরতের নীল আকাশ কাঁপিয়ে নামছে তীব্র দাবদাহ। আশ্বিনের চেনা স্নিগ্ধ রূপ ছাপিয়ে এক অদ্ভুত ও প্রখর তাপপ্রবাহে পুড়ছে চারপাশ। যে ঋতুতে শিউলি ঝরার আর কাশবনের দোলায় মন জুড়ানোর কথা, সেখানে এক অগ্নিকুন্ড যেন গ্রাস করেছে প্রকৃতিকে। এক দিনের বিরতির পর দেশের বিভিন্ন স্থানে আবার তাপপ্রবাহ শুররু হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সিলেট ও শ্রীমঙ্গলসহ দেশের ১৮ জেলায় তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে শ্রীমঙ্গলে। এর আগে চলতি মাসে দুই দফায় তাপপ্রবাহ বয়ে যায়। আবহাওয়ার অফিস অবশ্য বলেছে, আজ মঙ্গলবার থেকে তাপপ্রবাহ কমে আসতে পারে।রাজধানীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যদি কোনো এলাকার তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি  সেলসিয়াস হয়, তবে সেখানে তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে বলে ধরা হয়।যেসব জেলায় তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে সিলেট ৩৬ দশমিক ৫, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ৩৭ দশমিক ৭, টাঙ্গাইল ৩৬ দশমিক ৮, সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ৩৬ দশমিক ৫, ঢাকা ৩৬ দশমিক ৭, পাবনার ঈশ্বরদীতে ৩৬, ফরিদপুর ৩৭, গোপালগঞ্জ ৩৬ দশমিক ২, কিশোরগঞ্জের নিকলী ৩৬, রাজশাহী ৩৬ দশমিক ৫, ময়মনসিংহ ৩৬ দশকি ৪,  নেত্রকোনা ৩৬, সিলেট ৩৬ দশমিক ১, টাঙ্গাইল ৩৬ দশমিক ৮, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ৩৭ দশমিক ৭, খুলনা ৩৭, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ ৩৬, যশোর ৩৬ দশকি ২, চুয়াডাঙ্গা ৩৭, চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ ৩৬ দশমিক ১, ফেনী ৩৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।গত মঙ্গলবার দেশের ২৫ জেলায় তাপপ্রবাহ বয়ে যায়। এর পরদিন ১১ জেলায় তাপপ্রবাহ ছিল। দুই দিনের বিরতির পর শনিবার আবার তাপপ্রবাহ শুরু হয়। তবে রোববার বৃষ্টি বেড়ে গেলে তাপপ্রবাহ কমে যায়। গতকাল আবার তাপপ্রবাহ শুরু হলো। তবে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশিদ বলেন, আজ থেকে তাপপ্রবাহের পরিধি কমে আসতে পারে।আবহাওয়া অধিদপ্তর ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, সাগরে লঘুচাপের সৃষ্টি হয়েছে। এটি সৃষ্টি হয়েছে মূলত উত্তর আন্দামান সাগরে। এটি নিম্নচাপ বা গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে বলে অধিদপ্তরের সূত্রগুলো জানিয়েছে। তবে এটি ভারতের ওডিশা ও অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যের দিকে যেতে পারে। এর প্রভাবে অবশ্য বাংলাদেশের উপকূলে আগামী বুধ বা বৃহস্পতিবার থেকে বৃষ্টি বাড়তে পারে।

আজ বিশ্ব বাঁশ দিবস

বাঁশের বহুমুখী ব্যবহার, পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনা সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা বাড়াতে আজ শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব বাঁশ দিবস’। প্রাকৃতিক ও পরিবেশবান্ধব এই টেকসই উদ্ভিদের প্রসার ঘটাতে এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘সীমানা ছাড়িয়ে বাঁশ’।বাঁশ কেবল গ্রামীণ জীবনের ঐতিহ্যবাহী উপাদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; বর্তমানে আধুনিক আসবাবপত্র, কাগজ শিল্প, অবকাঠামোগত নির্মাণকাজ এবং বৈচিত্র্যময় হস্তশিল্পে এর ব্যবহার প্রতিনিয়ত বাড়ছে।বিশ্ব বাঁশ সংস্থার (World Bamboo Organization) উদ্যোগে প্রতি বছর ১৮ সেপ্টেম্বর এই আন্তর্জাতিক দিবসটি পালিত হয়:২০০৫ সালে সংস্থাটি প্রতিষ্ঠার পর বিশ্বব্যাপী সচেতনতা বৃদ্ধি পায়। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত অষ্টম বিশ্ব বাঁশ কংগ্রেসে ১৮ সেপ্টেম্বরকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বিশ্ব বাঁশ দিবস’ ঘোষণা করা হয়।বাঁশের টেকসই ব্যবহার বৃদ্ধি, পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব ফুটিয়ে তোলা এবং বাঁশভিত্তিক পণ্য ব্যবহারে মানুষকে উৎসাহিত করা।প্রকৃতি ও অর্থনীতি—উভয় ক্ষেত্রেই পরিবেশবান্ধব এই উদ্ভিদের বহুমুখী অবদান রয়েছে:পরিবেশ সুরক্ষা ও কার্বন শোষণ: বাঁশ বিশ্বের অন্যতম দ্রুতবর্ধনশীল উদ্ভিদ। এটি বায়ুমণ্ডল থেকে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।বাঁশকে কেন্দ্র করে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প এবং হস্তশিল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ অঞ্চলে বিপুল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান ও জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা ও প্লাস্টিকের টেকসই বিকল্প তৈরির এই যুগে বাঁশভিত্তিক নতুন শিল্প গড়ে তোলার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

আজ বিশ্ব বাঁশ দিবস

শ্রীমঙ্গলে লামুয়া মেম্বার বাড়ি থেকে বিশাল অজগর উদ্ধার

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে লোকালয়ের একটি বাড়ির আঙিনা থেকে ১৪ ফুট লম্বা একটি অজগর সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) উপজেলার সিরাজনগর লামুয়া এলাকায় কদর আলী মেম্বারের বাড়ির আঙিনায় সাপটি দেখতে পান স্থানীয়রা। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।পরে স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মজিদ বিষয়টি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে জানান। খবর পেয়ে ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অজগরটি অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন। এ সময় চাউতলি বিট কর্মকর্তা সুব্রত সরকারও উপস্থিত ছিলেন।উদ্ধারের পর অজগরটিকে শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে সাপটি হস্তান্তর করা হয়েছে।বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল জানান, শ্রীমঙ্গল ও লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এলাকায় প্রধানত বার্মিজ অজগর যার বৈজ্ঞানিক নাম Python bivittatus,দেখা যায়। এ ছাড়া কিছু ক্ষেত্রে ইন্ডিয়ান রক পাইথন (Python molurus)-ও পাওয়া যায়। শ্রীমঙ্গল ও আশপাশের চা-বাগান ও লোকালয় থেকে বিভিন্ন সময়ে উদ্ধার হওয়া অজগরের দৈর্ঘ্য সাধারণত ১২ থেকে ১৮ ফুট পর্যন্ত হয়ে থাকে।তিনি বলেন,অজগরের শরীরে হালকা বাদামি বা ছাই রঙের ওপর গাঢ় বাদামি কিংবা চকোলেট রঙের বড় বড় ছোপ থাকে। মাথার ওপর তীরের ফলার মতো বা ‘V’ আকৃতির বিশেষ চিহ্নও দেখা যায়। শ্রীমঙ্গলে উদ্ধার হওয়া প্রাপ্তবয়স্ক অজগরের ওজন সাধারণত ১৬ থেকে ৪০ কেজির মধ্যে হয়ে থাকে।পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ বলেন, অজগর মূলত ওত পেতে শিকার করা প্রাণী। শিকারকে কামড়ে ধরে শক্তিশালী শরীর দিয়ে পেঁচিয়ে ধরে শ্বাসরোধ করার পর পুরোটা গিলে খায়। এরা বিষহীন এবং সাধারণত শান্ত প্রকৃতির। প্ররোচিত বা আক্রান্ত না হলে অজগর সাধারণত মানুষকে আক্রমণ করে না।তিনি আরও বলেন,বনাঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট হওয়া এবং খাদ্যের সংকট দেখা দিলে অজগর প্রায়ই চা-বাগান, খামার কিংবা মানুষের বসতবাড়ির আশপাশে চলে আসে। উদ্ধার হওয়া অজগরটির ওজন ২৩ কেজি এবং দৈর্ঘ্য প্রায় ১৪ ফুট।

শ্রীমঙ্গলে লামুয়া মেম্বার বাড়ি থেকে বিশাল অজগর উদ্ধার

কালীগঞ্জে সরকারী সম্পত্তি দখলের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান

গাজীপুরের কালীগঞ্জ সরকারী সম্পত্তি দখলের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচলানা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আল আমিন হালদার। এসময় বেঞ্চ সহকারী মাহবুবুল আলম সঙ্গে ছিলেন।জানা যায়, উপজেলার বালীগাঁও গ্রামের মৃত শরৎ চন্দ্র আচার্য্যরে দুই পুত্র সুরেন্দ্র আচার্য ও সচীন্দ্র আচার্য কালীগঞ্জের বালীগাঁও মৌজার সিএস ৩৫৪, এসএ ৩৮৭নং খতিয়ানের এসএ ৭৭৪, ৭৭৬, ৮৬৪, ৮৬৫, ৮০৬, ৮০৫, ৭৭৭, ৮৮৮, ৮৬৬/১২৭২, ৮৭৭সহ বিভিন্ন দাগে প্রায় ৩২০ শতাংশ সম্পত্তি রেখে ১৯৬৫ সালে স্বপরিবারে ভারতে চলে যান। ভারতে তারা নাগরিকত্ব গ্রহণ করে নদীয়ার হরিণঘাটা থানার মহাদেবপুর গ্রামে সহায় সম্পত্তি কিনে বসবাস শুরু করেন। তারা আর কখনোই বাংলাদেশে ফিরে আসেননি। তাদের রেখে যাওয়া উক্ত সম্পত্তি আরএস রেকর্ডে "বেস্টেড এন্ড নন রেসিডেন্ট প্রপার্টি, ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ সরকার, ঢাকা সদর উত্তর মহকুমা ম্যানেজমেন্ট কমিটি" এর এখতিয়ারভুক্ত হয়। এরশাদ সরকার উক্ত অর্পিত সম্পত্তির একটি অংশে সরকারি খরচে পুকুর খনন করে অপর অংশে আপদকালীন সময়ে জরুরী প্রয়োজনে অবতরণের জন্য হ্যালিপ্যাড নির্মাণ করেন। দীর্ঘদিন ধরে একটি ভূমিদস্যু চক্র জাল জালিয়াতির মাধ্যমে বিভিন্ন কাগজপত্র সৃজন করে উক্ত সম্পত্তি জবরদখলের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। জনস্বার্থে এই সম্পত্তি নিয়ে উচ্চ আদালতে একটি রীট চলমান আছে এবং দূর্ণীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে বালীগাঁও গ্রামের মৃত স্বর্ণকমল আচার্যের পুত্র সুমন আচার্য্য স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তিকে সাথে নিয়ে সরকারি সম্পত্তি থেকে বিভিন্ন গাছপালা ও পুকুর থেকে এস্কেভেটর দিয়ে মাটি কাটা শুরু করে। খবর পেয়ে ভ্রাম্যমান আদালত ঘটনাস্থল থেকে এস্বেকভেটরটি জব্দ করে ব্যাটারী খুলে নিয়ে আসে।

কালীগঞ্জে সরকারী সম্পত্তি দখলের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান

রাঙামাটিতে লোকালয় থেকে অজগর সাপ উদ্ধার

রাঙামাটি জেলা সদরের একটি লোকালয় থেকে উদ্ধার করা ৯ ফুট দৈর্ঘ্যের এবং প্রায় ৮ কেজি ওজনের একটি অজগর সাপ কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানের সংরক্ষিত গভীর বনে অবমুক্ত করা হয়েছে।সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টার দিকে কাপ্তাই রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মামুনুর রহমানের উপস্থিতিতে সাপটি নিরাপদে প্রকৃতিতে ছেড়ে দেওয়া হয়।এর আগে সোমবার সকালে পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের ফরেষ্টার মো. শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে বনকর্মীদের একটি দল রাঙামাটি সদর হাসপাতাল এলাকা থেকে অজগরটি উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়। পরে সেটিকে কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানের প্রাকৃতিক আবাসে অবমুক্ত করা হয়।অজগর অবমুক্ত করার সময় কাপ্তাই বন রেঞ্জের বিভিন্ন বিট কর্মকর্তা ও বন বিভাগের অন্যান্য কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

রাঙামাটিতে লোকালয় থেকে  অজগর সাপ উদ্ধার

মহাবিপন্ন প্রাণী লজ্জাবতী বানর

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান বাংলাদেশের বাংলা লজ্জাবতী বানরের অন্যতম প্রধান প্রাকৃতিক আবাসস্থল ও উদ্ধারকৃত বন্যপ্রাণী অবমুক্তকরণের কেন্দ্র।লজ্জাবতী বানর আসলে বানর নয়।এটা হলো *Slow Loris* বা *লজ্জাবতী লেমুর*। বাংলায় এটাকে লজ্জাবতী বানরই বলে সবাই। তবে  গবেষণায় দেখা গেছে, যথাযথ আবাসস্থল ও খাদ্য নিশ্চিত না করে হঠাৎ বনে অবমুক্ত করা হলে এদের বেঁচে থাকার হার বেশ কম।  অন্য লজ্জাবতী বানরের আক্রমণে এবং উপযুক্ত বাসস্থান না পাওয়ায়  ২০২২ -২০২৩ সালে লাউয়াছড়ায় ছাড়া ৯ টার মধ্যে ৭ টা লজ্জাবতী বানরই মারা গেছে।আর সড়ক ও রেলে কাটা পড়েও মারা যাচ্ছে।  ২০১৭ সালে শুধু ৬ মাসেই ৫ টি লজ্জাবতী বানরের মৃত্যুর রেকর্ড আছে লাউয়াছড়ায়। ২০২২ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে  ৯টি লজ্জাবতী বানরকে জাতীয় উদ্যান লাউয়াছড়া বনে অবমুক্ত করা হয়েছিল । এর মধ্যে ৫টিকে জানকিছড়া এলাকার কাছাকাছি এবং বাকি ৪টিকে অন্য স্থানে ছাড়া হয়েছিল। গবেষকেরা প্রতিটি বানরের গলায় রেডিও কলার পরিয়ে আট মাস ধরে মোট ১৩৮ রাত তাদের অবস্থান ও আচরণ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন।পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, অবমুক্ত করার মাত্র ১০ দিনের মধ্যে ৩টি বানর মারা যায়। অন্য ৪টি বানর এক মাসের বেশি সময় বেঁচে থাকলেও শেষ পর্যন্ত রক্ষা পায়নি। এর মধ্যে ‘অনু’ নামের একটি পুরুষ বানর ১৭৯ দিন টিকে থাকার পর অন্য বানরের সঙ্গে সংঘর্ষে মারা যায়। কেবল ‘ডারউইন’ ও ‘নিশাত’ নামের দুটি লজ্জাবতী বানর ছয় মাসের বেশি সময় টিকে থাকতে সক্ষম হয়েছিল। মারা যাওয়া ৭টি বানরের মধ্যে ৪টির দেহ পরীক্ষার উপযোগী অবস্থায় পাওয়া যায় এবং তাদের মাথা, মুখ ও আঙুলে অন্য লজ্জাবতী বানরের কামড় ও আক্রমণের ক্ষতচিহ্ন ছিল। বাকি ৩টির দেহ পচে যাওয়ায় মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ ফিরোজ জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘যত্রতত্র প্রাণী ছেড়ে দেওয়া ঠিক নয়। এ জন্য নির্দিষ্ট প্রটোকল আছে; কিন্তু সেগুলো মেনে চলার ক্ষেত্রে আমাদের ঘাটতি থাকে।'বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) নেটওয়ার্ক সদস্য নুরুল মুহাইমিন মিল্টন বলেন, পুরনো গাছ অবৈধভাবে কাটার ফলে খাদ্যের উৎস আরও সংকুচিত হয়েছে। ফলে লজ্জাবতী বানরেরা তাদের আবাসস্থল ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে এবং এদের বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার মতো বিপদের ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে।মানুষ দেখলে মুখ হাত দিয়ে ঢেকে ফেলে, লজ্জা পাওয়ার মতো ভাব করে - এজন্য লজ্জাবতী বানর নাম হয়েছে। আসলে এরা ভয় পেয়ে এমন করে।নিশাচর প্রাণী লজ্জাবতীর  ওজন: ১ থেকে ২ কেজি হয় বলে জানা যায়। এদের বড় বড় গোল চোখ, দেখতে খুব মায়াবী,লোম ঘন,ধূসর-বাদামি বর্ণ,লেজ খুব ছোট, প্রায় নেই বললেই চলে, হাত-পা শক্ত, গাছ আঁকড়ে ধরতে পারে।খুব ছোট, বিড়ালের বাচ্চার মতো, লোমশ, দুইটা বড় মার্বেলের মতো চোখ - রাতের বেলায় টর্চের আলোতে জ্বলজ্বল করে। গাছের ডালে আস্তে আস্তে হাঁটে।তাদের প্রশস্ত চোখ, মৃদু নড়াচড়া এবং শান্ত আচরণের সাথে, ধীর লরিসগুলিকে আদর্শ পোষা প্রাণী হিসাবে সহজেই ভুল করা হয়। কিন্তু এই বিপন্ন প্রাইমেটরা বন্য, বিষাক্ত এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল, বন্দিত্বের জন্য সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত। ক'বছর আগে  আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকী গ্লোবাল ইকোলজি অ্যান্ড কনজারভেশন-এ  প্রকাশিত একটি গবেষণায় জানা গেছে, বাংলাদেশী গবেষক হাসান আল-রাজীর ২ বছরের জরিপ অনুযায়ী :লাউয়াছড়ায়: ২৩ টি,সাতছড়িতে: ৩৩ টি, রেমা-কালেঙ্গায়: ৮ টি ও আদমপুরে: ৪ টি লজ্জাবতী বানর ছিলো। গবেষণার নেতৃত্বে ছিলেন বাংলাদেশের গবেষক হাসান আল-রাজি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দেশি–বিদেশি আরও ১০ গবেষক। গবেষণায় বন বিভাগসহ বাংলাদেশ, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান যুক্ত ছিল। এদেশের একমাত্র নিশাচর বানর গোত্রীয় প্রাণী  'Bengal slow loris বা লজ্জাবতী বানর আমাদের জীব বৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মহাবিপন্ন এ প্রার  ও এর আবাসস্থল সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরী। এ বিষয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ   ও  সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে  ২০২২ সাল থেকে বাংলাদেশে ২০২২ সাল থেকে লজ্জাবতী বানর সংরক্ষণে কাজ করছে জার্মানভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা প্লামপ্লরিস ইভি। সেই থেকে এ পর্যন্ত বিভিন্ন স্থান থেকে ২৩টি লজ্জাবতী বানর উদ্ধার করে জানকীছড়া বন্য প্রাণী রেসকিউ সেন্টারে নিয়ে আসা হয়েছে। সংস্থার লোকজন এই প্রাণীদের দেখাশোনা, চিকিৎসা, সেবা-শুশ্রূষা ও খাবারদাবারের বিষয়টি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন। এই ২৩টির মধ্যে ১৫টি লজ্জাবতী বানরকে এরই মধ্যে মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে অবমুক্ত করা হয়েছে। বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সহযোগিতায় প্লামপ্লরিস ইভি প্রথমটি অবমুক্ত করেছে ২০২২ সালের ১০ মার্চ।  এ সংস্থাটি  দ্বায়িতশীল ইকো-ট্যুরিজমের উপরও প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। চিরহরিৎ বন লাউয়াছড়া,সাতছড়ি, রেমা-কালেঙ্গায় আবারও দেখা মিলবে লাজুক  লজ্জাবতী বানরের।

মহাবিপন্ন প্রাণী লজ্জাবতী বানর

পরিবেশ রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান নীলফামারীতে

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারি প্রতিষ্ঠান, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম এবং সাধারণ জনগণের সম্মিলিত ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বক্তারা। তাঁদের মতে, শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ বন্ধ করা সম্ভব নয়; পাশাপাশি মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি এবং পরিবেশবান্ধব আচরণ নিশ্চিত করাও জরুরি।শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় নীলফামারী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত পরিবেশবিষয়ক জনসচেতনতামূলক কর্মসূচিতে বক্তারা এসব কথা বলেন।বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে পরিবেশ অধিদপ্তর বাস্তবায়িত ‘মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট উইং-এর সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ ও মান উন্নয়ন এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণ’ প্রকল্পের আওতায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান। এতে সভাপতিত্ব করেন নীলফামারীর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান।কর্মসূচিতে প্রকল্প পরিচালক ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সদর দপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট শাখার উপপরিচালক সৈয়দ আহম্মদ কবির এবং পরিবেশ অধিদপ্তর, রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক নুর আলম উপস্থিত ছিলেন।এ সময় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের পাশাপাশি জুট মিল, ইটভাটা, হাসপাতাল, টেক্সটাইল মিলসহ বিভিন্ন শিল্প ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা অংশ নেন।আলোচনায় শিল্পকারখানায় পরিবেশবিষয়ক আইন ও বিধিমালা মেনে চলা, বায়ু-পানি দূষণ কমানো, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিক করা এবং পরিবেশবান্ধব কার্যক্রম বাড়ানোর বিভিন্ন দিক উঠে আসে। শিল্প ও প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে পরিবেশগত ছাড়পত্র গ্রহণ, নির্ধারিত পরিবেশগত মান বজায় রাখা এবং দূষণ সৃষ্টিকারী কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।বক্তারা বলেন, অপরিকল্পিত শিল্পায়ন, অনিয়ন্ত্রিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং বায়ু ও পানিদূষণের মতো নানা কারণে পরিবেশ ক্রমেই হুমকির মুখে পড়ছে। তাই বিদ্যমান আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়নের পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে আরও সচেতন হতে হবে।তাঁরা গণমাধ্যমকে পরিবেশবিষয়ক তথ্য ও সচেতনতামূলক বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে সহজভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানান।বক্তাদের মতে, পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু পরিবেশ অধিদপ্তর বা সরকারের কোনো নির্দিষ্ট বিভাগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সরকারি সংস্থা, শিল্পোদ্যোক্তা, গণমাধ্যম, স্থানীয় জনগণ এবং অন্যান্য অংশীজন একসঙ্গে কাজ করলেই দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিবেশের মান উন্নয়ন সম্ভব।সভায় নীলফামারীর পরিবেশগত সমস্যা মোকাবিলায় নিয়মিত তদারকি, প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা এবং জনগণের অংশগ্রহণ আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

পরিবেশ রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান নীলফামারীতে

সাতক্ষীরায় ১৮ ফুট লম্বা অজগর সাপ উদ্ধার

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে সুন্দরবন থেকে খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে ডুকে পড়া বিশাল আকৃতির একটি অজগর সাপ উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। বুধবার(২ সেপ্টেম্বর) সকালে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের আতিয়ার রহমানের ছেলে মুক্তার গাজীর বাড়ির হাঁস-মুরগির ঘর থেকে প্রায় ১৮ ফুট লম্বা এই অজগরটি উদ্ধার করা হয়।স্থানীয়রা জানান, সকালে প্রতিদিনের মতো মুক্তার গাজী হাঁস-মুরগির ঘরের দরজা খুলে দেন। এ সময় দুটি হাঁস ও একটি মুরগি ঘর থেকে বের হয়ে এলেও অন্য হাঁস-মুরগিগুলো বের হচ্ছিল না। বিষয়টি দেখতে মুক্তার গাজীর স্ত্রী ঘরের ভেতরে উঁকি দেন। তখনই তিনি বিশাল আকৃতির অজগর সাপটি দেখতে পান। ভয় পেয়ে ঘটনাস্থলেই তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।মুক্তার গাজী জানান, হাঁস-মুরগিগুলো ঘর থেকে বের না হওয়ায় তাঁর স্ত্রী ঘরের ভেতরে দেখতে যান। ঘরে এতো বড় অজগর দেখে আমার স্ত্রী ভয় পেয়ে জ্ঞান হারান। পরে বিষয়টি বন বিভাগকে জানানো হয়।খবর পেয়ে কমিউনিটি পেট্রোলিং গ্রুপের (সিপিজি) সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সিপিজির সদস্য আবুল হোসেন জানান, তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পর বন বিভাগকে বিষয়টি অবহিত করেন। পরে বন বিভাগের সদস্যরা এসে অজগরটি উদ্ধার করেন।বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা এরফান উদ্দীন বলেন, অজগরটি খাবারের সন্ধানে সুন্দরবন থেকে লোকালয়ে চলে আসতে পারে। উদ্ধার করা অজগরটি সুন্দরবনের গভীরে নিরাপদ স্থানে অবমুক্ত করা হবে।স্থানীয়দের ধারণা, সুন্দরবনের কাছাকাছি হওয়ায় খাবারের সন্ধানে মাঝেমধ্যে বিভিন্ন বন্যপ্রাণী লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। তবে হাঁস-মুরগির ঘর থেকে এত বড় অজগর উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

সাতক্ষীরায় ১৮ ফুট লম্বা অজগর সাপ উদ্ধার

মাটির নিচে শূন্যতা, বদলে যাচ্ছে বরিশালের মানচিত্র

নদী-খালবেষ্টিত বরিশাল নগরী একসময় পরিচিত ছিল ‘প্রাচ্যের ভেনিস’ নামে। সেই নগরীর মাটিই এখন ধীরে ধীরে নিচে নেমে যাচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, বরিশাল শহরের ভূমি প্রতিবছর গড়ে ১ দশমিক ৬৬ মিলিমিটার করে দেবে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও এ হার আরও বেশি।গবেষকদের আশঙ্কা, এ প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আগামী ৫০ থেকে ১০০ বছরে জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও বন্যা-জলাবদ্ধতার সম্মিলিত প্রভাবে নগরীর বিস্তীর্ণ এলাকা বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।বাংলাদেশ ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর (জিএসবি) ও জার্মানির ফেডারেল ইনস্টিটিউট ফর জিওসাইন্স অ্যান্ড ন্যাচারাল রিসোর্সেসের (বিজিআর) যৌথ গবেষণায় এ চিত্র উঠে এসেছে। জার্মান উন্নয়ন সহযোগিতার আওতায় পরিচালিত এ গবেষণায় অর্থায়ন করেছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)।২০১৪ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত স্যাটেলাইট তথ্য, ভূগর্ভস্থ মাটির নমুনা এবং বিভিন্ন স্থাপনার উল্লম্ব গতিবিধি বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা বরিশালের ভূমির পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করেন।গবেষণায় কোনো কোনো বছরে ভূমি দেবে যাওয়ার হার ২৪ দশমিক ১৭ মিলিমিটার পর্যন্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। বিপরীতে বছরে গড়ে ৫ দশমিক ৬৩ মিলিমিটার ভূমি উঁচু হওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে। তবে গবেষকদের মতে, এই উঁচু হওয়ার বিষয়টি প্রাকৃতিক পরিবর্তন নয়; নিচু এলাকা ভরাট ও মাটি ফেলার মতো মানবসৃষ্ট কর্মকাণ্ডের কারণে এমনটি হয়েছে।গবেষণার সময় নগরীর বৌদ্ধপাড়া, বিএম কলেজ, বটতলা ও করিম কুটির এলাকায় কয়েকটি ভবনের অস্বাভাবিক উল্লম্ব বিচ্যুতি শনাক্ত করা হয়। নতুন নির্মিত একটি বহুতল ভবনের সামনের দিকে হেলে পড়ার প্রমাণও পাওয়া যায়।গবেষকদের মতে, এসব ঘটনা ভূগর্ভস্থ মাটির স্তর দুর্বল হয়ে যাওয়া ও ধসে পড়ার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। নগরীতে অপরিকল্পিতভাবে বহুতল ভবন নির্মাণের পাশাপাশি এসব ভবনের অতিরিক্ত চাপও ভূমির স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলছে।বরিশালের মাটির নিচের স্তর মূলত নরম পলিমাটিতে গঠিত। ফলে ভারী স্থাপনা নির্মাণ, পর্যাপ্ত ভূতাত্ত্বিক ও প্রকৌশলগত পরীক্ষা ছাড়া ভবন নির্মাণ এবং ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত উত্তোলন দীর্ঘমেয়াদে ভূমির স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।ভূমি দেবে যাওয়ার সঙ্গে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ ইমরান বলেন, নিরাপদ পানি সরবরাহের জন্য এখন আগের তুলনায় অনেক গভীরে পাইপ বসাতে হচ্ছে। এতে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হচ্ছে।কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী রবিউল ইসলামও বলেন, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমেই নিচে নামছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, নগরীতে জনসংখ্যা ও স্থাপনা বাড়ার সঙ্গে পানির চাহিদাও বাড়ছে। ফলে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে পানি উত্তোলন চলতে থাকলে মাটির নিচের বিভিন্ন স্তরে চাপের ভারসাম্য পরিবর্তিত হতে পারে। এতে ভূমি দেবে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।শুধু ভূমি দেবে যাওয়া নয়, বরিশালের জন্য জলবায়ু পরিবর্তনও বড় উদ্বেগের বিষয়। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে নদী-খালবেষ্টিত এই নগরের প্লাবন ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।বিশুদ্ধ পানির সংকটের বিষয়টি তুলে ধরে ডা. মিজানুর রহমান বলেন, ভবিষ্যতে নিরাপদ পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।পরিবেশ ফেলো মুরাদ আহম্মেদ বলেন, বরিশালের মতো নিচু ও নদীবেষ্টিত নগরীতে দীর্ঘমেয়াদি প্লাবনের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে এখনই পরিকল্পনা করতে হবে।জিএসবির উপপরিচালক মোহাম্মদ আনিসুর রহমান বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমাতে হবে। পাশাপাশি বিকল্প পানির উৎস ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানো, পরিবেশবান্ধব নগর পরিকল্পনা এবং টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি।বরিশাল নগরীর ভূমির এই ধীর পরিবর্তন হয়তো খালি চোখে প্রতিদিন বোঝা যায় না। কিন্তু গবেষণার তথ্য বলছে, মাটির নিচে পরিবর্তন শুরু হয়েছে। নদী-খালের শহর বরিশালের ভবিষ্যৎ নিরাপদ রাখতে তাই নগর উন্নয়ন, ভবন নির্মাণ ও পানি ব্যবস্থাপনায় এখনই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়ার প্রয়োজন।

মাটির নিচে শূন্যতা, বদলে যাচ্ছে বরিশালের মানচিত্র

শ্রীমঙ্গলে বিরল ‘সাইবোল্ড’স ওয়াটার স্নেক’ উদ্ধার

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বাংলাদেশে অত্যন্ত দুর্লভ ‘সাইবোল্ড’স ওয়াটার স্নেক’ বা ‘সাইবোল্ডের পান্না সাপ’-এর একটি বাচ্চা উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) উপজেলার সিন্দুরখান ইউনিয়নের কুঞ্জবন এলাকায় সাপটির সন্ধান পান স্থানীয় বাসিন্দারা।স্থানীয় লোকজন সাপটি দেখে আতঙ্কিত হয়ে সেটিকে আটক করে নিরাপদ স্থানে রাখেন। পরে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একরামুল কবীর বিষয়টি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে জানান। খবর পেয়ে ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে গিয়ে সাপটি উদ্ধার করেন।সাপটির পরিচয় নিশ্চিত করতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান,মনিরুল খান এবং বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক আদনান আজাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ ও অনুসন্ধানের পর সাপটিকে ‘সাইবোল্ড’স ওয়াটার স্নেক’ বলে শনাক্ত করা হয়।বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক আদনান আজাদ জানান,সাইবোল্ড’স ওয়াটার স্নেকের বৈজ্ঞানিক নাম Ferania sieboldii। এটি হোমালপসিডে (Homalopsidae) পরিবারের একটি অত্যন্ত দুর্লভ জলচর সাপ। বাংলাদেশে খুব কমই এ প্রজাতির দেখা মেলে। দেশের বিভিন্ন জলাভূমি অঞ্চলে বিচ্ছিন্নভাবে এর উপস্থিতির তথ্য পাওয়া গেছে।তিনি বলেন,সাপটি মূলত গোধূলি ও সন্ধ্যার সময় বেশি সক্রিয় থাকে। দিনের বেলা জলাশয়ের তলদেশের কাদা বা মাটির নিচে শরীর লুকিয়ে রাখতে পারে। এদের শরীর তুলনামূলক মোটা এবং পিঠে কালচে বা ধূসর-বাদামি রঙের বড় বড় ছোপ থাকে। জলজ পরিবেশে অভিযোজিত এই সাপের নাসারন্ধ্র মাথার ওপরের দিকে অবস্থান করে।আদনান আজাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাইবোল্ড’স ওয়াটার স্নেক প্রধানত ছোট মাছ ও ব্যাঙসহ বিভিন্ন উভচর প্রাণী খেয়ে থাকে। এটি পেছনের দাঁতে অল্প বিষযুক্ত, অর্থাৎ মৃদু বিষধর সাপ। সাধারণত মানুষের জন্য এটি মারাত্মক বিপজ্জনক নয়। তবে বিরক্ত বা হুমকি মনে করলে আত্মরক্ষার্থে কামড়ানোর চেষ্টা করতে পারে। তাই এ ধরনের সাপ দেখলে না ধরার এবং নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল জানান, শ্রীমঙ্গল থেকে উদ্ধার করা সাপটি বর্তমানে গবেষণার উদ্দেশ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগে পাঠানো হয়েছে। সেখানে এর স্থানীয় আচরণ,বিস্তৃতি ও জিনগত বৈশিষ্ট্য নিয়ে আরও গবেষণা করা হবে।পরে উদ্ধার করা সাপটি শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান,বিরল এই প্রজাতির সাপ সংরক্ষণে স্থানীয় মানুষের সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। কোনো সাপ দেখতে পেলে আতঙ্কিত হয়ে হত্যা বা ধরে ফেলার পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট বন বিভাগ বা বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী সংগঠনকে খবর দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

শ্রীমঙ্গলে বিরল ‘সাইবোল্ড’স ওয়াটার স্নেক’ উদ্ধার

শ্রীমঙ্গলে আহত উল্টোলেজি বানর উদ্ধার

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বৈদ্যুতিক তারে স্পৃষ্ট হয়ে আহত একটি বিরল প্রজাতির উল্টোলেজি বানর (পিগ-টেইলড ম্যাকাক) উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার শ্যামলী আবাসিক এলাকা থেকে বানরটিকে উদ্ধার করেন স্থানীয় বন্যপ্রাণীপ্রেমীরা।স্থানীয় বাসিন্দা ও বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা যায়,দুপুরে শ্যামলী আবাসিক এলাকায় একটি বানর বৈদ্যুতিক তারে স্পৃষ্ট হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। বিষয়টি দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা দ্রুত বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে খবর দেন।খবর পেয়ে ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল,সঞ্জিত দেব ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত বানরটিকে উদ্ধার করেন। পরে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য সেটিকে শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল বলেন, শ্রীমঙ্গল ও আশপাশের বনাঞ্চল ক্রমে সংকুচিত হওয়া এবং খাদ্যসংকটের কারণে বন্যপ্রাণীরা প্রায়ই লোকালয়ে চলে আসছে। এতে লোকালয়ে আসার পথে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় আহত বা নিহত হচ্ছে তারা।তিনি বলেন,স্থানীয়রা সচেতন হয়ে দ্রুত খবর দেওয়ায় বানরটিকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।স্বপন দেব সজল আরও বলেন, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে বর্তমানে উল্টোলেজি বানরের মাত্র কয়েকটি ছোট দল বা ‘ট্রুপ’ অবশিষ্ট রয়েছে। পুরুষ,স্ত্রী ও বাচ্চা মিলিয়ে সাধারণত প্রতিটি দলে ২০ থেকে ২৫টি বানর থাকে। বনের ভেতর দিয়ে যাওয়া রেললাইন ও সড়ক, খাদ্যসংকট এবং শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের সীমান্তবর্তী লোকালয়ে বৈদ্যুতিক তারে স্পৃষ্ট হওয়ার মতো ঘটনায় এদের সংখ্যা দিন দিন কমছে।সঞ্জিত দেব জানান,উল্টোলেজি বানর ম্যাকাক গণের একটি প্রজাতি। এরা কুলু বান্দর,শুকরলেজি বানর,ছোটলেজি বানর,উলু বান্দর, সিংহ বানর ও সিঙ্গা বানর নামেও পরিচিত। সাধারণত নিচু এলাকার প্রাথমিক ও মাঝারি ধরনের বন,উপকূলীয় এলাকা, জলাভূমি ও পাহাড়ি বনে এদের দেখা যায়। বাংলাদেশে মূলত সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের মিশ্র চিরসবুজ বনে এদের আবাস।তিনি বলেন,উল্টোলেজি বানরের দেহের দৈর্ঘ্য সাধারণত ৪০ থেকে ৬০ সেন্টিমিটার এবং লেজ ১৮ থেকে ২৫ সেন্টিমিটার। ওজন প্রায় সাড়ে ৪ থেকে ১২ কেজি। শূকরের মতো ছোট লেজটি ওপরের দিকে বাঁকানো থাকে। এরা দিবাচর এবং বৃক্ষ ও ভূমি উভয় পরিবেশে চলাফেরা করে। ফল, মূল, কচি পাতা,কুঁড়ি,কীটপতঙ্গ,কাঁকড়া ও বিভিন্ন ছোট প্রাণী এদের প্রধান খাবার। খাদ্যসংকটে কখনো কখনো শস্যখেতেও ঢুকে পড়ে।পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব বলেন, আবাসস্থল ধ্বংস,খাদ্যসংকট,সড়ক ও রেলপথে দুর্ঘটনা এবং বৈদ্যুতিক তারে স্পৃষ্ট হওয়ার মতো নানা কারণে বাংলাদেশে উল্টোলেজি বানরের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন) প্রজাতিটিকে ‘সংকটাপন্ন’ (Vulnerable) হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। বাংলাদেশেও এটি সংরক্ষিত বন্যপ্রাণী হিসেবে বিবেচিত।তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে মূলত লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও পার্বত্য চট্টগ্রামের গভীর বনাঞ্চলে উল্টোলেজি বানরের দেখা মেলে। তবে মৌলভীবাজারে এ প্রজাতির সুনির্দিষ্ট মোট সংখ্যা নিয়ে কোনো নির্ভুল প্রাতিষ্ঠানিক পরিসংখ্যান নেই। বন্যপ্রাণী গবেষক ও সংশ্লিষ্টদের মতে, জেলাটিতে এদের সংখ্যা অত্যন্ত কম এবং প্রজাতিটি তীব্র ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।বন্যপ্রাণীপ্রেমীরা বলছেন,বনাঞ্চল ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল রক্ষা,লোকালয়ে বৈদ্যুতিক তার নিরাপদ করা এবং বন্যপ্রাণী দেখলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর মাধ্যমে এ ধরনের দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব।

শ্রীমঙ্গলে আহত উল্টোলেজি বানর উদ্ধার

কাপ্তাইয়ে লোকালয় থেকে উদ্ধার হওয়া ১০ ফুট দৈর্ঘ্যের অজগর বনে অবমুক্ত

রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে লোকালয় থেকে উদ্ধার হওয়া প্রায় ১০ ফুট দীর্ঘ একটি অজগর সাপ কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে অবমুক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বেলা ২টায় বন বিভাগের কাপ্তাই রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মামুনুর রহমানের উপস্থিতিতে সাপটিকে নিরাপদে বন্যপ্রকৃতিতে ছেড়ে দেওয়া হয়।​বন বিভাগ সূত্রে জানা যায় গতকাল সোমবার (১৭ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে কাপ্তাইয়ের চন্দ্রঘোনা কেপিএম (কর্ণফুলী পেপার মিলস) আবাসিক এলাকার এ ব্লকের একটি কলাবাগান থেকে সাপটি উদ্ধার করা হয়। কেপিএমের নিরাপত্তা প্রহরী মো. ইসমাইল হোসেনের বাসার পাশের ওই বাগান থেকে স্থানীয় এলাকাবাসী ও ‘ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড স্নেক রেসকিউ টিম ইন বাংলাদেশ’-এর সদস্যরা যৌথভাবে অজগরটি উদ্ধার করেন।কাপ্তাই রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মামুনুর রহমান জানান, উদ্ধারকৃত অজগরটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১০ ফুট এবং ওজন প্রায় ৯ কেজি। সাপটি সম্পূর্ণ সুস্থ থাকায় কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানের সীতার পাহাড় এলাকায় এটিকে অবমুক্ত করা হয়েছে।এ সময় অন্যান্যের মধ্যে রাম পাহাড় বন বিটের কর্মকর্তা মিঠু তালুকদার, ‘ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড স্নেক রেসকিউ টিম ইন বাংলাদেশ’-এর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ইমরান হোসেন ইমন এবং সাপটি উদ্ধারকাজে সহায়তাকারী কেপিএমের কর্মচারী মো. আবুল হাসেম উপস্থিত ছিলেন।

কাপ্তাইয়ে লোকালয় থেকে উদ্ধার হওয়া ১০ ফুট দৈর্ঘ্যের অজগর বনে অবমুক্ত

জামালপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় বিচারপতি নিহত

জামালপুর-ময়মনসিংহ সড়কের লাহিড়ীকান্দা এলাকায় সোমবার (১০ আগস্ট) ভোররাতে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন একজন সহকারী জজ। ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা রডবোঝাই একটি ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দেয় একটি প্রাইভেটকার, যাতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় গাড়িতে থাকা একেএম ছামিউল হকের (২৭)।নিহত ছামিউল হক জামালপুর জজ আদালতের অধীন ইসলামপুর উপজেলার সহকারী জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁর বাড়ি নেত্রকোনা সদর উপজেলার সাতপাই ছেটগাড়া গ্রামে; তিনি একেএম ফজলুল হকের ছেলে।দুর্ঘটনার সময় প্রাইভেটকারটি চালাচ্ছিলেন ইদ্রিস আলী (৪৬), যিনি এতে গুরুতর আহত হয়েছেন। জানা গেছে, ছামিউল হক ঢাকার লালমাটিয়া থেকে ওই গাড়িতে করে জামালপুরে ফিরছিলেন। যাত্রাপথে লাহিড়ীকান্দা এলাকায় পৌঁছালে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি রডবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে পেছন থেকে ধাক্কা লাগে গাড়িটির।পুলিশের প্রাথমিক তথ্যমতে, দুর্ঘটনার নেপথ্যে ছিল একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটি— ট্রাকটির একটি চাকা পাংচার হয়ে যাওয়ায় চালক ও হেলপার সেটিকে সড়কের ওপরই রেখে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। এমন অবস্থাতেই পেছন থেকে ছুটে আসা প্রাইভেটকারটি সজোরে ধাক্কা মারে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে।জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেন। আহত চালক ইদ্রিস আলীকে চিকিৎসার জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জামালপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় বিচারপতি নিহত

সিলেট জুড়ে বিষধর সাপের আশ্রয় জঙ্গল ছেড়ে লোকালয়ে

 সিলেট বিভাগ জুড়ে বিষধর সাপ গুলো জঙ্গল ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খুঁজে লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। সিলেট বিভাগের সবচেয়ে বেশি সাপ গুলো মৌলভীবাজারে পাহাড়গুলোতে ঝুকি বাড়ছে বলে জানা গেছে। এদিকে হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, সিলেট জেলার বেশ কয়েকটি উপজেলায় পাহাড়ি এলাকা থাকায় এমন দৃশ্যও চোখে পড়ছে প্রতিদিন স্যোশাল মিডিয়ায়। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে অবস্থিত লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য। একসময় যেখানে গভীর বনের ভেতরে সীমাবদ্ধ ছিল অজগরের বিচরণ, এখন সেই বিশালাকৃতির সাপ নিয়মিত দেখা যাচ্ছে মানুষের বাড়ির আঙিনা, হাঁস-মুরগির খামার, বাঁশঝাড়, চা-বাগান, এমনকি হাইল হাওড়ের আশপাশেও। স্থানীয়দের ভাষ্য, ১২ থেকে ১৮ ফুট দীর্ঘ অজগরের এমন ঘন ঘন উপস্থিতি শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের বনসংলগ্ন গ্রামগুলোতে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি করেছে।তবে বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই আতঙ্কের পেছনে দায়ী মূলত বন ধ্বংস, খাদ্যসংকট ও প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংকুচিত হওয়ার মতো মানবসৃষ্ট কারণ। বনের বাসিন্দারা বাধ্য হয়েই আশ্রয় ও খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ের দিকে চলে আসছে।দুই মাসেই উদ্ধার ১০ অজগর: বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন, বন বিভাগ ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, শুধু জুন ও জুলাইর এই দুই মাসেই মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে অন্তত ১০টি অজগর উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সাপ গুলোর দৈর্ঘ্য ছিল ১২ থেকে ১৮ফুট এবং ওজন ২০ থেকে ৩০ কেজি পর্যন্ত।তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন এলাকা থেকে চারটি অজগর উদ্ধার করা হয়। এরপর ৯ জুলাই ভূরভূড়িছড়া চা-বাগান থেকে একটি, ১৬ জুলাই ভাড়াউড়া চা-বাগান ও সিন্দুরখান এলাকা থেকে পৃথক ভাবে দুটি, ২১ জুলাই উত্তর ভাড়াউড়া এলাকা থেকে একটি এবং ২৮ জুলাই কমলগঞ্জের ফুলবাড়ী চা-বাগান ও শ্রীমঙ্গলের জাগছড়া চা-বাগান থেকে আরও দুটি অজগর উদ্ধার করা হয়।প্রতিটি ঘটনার পর স্থানীয় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে বন বিভাগ ও বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের উদ্ধারকর্মীরা সাপ গুলো উদ্ধার করে পুণরায় সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অবমুক্ত করেন।ভেঙে পড়ছে বনের খাদ্যশৃঙ্খল :  ক্রিয়েটিভ কনজারভেশন অ্যালায়েন্সের স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য চঞ্চল গোয়ালা বলেন, একসময় বনের হরিণ বা ছোট ছোট বন্যপ্রাণী লোকালয়ের আশপাশে দেখা যেত। এখন সেই দৃশ্য প্রায় হারিয়ে গেছে। হরিণের দেখা মেলাই কঠিন, অথচ প্রায়ই লোকালয়ে চলে আসছে বিশাল অজগর।তিনি বলেন, “বনের খাদ্যশৃঙ্খল ভেঙে পড়ছে। অজগর এখন খামারের হাঁস-মুরগি কিংবা গৃহপালিত প্রাণী সহজ শিকার হিসেবে পাচ্ছে। ফলে গ্রামবাসী সবসময় আতঙ্কে থাকেন।স্থানীয়দের অভিযোগ, বন উজাড়, ফলদ গাছ কমে যাওয়া এবং গাছের কোটর ও ছড়ার পাশের প্রাকৃতিক গর্ত নষ্ট হওয়ার কারণে অজগরের নিরাপদ আবাসস্থল দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে।পরিবেশগত ভারসাম্য হারাচ্ছে বন:  সিলেট বিভাগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংরক্ষিত বনাঞ্চল গুলোর একটি লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, জীববৈচিত্র্য ও বিরল বন্যপ্রাণীর কারণে এটি দেশ-বিদেশের পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। উন্নত  যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে অধিকাংশ পর্যটক শ্রীমঙ্গল হয়ে কমলগঞ্জের লাউয়াছড়ায় প্রবেশ করেন।কিন্তু স্বাধীনতার পর গত পাঁচ দশকে বনটির আয়তন ও পরিবেশ গত ভারসাম্য নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। পরিবেশকর্মীদের অভিযোগ, সংঘবদ্ধ প্রভাবশালী গোষ্ঠীর দখল, অবৈধ জনবসতি, বিভিন্ন বাণিজ্যিক বাগান সম্প্রসারণ এবং মূল্যবান বৃক্ষ নিধনের কারণে বনাঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ও খাদ্যের ওপর।সড়ক ও রেলপথও বাড়াচ্ছে ঝুঁকি:  লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভেতর দিয়েই শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলার সংযোগ সড়ক চলে গেছে। একই ভাবে ঢাকা-সিলেট-চট্টগ্রাম রেললাইনও বনাঞ্চল অতিক্রম করেছে।বন্যপ্রাণী নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিদের ভাষ্য, বনভূমির দুই পাশে বিচরণ করতে গিয়ে গ্রায়ই প্রাণী গুলো সড়ক ও রেললাইন পার হওয়ার সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়। বিভিন্ন সময়ে ট্রেন কিংবা যানবাহনের ধাক্কায় সাপ, গন্ধগোকুল, বানরসহ নানা বন্যপ্রাণী মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। এতে বনের জীববৈচিত্র্য আরও হুমকির মুখে পড়ছে।কেন লোকালয়ে আসছে বন্যপ্রাণী : শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ পাহাড়, টিলা, বনাঞ্চল ও বিস্তীর্ণ চা-বাগানবেষ্টিত এলাকা। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানসহ আশপাশের বন দীর্ঘ দিন ধরে অজগর, বানর, মেছোবাঘ, গন্ধগোকুল, বিভিন্ন প্রজাতির সাপ ও পাখির গুররুত্বপূর্ণ আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত। তবে বনভূমি দখল, অবৈধ স্থাপনা, জনবসতি সম্প্রসারণ এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক বাগানের বিস্তারের কারণে বন্যপ্রাণীর বিচরণক্ষেত্র ও খাদ্যের উৎস ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। ফলে খাদ্য ও নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে তারা লোকালয়, চা-বাগান এবং সড়কের কাছাকাছি চলে আসছে।লোকালয়ে চলে আসা প্রাণীগুলোর একটি অংশ মানুষের হাতে মারা পড়ে। আবার সচেতন মানুষ বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন ও অন্যান্য উদ্ধারকারী সংগঠনকে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাণীগুলো উদ্ধার করে বন বিভাগের মাধ্যমে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অবমুক্ত করে।বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা: বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, অজগরের প্রধান খাদ্য ইঁদুর, পাখি, বনমোরগ ও ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী। এসব প্রাণীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় খাদ্যসংকটে পড়ে অজগর লোকালয়ের দিকে চলে আসছে। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক আবাসস্থল ধ্বংস হওয়ায় তাদের বিকল্প আশ্রয়ও কমে গেছে।তাঁদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জে অজগরসহ বিভিন্ন প্রজাতির সাপ উদ্ধারের সংখ্যা বাড়লেও এটি শুধু উদ্ধার অভিযানের সফলতা নয় বরং বনাঞ্চলের ওপর বাড়তে থাকা চাপ এবং পরিবেশগত সংকটেরও স্পষ্ট ইঙ্গিত।বন বিভাগের বক্তব্য:  বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের মৌলভীবাজার রেঞ্জ কর্মকর্তা কাজী নাজমুল হক বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে প্রচুর বৃষ্টিপাত এবং বনের ছড়া গুলোতে পানির প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় অজগর লোকালয়ের দিকে চলে আসছে। চা-বাগানও তাদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়ের একটি জায়গা হিসেবে কাজ করছে। তিনি বলেন, বন বিভাগের পক্ষ থেকে জনসচেতনতা বাড়ানোর কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। কোথাও অজগর দেখা গেলে আতঙ্কিত না হয়ে বন বিভাগকে খবর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। চলতি বছরের এপ্রিল মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মজিবুর রহমান চৌধুরী লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ও এর আশপাশের বনাঞ্চল পরিদর্শন করে বনভূমি দখল করে অবৈধ ভাবে বিভিন্ন ধরনের বাণিজ্যিক স্থাপনা গড়ে তোলা এবং বন উজাড়ের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, দখলকৃত বনভূমি উদ্ধার এবং লাউয়াছড়ার জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান। দুই মাসে ১০টি অজগর উদ্ধারের ঘটনা শুধু কয়েকটি উদ্ধার অভিযানের পরিসংখ্যান নয়, এটি লাউয়াছড়া বনাঞ্চলের পরিবেশগত বাস্তবতারও প্রতিচ্ছবি। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না। বনভূমি দখল বন্ধ, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, প্রাকৃতিক আবাসস্থল পুণরুদ্ধার, খাদ্যের উৎস সংরক্ষণ এবং বনাঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। তা না হলে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাত আরও বাড়বে, আর দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য ভবিষ্যতে আরও বড় সংকটের মুখে পড়বে।

সিলেট জুড়ে বিষধর সাপের আশ্রয় জঙ্গল ছেড়ে লোকালয়ে

জুলাই শহীদদের স্মরণে বড়লেখায় মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু

জুলাই শহীদদের স্মরণে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলাজুড়ে মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু করেছে বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতি,বড়লেখা উপজেলা শাখা।বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার ঘোলষা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৌরভ গোস্বামী প্রধান অতিথি হিসেবে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতি,বড়লেখা উপজেলা শাখার সভাপতি নুরুল ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সমিতির নেতা বদরুল ইসলাম।বক্তারা বলেন,জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ জাতি চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তাঁদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানাতে বৃক্ষরোপণের মতো পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ। একটি সবুজ, নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে বৃক্ষরোপণে এগিয়ে আসারও আহ্বান জানান তাঁরা।অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ,প্রধান শিক্ষক নাজিম উদ্দীন,সহকারী শিক্ষক সমিতির সহসভাপতি মানিক দেব নাথ,বিপ্রজিৎ কাপালি, ইকবাল হোসেন ও আবদুল করিম।এ সময় উপস্থিত ছিলেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক সঞ্জিত দেব নাথ,সহসাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত কুমার পাল,ছাদ উদ্দিন ও আহমেদ ফারুক,সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আলমগীর হোসেন, আবদুস সালাম,উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য শুভ্র দেব এবং সমিতির সদস্য প্রবীর দাস,রবীন্দ্র নাথ,দেলোয়ার হোসেনসহ অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকারা।সমিতির নেতারা জানান,আগস্ট মাসজুড়ে বড়লেখা উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পর্যায়ক্রমে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে জুলাই শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে শিক্ষকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ আরও জোরদার হবে বলে তাঁরা আশা প্রকাশ করেন।

জুলাই শহীদদের স্মরণে বড়লেখায় মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream