ফ্রান্সে গুরুতর ও নিরাময়-অযোগ্য রোগে আক্রান্ত রোগীদের জীবনের শেষ পর্যায়ে চিকিৎসকের সহায়তায় মৃত্যুর সুযোগ দেওয়ার লক্ষ্যে নতুন আইন নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর সরকার এই উদ্যোগকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সংস্কার হিসেবে তুলে ধরছে। সরকারের দাবি, দীর্ঘদিনের আলোচনার পর এই আইন গুরুতর অসুস্থ রোগীদের নিজেদের জীবনের শেষ পর্যায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন আইনি অধিকার দেবে।
প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় সব রোগী এই সুবিধা পাবেন না। নির্দিষ্ট চিকিৎসাগত ও আইনি শর্ত পূরণ করতে হবে এবং রোগীর নিজের ইচ্ছা ও সম্মতির বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীর জীবন দীর্ঘায়িত করার পরিবর্তে, অসহনীয় ও নিরাময়-অযোগ্য অবস্থায় থাকা ব্যক্তিদের জন্য জীবনের শেষ পর্যায়ে একটি বিকল্প তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
মাখোঁ সরকারের মতে, বিষয়টি শুধু স্বাস্থ্যনীতি নয়, বরং ব্যক্তির মর্যাদা, স্বাধীনতা এবং জীবনের শেষ মুহূর্তে নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারের সঙ্গেও যুক্ত। সরকারের পক্ষ থেকে এটিকে ফ্রান্সের সামাজিক ও চিকিৎসা ব্যবস্থায় একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে আইনটি নিয়ে বিরোধিতাও রয়েছে। সমালোচকদের আশঙ্কা, চিকিৎসকের সহায়তায় মৃত্যুর সুযোগ চালু হলে ভবিষ্যতে এর পরিধি আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে বয়স্ক, প্রতিবন্ধী বা দীর্ঘদিন অসুস্থ ব্যক্তিরা সামাজিক কিংবা পারিবারিক চাপের মুখে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিরোধীরা। চিকিৎসকদের একটি অংশও রোগীর জীবন রক্ষার দায়িত্ব এবং মৃত্যুর প্রক্রিয়ায় সহায়তা করার মধ্যে নৈতিক দ্বন্দ্বের বিষয়টি সামনে এনেছেন।
অন্যদিকে আইনটির সমর্থকদের বক্তব্য, কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও একাধিক পর্যায়ের যাচাই থাকলে অপব্যবহারের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। তাদের মতে, দীর্ঘদিন অসহনীয় কষ্টে থাকা এবং আরোগ্যের কোনো সম্ভাবনা না থাকা রোগীদের নিজেদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার থাকা উচিত।
ফ্রান্সে চিকিৎসকের সহায়তায় মৃত্যু নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই দেশটির রাজনীতি, চিকিৎসা মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে। নতুন আইন সেই বিতর্ককে আরও সামনে নিয়ে এসেছে এবং এর বাস্তব প্রয়োগ কীভাবে হবে, তা নিয়ে এখন নজর রয়েছে।
মাখোঁ সরকারের জন্য আইনটি রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি বাস্তবায়িত হলে ফ্রান্সের স্বাস্থ্যনীতি ও রোগীর অধিকার সংক্রান্ত কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আসতে পারে। একই সঙ্গে সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে, নতুন ব্যবস্থার আওতায় থাকা প্রতিটি সিদ্ধান্ত যেন রোগীর স্বাধীন সম্মতি, চিকিৎসাগত প্রয়োজন এবং কঠোর আইনি সুরক্ষার ভিত্তিতে নেওয়া হয়।
মতামত