বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

অর্থনীতি

নতুন অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলানোর সক্ষমতা হারাচ্ছে বিশ্ব: আইএমএফ

নতুন অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলানোর সক্ষমতা হারাচ্ছে বিশ্ব: আইএমএফ

বিশ্ব অর্থনীতি শিগগিরই সংকট মোকাবিলার সক্ষমতার চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছে যেতে পারে বলে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সতর্ক করেছে। জ্বালানি সরবরাহে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে অনিশ্চয়তা, জরুরি তেলের মজুত কমে যাওয়া এবং বিভিন্ন দেশের সরকারি ঋণ ও বাজেট ঘাটতি বেড়ে যাওয়ায় নতুন অর্থনৈতিক ধাক্কা সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি। আইএমএফের সতর্কবার্তা, গত ছয় মাসে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে আশঙ্কার তুলনায় কম পড়লেও পরিস্থিতি এখনও ঝুঁকিমুক্ত নয়। হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে বিকল্প পথে তেল সরবরাহ এবং কৌশলগত জ্বালানির মজুত বাজারে ছাড়ার ফলে তেলের দাম বৃদ্ধির চাপ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু জরুরি মজুত কমে আসায় এবং অনেক দেশের সরকারের আর্থিক সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়ায় ভবিষ্যতে জ্বালানির দাম আবার বেড়ে গেলে ভোক্তাদের সুরক্ষা দেওয়া কঠিন হতে পারে। মঙ্গলবার থাইল্যান্ডের ব্যাংককে প্রকাশিত সংস্থাটির সর্বশেষ ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক প্রতিবেদনে এসব আশঙ্কার কথা তুলে ধরা হয়েছে। এ সপ্তাহে ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে বিভিন্ন দেশের অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। আইএমএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “জ্বালানি সরবরাহের সক্ষমতা বাড়ানো এবং নীতিগত সংকট মোকাবিলার সুরক্ষাব্যবস্থা পুনর্গঠন না করা হলে বিশ্ব অর্থনীতি শিগগিরই সহনশীলতার সীমা পরীক্ষা করতে পারে।” এতে আরও বলা হয়, জ্বালানির মজুত কমে আসছে। নতুন কোনও ভূরাজনৈতিক ধাক্কা এলে তা দ্রুত জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্নের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে পারে। জরুরি তেলের মজুত কমছে চলতি বছরের মার্চে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) বাজারে জরুরি মজুত থেকে ইতিহাসের বৃহত্তম পরিমাণ তেল ছাড়ার ঘোষণা দেয়। গত মাসে জ্বালানিমন্ত্রীদের বৈঠকের পর এ সরবরাহ আরও দ্রুত করার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়। তবে জরুরি মজুতের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ পরিস্থিতির ভঙ্গুরতা তুলে ধরছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত ১৯৮২ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যাওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে। গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছান। এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে রাশিয়ার ডিজেল আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জ্বালানির খুচরা মূল্য কমানোর উদ্দেশ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এর ফলে দামে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা কম। আইএমএফের আশঙ্কা, তেলের দাম দীর্ঘ সময় ধরে বেশি থাকলে পরিবহন, উৎপাদন ও ভোগব্যয়ের ওপর চাপ বাড়বে। এতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস সামান্য বাড়াল আইএমএফ ঝুঁকির কথা বললেও চলতি বছরের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস সামান্য বাড়িয়েছে আইএমএফ। সংস্থাটির হিসাবে, ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতি ৩ দশমিক ১ শতাংশ হারে বাড়তে পারে। গত জুলাইয়ের পূর্বাভাসে এই হার ছিল ৩ শতাংশ। ২০২৭ সালের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস অপরিবর্তিত রেখে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি চলতি বছর ২ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। ২০২৭ সালের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসও বাড়িয়ে ২ দশমিক ৩ শতাংশ করা হয়েছে; আগে যা ছিল ২ দশমিক ২ শতাংশ। যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসও চলতি বছরের জন্য বাড়িয়েছে আইএমএফ। দেশটির প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ৩ শতাংশ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা জুলাইয়ের পূর্বাভাসের চেয়ে শূন্য দশমিক ৩ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি। তবে ২০২৭ সালে যুক্তরাজ্যের প্রবৃদ্ধি কমে ১ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়াতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। আগে এ হার ১ দশমিক ৩ শতাংশ ধরা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় ধরে তেলের দাম বেশি থাকা এবং দীর্ঘমেয়াদি সুদের হার বাড়ার কারণে ভোগ ও বিনিয়োগ কমে যাওয়াকে এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মূল্যস্ফীতি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা জ্বালানির দাম উঁচু পর্যায়ে থাকায় বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির চাপ আগের ধারণার তুলনায় দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে মনে করছে আইএমএফ। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি ৪ দশমিক ৭ শতাংশে থাকতে পারে। গত জুলাইয়ের পূর্বাভাসেও একই হার ধরা হয়েছিল। ২০২৭ সালে মূল্যস্ফীতি কমে ৪ দশমিক ১ শতাংশে নামতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগে এ হার ৪ শতাংশ অনুমান করা হয়েছিল। ব্যাংককে প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে আইএমএফের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা সিলভানা তেনরেইরো বলেন, বিশ্ব অর্থনীতি এখন পর্যন্ত ধাক্কা সামলানোর সক্ষমতা দেখিয়েছে, কিন্তু সেই সক্ষমতা তার সীমার কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছে। নীতিনির্ধারকদের শুধু সংকট মোকাবিলায় সীমাবদ্ধ না থেকে অর্থনৈতিক সুরক্ষাব্যবস্থা পুনর্গঠনের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভাও বিশ্বজুড়ে ঋণের বোঝা বাড়তে থাকায় সরকারগুলোকে ব্যয় নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, প্রয়োজনীয় নীতিগত পদক্ষেপ নিতে আর দেরি করা উচিত নয়। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও এআই বাজারে ধসের ঝুঁকি বিশ্ব অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকিগুলোর একটি হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়া কিংবা আরও তীব্র হয়ে ওঠার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে আইএমএফ। এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানি ও খাদ্যের দাম আরও বেড়ে যেতে পারে। জ্বালানি অবকাঠামোয় নতুন হামলা, সাইবার আক্রমণ কিংবা চরম আবহাওয়াজনিত ঘটনাও সংকটের প্রভাব বাড়াতে পারে। ইরানের বিরুদ্ধে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে নতুন করে হামলা চালানোর সম্ভাবনার কথা ট্রাম্প বলে আসছেন। অন্যদিকে, সংঘাতের অবসানে কোনও শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনা এগোচ্ছে- এমন স্পষ্ট লক্ষণও নেই। আইএমএফ আরও সতর্ক করেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইকেন্দ্রিক বিনিয়োগের উত্থান ঘিরে আর্থিক বাজারে ধস নামার ঝুঁকিও বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। এ অবস্থায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে স্বল্পমেয়াদে মূল্যস্ফীতি বাড়লেই অতিরিক্ত কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। তবে মূল্যস্ফীতি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। আইএমএফের মতে, বিশ্ব অর্থনীতির পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। তাই নতুন সংকট মোকাবিলায় নীতিনির্ধারকদের নমনীয়তা, সতর্কতা এবং আগাম প্রস্তুতি এখন আগের যেকোনও সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

বাংলাদেশি টাকায় আজকের মুদ্রা বিনিময় হার

বিশ্বের অনেক দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য দিনদিন বাড়ছে। এই বাণিজ্য চালিয়ে যেতে মুদ্রা বিনিময়ের পরিমাণও বাড়ছে।  লেনদেনের সুবিধার্থে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার সঙ্গে বাংলাদেশি টাকার আজ মঙ্গলবার বিনিময় হার:  বৈদেশিক মুদ্রা : বাংলাদেশি টাকা ইউএস ডলার : ১২৩ টাকা ৩০ পয়সা ইউরো : ১৩৭ টাকা ৫১ পয়সা পাউন্ড : ১৬২ টাকা ৮৩ পয়সা কানাডিয়ান ডলার : ৮৬ টাকা ৩২ পয়সা অস্ট্রেলিয়ান ডলার : ৮৫ টাকা ৮০ পয়সা চায়নিজ ইয়েন : ১৮ টাকা ৪১ পয়সা সিঙ্গাপুরি ডলার : ৯৬ টাকা ২৬ পয়সা ভারতীয় রুপি : ১ টাকা ২৮ পয়সা মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত : ৩০ টাকা ১৮ পয়সা সৌদি রিয়াল : ৩২ টাকা ৮৩ পয়সা কাতারি রিয়াল : ৩৩ টাকা ৬৮ পয়সা কুয়েতি দিনার : ৩৯৫ টাকা ৯৮ পয়সা আরব আমিরাতের দিরহাম : ৩৩ টাকা ৫৮ পয়সা সূত্র: গুগল যে কোনো সময় মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তন হতে পারে।

বাংলাদেশি টাকায় আজকের মুদ্রা বিনিময় হার

মূল্যস্ফীতি ১০.৯ শতাংশ হতে পারে, বাংলাদেশ নিয়ে উদ্বেগ আইএমএফের

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতির গতি কমতে পারে। একই সঙ্গে বাড়তে পারে মূল্যস্ফীতি। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফ তাদের অক্টোবর ২০২৬-এর পূর্বাভাসে এ কথা জানিয়েছে। আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬–২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ২ শতাংশে নামতে পারে। গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১০ দশমিক ৯ শতাংশে উঠে যেতে পারে। যে কারণে অর্থনীতির পুনরুদ্ধার তো বটেই মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও বিনিয়োগের পরিবেশ নিয়েও তৈরি হতে পারে নতুন উদ্বেগ। চলমান বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের যৌথ বার্ষিক সভায় আজ সকালে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনটির নাম ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক। তাতে বলা হয়েছে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে চূড়ান্ত হিসাবে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। ওই বছরের গড় মূল্যস্ফীতি হতে পারে ৮ দশমিক ৭ শতাংশ। অর্থাৎ ২০২৬–২৭ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি কমবে। সঙ্গে মূল্যস্ফীতির চাপও বাড়ার আশঙ্কা আছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো বা বিবিএসের হিসাবে, গত সেপ্টেম্বরে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ। আইএমএফ বিশ্ব অর্থনীতি নিয়েও পূর্বাভাস দিয়েছে। তাদের মতে, ২০২৬ সালে বিশ্বের প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৩ দশমিক ১ শতাংশ। ২০২৭ সালে তা বেড়ে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ হওয়ার কথা। ২০২৬ সালে বৈশ্বিক গড় মূল্যস্ফীতি ৪ দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে। ২০২৭ সালে তা কমে ৪ দশমিক ১ শতাংশে নামতে পারে। এই প্রতিবেদনে বাংলাদেশ নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। তবে আগের বিভিন্ন প্রতিবেদনে আইএমএফ বলেছে, প্রবৃদ্ধির গতি কমে যাওয়া অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের। অর্থনীতি দুর্বল হলে নতুন বিনিয়োগ ও কাজের সুযোগ কমে যায়। বেসরকারি বিনিয়োগ প্রত্যাশামতো না বাড়লে শিল্প উৎপাদন, ব্যবসার প্রসার ও আয় বাড়ার গতি ব্যাহত হতে পারে। উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে মানুষের প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতা কমে যেতে পারে। এতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়বেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ।

মূল্যস্ফীতি ১০.৯ শতাংশ হতে পারে, বাংলাদেশ নিয়ে উদ্বেগ আইএমএফের

দেশের বাজারে কমল স্বর্ণের দাম

দেশের বাজারে আবারো কমেছে স্বর্ণের দাম। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) মঙ্গলবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন মূল্য ঘোষণা করে। নতুন দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।  বাজুস জানিয়েছে, খাঁটি স্বর্ণের মূল্য হ্রাস পেয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দাম সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৮ হাজার ৩১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম ৩ হাজার ১৪৯ টাকা কমিয়ে করা হয়েছে ২ লাখ ১৭ হাজার ৭৬৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৭ হাজার ৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫২ হাজার ৭৯৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, নতুন মূল্য ভ্যাটসহ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অলংকারের ডিজাইন ও কারুকাজভেদে মজুরি আলাদাভাবে যুক্ত হবে।

দেশের বাজারে কমল স্বর্ণের দাম

শ্রীমঙ্গলে ইনোভার-এর বিজনেস মিট অনুষ্ঠিত

শ্রীমঙ্গলে দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী আকিজ রিসোর্সের ফ্ল্যাগশিপ ব্র্যান্ড ইনোভার এর সাফল্যের যাত্রা বিজনেস মিট-২০২৬ উপলক্ষে মতবিনিময় সভা ও র‍্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয়েছে।সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে মহসিন অডিটোরিয়াম এ আয়োজিত অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা এবং ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।অনুষ্ঠান শেষে র‍্যাফেল ড্রয়ের মাধ্যমে বিজয়ীদের মাঝে বিভিন্ন আকর্ষণীয় পুরস্কার প্রদান করা হয়। এতে মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন ব্যাবসায়ি বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।ইনোভারের ধারাবাহিক সাফল্য, পণ্যের গুণগত মান এবং প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানের ন্যাশনাল সেলস ম্যানেজার মুহাম্মাদ হাছানুজ্জামান চৌধুরী। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের জেনারেল ম্যানেজার (মার্কেটিং) মো: সাজ্জাদুল ইসলাম। এ ছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মার্কেটিং ম্যানেজার জুবায়ের শফিক।এ সময় ডিভিশনাল সেলস ম্যানেজার আব্দুল্লাহ আল মামুন, রিজিওনাল সেলস ম্যানেজার ফয়সাল কবির খান, মো: ইউসুফ, মো: নয়ন মিয়া সহ মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গলের সন্মানিত পরিবেশক মোহাম্মদ রফিক ও ইব্রাহিম জঙ্গি এবং রিটেইলাররা উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানে সকল ব্যবসায়ীকে ইনোভারের সঙ্গে থেকে প্রতিষ্ঠানটির অগ্রযাত্রায় সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান এবং এ বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

শ্রীমঙ্গলে ইনোভার-এর বিজনেস মিট অনুষ্ঠিত

দেশের জ্বালানি উৎপাদনে বড় অবদান সিলেটের

দেশের জ্বালানি তেলের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড (এসজিএফএল)। প্রতিষ্ঠানটির দুটি কনডেনসেট ফ্র্যাকশনেশন প্ল্যান্টে উৎপাদিত হচ্ছে পেট্রোল,অকটেন,ডিজেল,কেরোসিন ও এলপিজি। অন্যদিকে, দেশে জ্বালানি উৎপাদন বাড়াতে ২০৩১ ও ২০৩৫ সালকে লক্ষ্য রেখে দুই ধাপে ৩০০টি গ্যাসকূপ খনন ও পুনঃখননের মহাপরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে গ্যাসের পাশাপাশি কনডেনসেট উৎপাদনও বাড়বে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের হবিগঞ্জের রশিদপুর কনডেনসেট ফ্র্যাকশনেশন প্ল্যান্টে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) পদ্মা,মেঘনা ও যমুনা কোম্পানির ট্যাংকলরি। এসব লরিতে পেট্রোল, অকটেন, ডিজেল, কেরোসিন ও এলপিজি লোড করে নির্ধারিত গন্তব্যে পাঠানো হয়। প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব খরচে এসব জ্বালানি সরবরাহ করে থাকে।সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী,দেশের বিভিন্ন গ্যাসক্ষেত্রে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার থেকে ছয় হাজার ব্যারেল কনডেনসেট পাওয়া যায়। এর মধ্যে সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের দৈনিক সাত হাজার ব্যারেল পরিশোধন সক্ষমতাসম্পন্ন দুটি প্ল্যান্টের জন্য বরাদ্দ রয়েছে চার হাজার ৩৫০ ব্যারেল কনডেনসেট।এই কনডেনসেট পরিশোধন করে দেশের পেট্রোলের দৈনিক চাহিদার ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ,অকটেনের ৭ থেকে ৮ শতাংশ, কেরোসিনের প্রায় ৭ শতাংশ এবং ডিজেলের ১ শতাংশ উৎপাদন করছে প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি প্রতিদিন উৎপাদিত হচ্ছে প্রায় পাঁচ টন এলপিজি।সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. ফারুক হোসেন জানান,প্রতিষ্ঠানটিতে প্রতিদিন প্রায় তিন হাজার ৫০০ ব্যারেল পেট্রোল,৬০০ ব্যারেল অকটেন, ১০০ ব্যারেল কেরোসিন ও ১৫০ ব্যারেল ডিজেল উৎপাদিত হয়। বিপিসির পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা কোম্পানির মাধ্যমে এসব জ্বালানি বাজারজাত করা হয়।জ্বালানি তেলের উৎপাদন আরও বাড়াতে বিদ্যমান ফ্র্যাকশনেশন প্ল্যান্টগুলোর সক্ষমতা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে এসজিএফএল। এ জন্য নতুন একটি ইউনিট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে বর্তমান জায়গার মধ্যে নতুন ইউনিট স্থাপন করা সম্ভব না হওয়ায় পাশের জমি ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।এ বিষয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. ফারুক হোসেন বলেন,নতুন ইউনিট স্থাপনের জন্য একটি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলছে। বর্তমান জায়গায় ইউনিটটি স্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই পাশের কিছু জমি নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। কীভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা যায়, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কাজ করছেন।দেশের গ্যাস ও জ্বালানি উৎপাদন বাড়াতে ২০৩১ ও ২০৩৫ সালকে লক্ষ্য রেখে দুই ধাপে ৩০০টি গ্যাসকূপ খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এর প্রথম ধাপে সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড একটি তেলকূপসহ ১৫টি কূপ খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা করেছে।প্রতিষ্ঠানটির আশা,পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বর্তমানে দৈনিক সরবরাহ করা ১৪০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের পাশাপাশি আরও ১২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় সঞ্চালন লাইনে যুক্ত করা সম্ভব হবে। এতে উপজাত হিসেবে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কনডেনসেট পাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। ফলে দেশে পেট্রোল,অকটেনসহ বিভিন্ন জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।বিশেষজ্ঞদের মতে,সিলেট অঞ্চলে গ্যাস ও কনডেনসেটের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে নতুন কূপ খননের পাশাপাশি বিদ্যমান কূপগুলোতেও অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. এম ফরহাদ হাওলাদার বলেন,গভীর কূপ খননের উদ্যোগ নিতে হবে। যেসব বিদ্যমান কূপে তেল পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে,সেগুলোও অনুসন্ধানের আওতায় আনা প্রয়োজন। এভাবে অনুসন্ধান কার্যক্রম চালানো গেলে দেশে জ্বালানির বর্তমান সরবরাহ কিছুটা বাড়ানো সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের সরবরাহমূল্য ও বাজারে প্রচলিত জ্বালানির দামের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়েছে। ২০২৩ সালের ২৫ জুন জারি করা প্রজ্ঞাপনে নির্ধারিত দাম অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি এখনো বিপিসির কাছে জ্বালানি তেল বিক্রি করছে।প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী,প্রতি লিটার অকটেন ৯২ টাকা ২৬ পয়সা, পেট্রোল ৮৫ টাকা ২৬ পয়সা,ডিজেল ৮০ টাকা ৪৬ পয়সা এবং কেরোসিন ৮১ টাকা ৪৭ পয়সা দরে বিক্রি করা হচ্ছে।অন্যদিকে,সরবরাহ করা তথ্যে উল্লেখিত বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী প্রতি লিটার অকটেন ১৬৫ টাকা,পেট্রোল ১৬০ টাকা, ডিজেল ১৩৫ টাকা ও কেরোসিন ১৫৫ টাকা।সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি,নতুন কূপ খনন এবং সম্ভাবনাময় পুরোনো কূপে অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা গেলে দেশের জ্বালানি খাতে স্থানীয় উৎপাদনের অবদান আরও বাড়তে পারে। তবে এসব পরিকল্পনার সুফল পেতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন,বিনিয়োগ ও অনুসন্ধান কার্যক্রমের কার্যকর বাস্তবায়ন গুরুত্বপূর্ণ।

দেশের জ্বালানি উৎপাদনে বড় অবদান সিলেটের

সপ্তাহের শুরুতেই বিশ্ববাজারে কমল স্বর্ণের দাম

বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের আগে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। এর প্রভাবে বিশ্ববাজারে সোমবার (১২ অক্টোবর) স্বর্ণের দাম কমেছে। এর আগে দিনের শুরুতে স্বর্ণের দাম এক সপ্তাহেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল। চলতি সপ্তাহে প্রকাশিতব্য মার্কিন মূল্যস্ফীতির তথ্য থেকে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হারসংক্রান্ত নীতির বিষয়ে নতুন ধারণা পেতে চান বিনিয়োগকারীরা। খবর রয়টার্স। এদিন স্পট মার্কেটে বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা ১৪ মিনিটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ০.২ শতাংশ কমে ৪ হাজার ১৮৫ ডলার ১৩ সেন্টে দাঁড়ায়। দিনের শুরুতে দাম গত ২ অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে ডিসেম্বর মাসে সরবরাহের জন্য স্বর্ণের ফিউচার দর ০.২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২০৯ ডলার ৭০ সেন্টে নেমে আসে। কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, স্বল্পমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির হার প্রত্যাশার চেয়ে কম হলে তা স্বর্ণের দামের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক হতে পারে। এতে ফেডারেল রিজার্ভের আরও সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা কমবে এবং প্রকৃত সুদের হারের চাপও কিছুটা প্রশমিত হবে। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘমেয়াদে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ধারাবাহিক স্বর্ণ কেনা এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আরও কমে আসা স্বর্ণের বাজারের জন্য ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করতে পারে। এতে তেলের দাম ও মার্কিন ডলারের দর কমার সম্ভাবনাও রয়েছে। এদিকে, রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধে একটি যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। তিনি জানান, এটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, চুক্তির বিস্তারিত জানার অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি। রাশিয়া থেকে জ্বালানি সরবরাহ বাড়ার প্রত্যাশায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে। অন্যদিকে, গত সপ্তাহে দেড় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানো মার্কিন ডলারের দর সোমবারও শক্ত অবস্থানে ছিল। ডলারের দর বাড়লে অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহারকারী ক্রেতাদের জন্য ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণ কেনা ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে, যা স্বর্ণের দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। স্বর্ণকে সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষিত বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে স্বর্ণ থেকে নিয়মিত সুদ বা আয় পাওয়া যায় না। ফলে সুদের হার বাড়লে বিনিয়োগকারীদের কাছে স্বর্ণের আকর্ষণ কমে যেতে পারে। বাজারসংশ্লিষ্টরা এখন বুধবার প্রকাশিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যসূচকের (সিপিআই) প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছেন। বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা হবে উৎপাদক মূল্যসূচক (পিপিআই) ও খুচরা বিক্রির তথ্য। এসব পরিসংখ্যান থেকে দেশটির মূল্যস্ফীতির প্রবণতা এবং ফেডারেল রিজার্ভের সম্ভাব্য সুদের হার নীতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, বাজারের লেনদেনকারীরা অক্টোবরে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা ১৯ শতাংশ এবং ডিসেম্বরের মধ্যে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা ৮৪ শতাংশ বলে মনে করছেন। এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়তে থাকায় অক্টোবরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা আস্থা আরও কমেছে। এতে দেশটির অর্থনীতি নিয়ে পরিবারগুলোর মূল্যায়ন নেতিবাচক হয়েছে। স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারে অবশ্য ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। সোমবার স্পট মার্কেটে রুপার দাম ০.২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬০ ডলার ৯৫ সেন্টে পৌঁছেছে। প্লাটিনামের দাম ০.৮ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৭০১ ডলার ১৮ সেন্ট এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ১৫৯ ডলার ৬২ সেন্টে দাঁড়িয়েছে।

সপ্তাহের শুরুতেই বিশ্ববাজারে কমল স্বর্ণের দাম

আজকের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার একনজরে

বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্প্রসারিত হচ্ছে। প্রবাসে দেশের কোটি মানুষ আছেন। দেশের অর্থনীতির চাকা বিশ্বে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থে সচল রয়েছে। প্রবাসীদের লেনদেনের সুবিধার্থে আজকের (১২ অক্টোবর, ২০২৬) মুদ্রার বিনিময় হার তুলে ধরা হলো। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুসারে, সোমবার দেশের মুদ্রা বাজারে ডলার কেনার দাম ধরা হচ্ছে ১২৩.২৫ টাকা। বিক্রির দাম ১২৩.৩০ টাকা। গড় বিনিময় হার ১২৩ টাকা ২০ টাকা। ইউরো কেনার ক্ষেত্রে দাম ধরা হয়েছে ১৩৮ টাকা ০৫ পয়সা এবং বিক্রির ক্ষেত্রে দাম ধরা হয়েছে ১৩৮ টাকা ১২ পয়সা। মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তন হতে পারে।

আজকের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার একনজরে

এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাসের দাম বাড়তেই সিলেটে দেখা দিয়েছে সংকট

এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাসের দাম বাড়তেই সিলেটে দেখা দিয়েছে সংকট দেখা দিয়েছে। সিলেট শহর কিংবা গ্রাম পর্যায়ে এলপিজির চাহিদা থাকাতে ব্যাপক সাড়া জাগিয়ে দিয়েছে ওই ধরণের গ্যাস সিলিন্ডারের। সরকার নির্ধারিত মূল্য কার্যকর না হওয়ায় সিলেটে ১২ কেজির একটি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে ২২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায়। অথচ বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। ফলে প্রতিটি সিলিন্ডারে গ্রাহককে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৩৬৩  থেকে ৬৬৩ টাকা পর্যন্ত বেশি দিতে হচ্ছে। দাম বাড়ানোর পরও বাজারে সরবরাহ সংকট না কাটায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে।জানা গেছে, সিলেট নগরীর বিভিন্ন এলাকায় এলপিজি ব্যবহারকারী পরিবার গুলোকে বাড়তি দামে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি ভয়াবহ। সিলেট নগরীর কিছু দোকানে ২০০০ টাকায় সিলিন্ডার মিললেও গ্রামে ২৫০০ টাকার নিচে সিলিন্ডার মিলছেনা।এদিকে রান্নার কাজে গ্যাসের বিকল্প হিসেবে এলপিজির ওপর নির্ভরশীল বহু পরিবারের মাসিক ব্যয় এতে বেড়ে যাচ্ছে। একদিকে নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না, অন্য দিকে চাহিদামতো সরবরাহ না থাকায় বাজারে স্বাভাবিক পরিস্থিতিও ফিরছে না। ফলে সরকার দাম নির্ধারণ করলেও তার সুফল পাচ্ছেন না সাধারণ গ্রাহকেরা।এলপিজি পরিবেশকদের দাবি, কোম্পানি থেকে সিলিন্ডার সংগ্রহ করে সিলেটে আনতে পরিবহন খরচ বেশি পড়ে। এর সঙ্গে সিলিন্ডার ওঠানো-নামানো, গুদামভাড়া, কর্মচারীদের মজুরি ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় যুক্ত হয়। এসব খরচ বিবেচনায় নিয়ে সরকার নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার বিক্রি করলে তাঁদের লোকসান গুনতে হয়। একারণে নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে দাবি তাঁদের। তবে পরিবহন ও পরিচালন ব্যয়ের এই যুক্তির মধ্যেও বাড়তি দাম দিয়ে এলপিজি কিনতে হচ্ছে  ভোক্তাদের।সিলেট নগরীর সুবিদবাজারের খুচরা বিক্রেতা জানান, সরকারী মূল্যে পাইকারী কিনে সেই দামে বিক্রি করলে আমাদের মুনাফা থাকে না। এর উপর আবার বাসায় ডেলিভারী দিতে হয়। তাই বাধ্য হয়ে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা অতিরিক্ত নিতে হচ্ছে।এক মাসে দাম বাড়ল ২৫২ টাকা:গত ৪ অক্টোবর অক্টোবর মাসের জন্য এলপিজির নতুন দাম ঘোষণা করে বিইআরসি। এতে ১২ কেজির সিলিন্ডারের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে এই সিলিন্ডারের নির্ধারিত দাম ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে দাম বেড়েছে ২৫২ টাকা। তবে নতুন দাম ঘোষণার পরও সিলেটে বাজার মূল্য নির্ধারিত দামের ধারেকাছে আসেনি।বর্তমানে সিলেটে ১২ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সে হিসাবে সরকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের তুলনায় গ্রাহককে ১৯ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে ৩৬ দশমিক ১ শতাংশ পর্যন্ত বেশি অর্থ দিতে হচ্ছে। দাম সমন্বয়ের উদ্দেশ্য থাকলেও সরবরাহ ও বিক্রয়মূল্যের ব্যবধানের কারণে গ্রাহকদের দুর্ভোগ কমছে না।কমিশন বাড়ানোর দাবি পরিবেশকদের:এলপিজি ব্যবসায়ীদের সংগঠন এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি পরিবেশক পর্যায়ের কমিশন ও পরিচালন ব্যয় সমন্বয়ের দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটির দাবি, ২০২১ সালে পরিবেশকদের জন্য সিলিন্ডার প্রতি ৫০ টাকা কমিশন নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু পাঁচ বছরে পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় বেড়েছে। বর্তমান কমিশনে এসব খরচ মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে।সংগঠনটির হিসাব অনুযায়ী, কোম্পানি থেকে পরিবেশকের গুদাম পর্যন্ত সিলিন্ডার পরিবহনে খরচ হয় ৫০ টাকা। ট্রাকে ওঠানো-নামানো এবং খুচরা বিক্রেতার কাছে পৌঁছাতে ব্যয় হয় আরও ৩৫ টাকা। এ ছাড়া কর্মচারীদের মজুরি, গুদাম ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, লাইসেন্স ফি ও অন্যান্য খাতে খরচ হয় ২৫ টাকা। সব মিলিয়ে এসব খাতে ব্যয় ১১০ টাকা। এর সঙ্গে সিলিন্ডার প্রতি ৪০ টাকা মুনাফা যোগ করলে পরিবেশক পর্যায়ে মোট ১৫০ টাকা প্রয়োজন বলে দাবি সংগঠনটির। অথচ কমিশন নির্ধারিত রয়েছে ৫০ টাকা। ফলে তাঁদের হিসাবে সিলিন্ডার প্রতি ১০০ টাকা ঘাটতি থাকছে।গত ৬ অক্টোবর এ বিষয়ে বিইআরসিকে চিঠি দেয় এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি। চিঠিতে ব্যবসায়ীদের ব্যয় ও কমিশন সমন্বয়ের পাশাপাশি বাজারে মূল্যসংক্রান্ত অস্থিতিশীলতা নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। সংগঠনটির দাবি, বিভিন্ন কোম্পানির মূল্যতালিকায় পার্থক্য থাকায় বাজারে একই পণ্যের দামে ব্যবধান তৈরি হচ্ছে। এতে পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতারা যেমন সমস্যায় পড়ছেন, তেমনি ভোক্তাদেরও বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে।এদিকে সিলেটেও এলপিজির মূল্য ও সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় ভোক্তাদের বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। পরিবেশকদের পরিবহন ব্যয় ও কমিশন সংক্রান্ত দাবি, কোম্পানিগুলোর সরবরাহ পরিস্থিতি এবং সরকার নির্ধারিত মূল্য বাস্তবায়নের বিষয়টি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ব্যবসায়ীদের ব্যয় সমন্বয়ের দাবি ও ভোক্তাদের ন্যায্যমূল্যে গ্যাস পাওয়ার অধিকার দুই দিক বিবেচনায় কার্যকর উদ্যোগ না এলে সিলিন্ডারের বাড়তি দাম ও সরবরাহ সংকটের চাপ সাধারণ মানুষের ওপরই থেকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাসের দাম বাড়তেই সিলেটে দেখা দিয়েছে সংকট

স্বর্ণের দামে বড় পরিবর্তন

দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন নির্ধারিত দামে প্রতি ভরি স্বর্ণের মূল্য সর্বোচ্চ ২ হাজার ২১৬ টাকা বেড়েছে।শুক্রবার (৯ অক্টোবর) থেকে এ মূল্য কার্যকর হয়েছে। সে অনুযায়ী, শনিবার (১০ অক্টোবর) দেশের বাজারে নতুন দামে স্বর্ণ কেনাবেচা হচ্ছে।বাজুসের নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩১ হাজার ২৯৭ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ কিনতে খরচ হবে ২ লাখ ২০ হাজার ৯১৬ টাকা, যা আগের তুলনায় ২ হাজার ৯৯ টাকা বেশি।এ ছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৮০৮ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৯ হাজার ৭১৫ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরির নতুন দাম ১ লাখ ৫৪ হাজার ৯৫৬ টাকা, যা আগের চেয়ে ১ হাজার ৪৫৮ টাকা বেশি। এক ভরি স্বর্ণের ওজন ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম।এর আগে গত ৫ অক্টোবর স্বর্ণের দাম কমিয়েছিল বাজুস। সেদিন ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম ১ হাজার ৬৯১ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ২৯ হাজার ৮১ টাকা নির্ধারণ করা হয়। একই সময়ে ২১ ক্যারেটের দাম কমে ২ লাখ ১৮ হাজার ৮১৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৮৭ হাজার ৯০৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪৯৮ টাকা করা হয়েছিল।এর ফলে দাম কমানোর মাত্র চার দিনের ব্যবধানে আবারও স্বর্ণের মূল্য বাড়াল বাজুস। পরবর্তী ঘোষণা না আসা পর্যন্ত দেশের বাজারে এই নির্ধারিত দামেই বিক্রি হবে স্বর্ণ।

স্বর্ণের দামে বড় পরিবর্তন

দেশের বাজারে আবারও বাড়ল সোনার দাম

দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে সোনার দাম। ভ্যাটসহ ভালো মানের প্রতি ভরি সোনার দাম সর্বোচ্চ ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে বলে সংগঠনটির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।নতুন দাম অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩১ হাজার ২৯৭ টাকা (ভ্যাটসহ)। এর আগে এই মানের সোনার দাম ছিল ২ লাখ ২৯ হাজার ৮১ টাকা।এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ২০ হাজার ৯১৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৮৯ হাজার ৭১৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৯৫৬ টাকা।তবে সোনার দাম বাড়লেও রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ৩১৬ টাকা, ২১ ক্যারেট ৪ হাজার ১৪১ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৩ হাজার ৫৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ২ হাজার ৬৮৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

দেশের বাজারে আবারও বাড়ল সোনার দাম

আজকের মুদ্রার রেট

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিভিন্ন দেশে থাকা বাংলাদেশিদের লেনদেনের সুবিধার কথা বিবেচনায় ৮ অক্টোবর ২০২৬-এর বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার প্রতি মার্কিন ডলার কেনার জন্য ১২৩ টাকা এবং বিক্রির ক্ষেত্রে ১২৩ টাকা ১৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। ডলারের গড় বিনিময় হার ১২৩ টাকা।এদিকে ইউরোর ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩৭ টাকা ৬৯ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ১৩৭ টাকা ৯২ পয়সা। ব্রিটিশ পাউন্ডের ক্ষেত্রে ক্রয়মূল্য ১৬২ টাকা ৪৮ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ১৬২ টাকা ৭৭ পয়সা।অন্যান্য মুদ্রার মধ্যে জাপানি ইয়েনের ক্রয় ও বিক্রয়মূল্য যথাক্রমে ০.৭৭ টাকা ও ০.৭৭ টাকা। অস্ট্রেলিয়ান ডলারের ক্রয়মূল্য ৮৫ টাকা ৬০ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ৮৫ টাকা ৭৮ পয়সা।সিঙ্গাপুর ডলারের ক্রয়মূল্য ৯৬ টাকা ৭ পয়সা ও বিক্রয়মূল্য ৯৬ টাকা ২৪ পয়সা। কানাডিয়ান ডলারের ক্ষেত্রে ক্রয়মূল্য ৮৬ টাকা ২৬ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ৮৬ টাকা ৩৯ পয়সা।ভারতীয় রুপির ক্রয় ও বিক্রয়মূল্য ১ টাকা ২৭ পয়সা। সৌদি রিয়ালের ক্রয়মূল্য ৩২ টাকা ৭৯ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ৩২ টাকা ৭৬ পয়সা।তবে ব্যাংক ও মুদ্রাবাজারের পরিস্থিতি অনুযায়ী বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তিত হতে পারে।

আজকের মুদ্রার রেট

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ফের ঊর্ধ্বগতি

দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত বৃহস্পতিবার সর্বশেষ তথ্য থেকে এ চিত্র পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ ৩১ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলার। এদিকে, চলতি বছরের অক্টোবরের প্রথম ছয় দিনে দেশে ৬৩ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। দেশীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৭ হাজার ৭৪৯ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সময়ে প্রবাস আয় বেড়েছে ১৪ দশমিক ১০ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার দেশে ১ হাজার ৬৩৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা সমপরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে। অক্টোবরের প্রথম ছয় দিনে মোট প্রবাস আয় দাঁড়িয়েছে ৬৩ কোটি মার্কিন ডলারে। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্সপ্রবাহে ইতিবাচক ধারা দেখা যাচ্ছে। ১ জুলাই থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে মোট ৯২২ কোটি ১০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৮১৩ কোটি ৭০ লাখ ডলার। অর্থাৎ চলতি অর্থবছরের একই সময়ে প্রবাস আয় বেড়েছে ১০৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার বা ১৩ দশমিক ৩০ শতাংশ।

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ফের ঊর্ধ্বগতি

বাংলাদেশের অটোমোবাইল শিল্পে অবদান বাড়াতে চায় টয়োটা

টয়োটা বাংলাদেশ লিমিটেড বাংলাদেশের অটোমোবাইল শিল্পে দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রমের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি প্রযুক্তি হস্তান্তর, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের অটোমোবাইল শিল্পের বিকাশে অবদান রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। টয়োটা সুশো করপোরেশন ও টয়োটা বাংলাদেশ লিমিটেডের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গেমঙ্গলবার (৬ অক্টোবর)  সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশে তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও কার্যক্রমের বিষয়ে আলোচনা করে। প্রতিনিধিদলে ছিলেন টয়োটা সুশো করপোরেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ইচিরো কাশিতানি, মোবিলিটি ডিভিশনের সিইও শিগেরু হারাদা, টয়োটা সুশো এশিয়া প্যাসিফিকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আকিও ওগাওয়া এবং টয়োটা বাংলাদেশ লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর প্রেমিত সিং। সাক্ষাতে বাংলাদেশে টয়োটার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়। টয়োটা বাংলাদেশ জানিয়েছে, দেশে তাদের কার্যক্রম আরও জোরদার করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। এ ক্ষেত্রে দক্ষ জনশক্তি তৈরি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্ব দেওয়া হবে। বাংলাদেশে টয়োটার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকে ইতিবাচকভাবে স্বাগত জানিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ ও উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা এবং অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে সরকারের প্রস্তুতির কথাও জানানো হয়েছে। দেশের অটোমোবাইল খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে টয়োটা বাংলাদেশ ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে বলে জানানো হয়েছে। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক বিকাশে অবদান রাখার প্রত্যাশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

বাংলাদেশের অটোমোবাইল শিল্পে অবদান বাড়াতে চায় টয়োটা

আবারো কমলো স্বর্ণের দাম

মার্কিন ডলার শক্তিশালী হওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সিদ্ধান্ত ঘিরে বড় বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম প্রায় ১ শতাংশ কমেছে। সুদের হার আরও বাড়ানোর পক্ষে নীতীনিরূপকদের কতটা সমর্থন রয়েছে, তা জানার জন্য সেপ্টেম্বরের বৈঠকের কার্যবিবরণী (কার্যবিবরণী বা মিনিটস) প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা।বুধবার (৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ৫ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম ০ দশমিক ৯৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,১২২ দশমিক ৭৩ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে ডিসেম্বরের চুক্তিতে মার্কিন গোল্ড ফিউচারের দাম ০ দশমিক ৯১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,১৪৯ ডলারে পৌঁছায়।এদিন আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলার সূচক ০ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ডলারের মান বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে অন্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণ কেনাকাটা করা তুলনামূলক ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে।বাজারের এই নিম্নমুখী প্রবণতা নিয়ে অ্যাক্টিভট্রেডসের পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী রিকার্ডো ইভানজেলিস্তা জানান, ‘আজ দিনের শেষের দিকে ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটির (এফওএমসি) সর্বশেষ কার্যবিবরণী প্রকাশের আগে বিনিয়োগকারীদের মাঝে সতর্ক অবস্থান কাজ করছে। সুদের হারের ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে নিশ্চিত কোনো ইঙ্গিত না পাওয়া পর্যন্ত স্বর্ণে বড় ধরনের নতুন বা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে কিছুটা অনীহা দেখা যেতে পারে।’

আবারো কমলো স্বর্ণের দাম

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শ্লথ, বাড়ছে দারিদ্র্য, স্থবির কর্মসংস্থান: বিশ্বব্যাংক

জ্বালানি সংকট, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা এবং রাজস্ব আদায়ে ধীরগতিসহ নানা অভ্যন্তরীণ সমস্যায় বাংলাদেশের অর্থনীতি চাপে রয়েছে। এর সঙ্গে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা যুক্ত হওয়ায় দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে যেতে পারে। তবে সরকার দ্রুত ও কার্যকর সংস্কার বাস্তবায়ন করতে পারলে এবং জ্বালানি সংকটের সমাধান হলে ২০২৭-২৮ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে।মঙ্গলবার ঢাকায় বিশ্বব্যাংকের কার্যালয়ে আয়োজিত এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। এতে বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের বিভাগীয় পরিচালক জ্যঁ পেম, জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ধ্রুব শর্মা ও নাজমুস সাদাত খান বক্তব্য দেন।বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থনৈতিক মন্দার কারণে বেসরকারি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান কমেছে। গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। একই সময়ে খেলাপি ঋণ ও ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতির কারণে আর্থিক খাতেও ঝুঁকি বাড়ছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রভাবে মানুষের প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় দারিদ্র্য ও আয়বৈষম্যও বাড়ছে।সরকার সামাজিক নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও সারসহ বিভিন্ন খাতে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করলেও এর উল্লেখযোগ্য অংশ প্রকৃত দরিদ্র মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। তুলনামূলক সচ্ছল পরিবারও এসব সুবিধার একটি বড় অংশ পাচ্ছে। ফলে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর অনেকেই সহায়তার বাইরে থাকছেন।বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের বিভাগীয় পরিচালক জ্যঁ পেম বলেন, অর্থনীতিকে আবারও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির পথে ফেরাতে ব্যাংকিং, রাজস্ব ও জ্বালানি খাতে দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন। একই সঙ্গে মানসম্মত কর্মসংস্থান তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলোও দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। প্রবৃদ্ধি নামতে পারে ৩ দশমিক ৪ শতাংশেবিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪ শতাংশ হতে পারে। গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে অনেক কারখানা পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারেনি। কিছু প্রতিষ্ঠান কর্মঘণ্টা কমিয়েছে, আবার কেউ উৎপাদন বন্ধ বা কর্মী ছাঁটাই করেছে।২০২৫-২৬ অর্থবছরে শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ২ শতাংশ। ওই অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে শিল্প উৎপাদন শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। করোনা মহামারির পর কোনো প্রান্তিকে শিল্প খাতে এটিই প্রথম সংকোচন।অর্থনীতির এই ধীরগতির প্রভাব পড়েছে শ্রমবাজারেও। শিল্প ও সেবা খাতে চাকরি হারানো অনেক নারী শ্রমবাজার থেকে সরে গেছেন। ফলে নারীর শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ ২০২২ সালের ৪২ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে ২০২৪ সালে ৩৮ দশমিক ৪ শতাংশে নেমেছে। তবে ২০২৫ সালের পর নতুন শ্রমশক্তি জরিপ না থাকায় সাম্প্রতিক পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া কঠিন বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।টানা চার বছর বাড়ছে দারিদ্র্যবিশ্বব্যাংকের হিসাবে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দৈনিক ৩ ডলারের দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা মানুষের হার ১ দশমিক ১ শতাংশ পয়েন্ট বেড়ে ১০ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ এক বছরে প্রায় ২১ লাখ মানুষ নতুন করে এই দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমেছে।জাতীয় দারিদ্র্যসীমার হিসাবেও পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। ২০২২ সালে দারিদ্র্যের হার ছিল ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ। গত অর্থবছরে তা বেড়ে আনুমানিক ২২ দশমিক ৫ শতাংশ হয়েছে। একই সময়ে আয়বৈষম্যও বেড়েছে।ব্যাংক খাতে বাড়ছে ঝুঁকিবাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য ব্যাংক খাতের দুর্বলতাকে বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখছে বিশ্বব্যাংক। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার ছিল ২০ দশমিক ২ শতাংশ। ২০২৬ সালের জুনে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩ দশমিক ২ শতাংশে।ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের হার ৫৮ দশমিক ৯ শতাংশ এবং রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকে ৪৩ দশমিক ২ শতাংশ। ব্যাংক রেজোল্যুশন আইন ও আমানত সুরক্ষা আইন পাসের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেছে বিশ্বব্যাংক।তবে দুর্বল ব্যাংকগুলোকে বারবার ছাড় ও তারল্য সহায়তা দেওয়ার কারণে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ এবং সমস্যার স্থায়ী সমাধান পিছিয়ে যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি, বাড়ছে ব্যয়বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড লক্ষ্যমাত্রার ৮২ দশমিক ৬ শতাংশ কর আদায় করতে পেরেছে। মোট রাজস্ব জিডিপির ৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮ দশমিক ৩ শতাংশ হয়েছে। এর মধ্যে কর-রাজস্বের পরিমাণ প্রায় ৭ শতাংশ।সীমিত করভিত্তি, কর ফাঁকি, দুর্বল প্রশাসন এবং অতিরিক্ত করছাড় রাজস্ব বাড়ানোর ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে রয়েছে। করনীতি প্রণয়ন ও কর প্রশাসনকে আলাদা করার উদ্যোগও এখন পর্যন্ত কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। সংস্কারে তিন খাতে জোরব্যাংক খাতের সংস্কারে দ্রুত সম্পদের মান যাচাই করে কোন ব্যাংক টিকে থাকার মতো অবস্থায় আছে, তা নির্ধারণের পরামর্শ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। একই সঙ্গে ব্যাংকের মালিক, বিনিয়োগকারী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের লোকসানের দায় নেওয়া এবং নিয়ন্ত্রক ছাড় ধীরে ধীরে বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে।জ্বালানি খাতে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো, এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণ, বিদ্যুতের সঞ্চালন ও বিতরণব্যবস্থা উন্নত করা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্প গ্রহণ ও বিদ্যুৎ কেনার ক্ষেত্রে স্বচ্ছ এবং প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র নিশ্চিত করার কথাও বলেছে সংস্থাটি।রাজস্ব বাড়াতে করনীতি ও কর প্রশাসন পৃথক করা, সরকারি বিভিন্ন সংস্থার তথ্য সমন্বয়ের মাধ্যমে কর ফাঁকি শনাক্ত করা এবং অকার্যকর করছাড় ধাপে ধাপে কমানোর পরামর্শ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।সঠিকভাবে সহায়তা দিলে দারিদ্র্য কমতে পারেবিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সরকারের বর্তমান আর্থিক সহায়তা কর্মসূচির মাত্র ৫৪ শতাংশ প্রকৃত দরিদ্র মানুষ পাচ্ছেন। অর্থাৎ এসব কর্মসূচির বড় একটি অংশ তুলনামূলক সচ্ছল জনগোষ্ঠীর কাছেও পৌঁছে যাচ্ছে।বিশ্বব্যাংকের মতে, খাদ্যভিত্তিক বিভিন্ন ভর্তুকি একত্র করা এবং নগদ সহায়তা কর্মসূচিতে আরও ভালোভাবে উপকারভোগী নির্বাচন করার পাশাপাশি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করা গেলে অতিরিক্ত ২৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে দারিদ্র্যসীমার ওপরে নিয়ে আসা সম্ভব।সীমিত সরকারি অর্থের সর্বোচ্চ সুফল পেতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোকে আরও নির্দিষ্টভাবে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শ্লথ, বাড়ছে দারিদ্র্য, স্থবির কর্মসংস্থান: বিশ্বব্যাংক
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream