শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ চান পেজেশকিয়ান


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
| ফটো কার্ড

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ চান পেজেশকিয়ান
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ চান পেজেশকিয়ান

কয়েক মাস ধরে চলমান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান ঘটানোর আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, তেহরান কূটনৈতিক আলোচনায় অচলাবস্থা থাকলেও ‘শক্তিশালী অবস্থানে’ আছে।

ডাক্তারদের এক সমাবেশে শুক্রবার পেজেশকিয়ান বলেন, “আমরা এখন শক্তি ও মর্যাদার অবস্থানে আছি। তাই এখনই যুদ্ধের অবসান ঘটানোই ভালো।”

তিনি বলেন, “আমাদের বিজয় পুরো বিশ্ব স্বীকার করছে এবং জোর দিয়ে বলছে, সব ধরনের আইন ও বিধিবিধান লঙ্ঘন করে আমেরিকা আমাদের স্কুল, হাসপাতাল ও অবকাঠামোয় হামলা চালিয়েছে এবং সারা বিশ্বে ঘৃণিত হয়েছে।”

আল জাজিরা লিখেছে, পেজেশকিয়ানের ক্ষমতা প্রেসিডেন্ট হিসেবে শেষ পর্যন্ত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির কর্তৃত্বের অধীন। এর মধ্যেই পার্লামেন্টের কট্টরপন্থি সমালোচকদের বিরোধিতার মুখে জুনে ওয়াশিংটনের সঙ্গে করা সমঝোতা স্মারকের পক্ষেও অবস্থান নিয়েছেন তিনি। ওই সমালোচকরা অভিযোগ করেছেন, তার সরকার যুক্তরাষ্ট্রকে নানা ছাড় দিয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, “তারা এই চুক্তির এমন একটি ধারাও দেখাতে পারবে না যেটিকে আত্মসমর্পণ হিসেবে গণ্য করা যায়। এতে সব প্রতিশ্রুতিই অপর পক্ষের জন্য প্রযোজ্য।”

ইরানে গেল ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে হামলা করে। তার প্রতিক্রিয়ায় পশ্চিম এশিয়ার যেসব দেশে মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও ঘাঁটি রয়েছে সেসব দেশে হামলা চালায় ইরান। তার পর থেকে একাধিকবার যুদ্ধ বিরতির সমঝোতায় পৌঁছলেও কার্যত যুদ্ধ বন্ধ হয়নি। সর্বশেষ ৬০ দিনের সমঝোতা স্মারক হওয়ার পর স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা শুরু হলেও তা থমকে যায়। এ সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ শেষ হওয়ার কয়েক দিন পরই শুক্রবার ইরানের সামরিক নেতৃত্ব সতর্ক করে বলেছে, নতুন কোনো হুমকি দেখা দিলে পাল্টা হামলা চালাতে তারা প্রস্তুত রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির হুমকির জবাবে ‘বিধ্বংসী’ প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। ইরানের নেতৃত্বকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেওয়ার পর এ হুঁশিয়ারি দেয় তেহরান।

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল আলি আবদোল্লাহি দেশের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে বলেন, “ইরানের জবাব হবে চূড়ান্ত এবং ব্যাপক। স্থল, সমুদ্র, আকাশ, আকাশ প্রতিরক্ষা ও সাইবার ক্ষেত্রে প্রস্তুতি রয়েছে। শত্রুর নতুন হুমকির বিরুদ্ধে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বিধ্বংসী, শাস্তিমূলক ও মারাত্মক জবাব দেবে।”

ওমানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা শুরু করার এবং সমঝোতার লক্ষ্যে অনুকূল পরিবেশ তৈরি করার বিষয়ে শুক্রবার ইরান ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপ হয়েছে।

পাশাপাশি তারা হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলকে প্রভাবিত করা সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেছেন।

গুরুত্বপূর্ণ এ জলপথটির একটি অংশ তেহরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যদিও যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বিরুদ্ধে পাল্টা নৌ অবরোধ আরোপ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম বলছে, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাংশ দিয়ে গোপনে তেলবাহী জাহাজের বহর পরিচালনা ও সেগুলোর নিরাপত্তা দিচ্ছে মার্কিন নৌবাহিনী। এর ফলে প্রতিদিন ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি ব্যারেল তেল রপ্তানি সম্ভব হচ্ছে।

ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের আলোচনায় বসার আগ্রহ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের সুযোগ সীমিত হয়ে এসেছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এর মানে হল, আমরা পরিস্থিতি কী দাঁড়ায়, তা দেখছি।”

ডনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে পুরো অঞ্চলেই আমাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, যার মধ্যে স্থলভাগের অনেকটা এলাকাও পড়ে। তাই তারা একটি চুক্তি করতে চায়, কিন্তু আমার মতে, তারা সঠিক চুক্তিতে যেতে এখনও প্রস্তুত নয়।”

এর আগে বৃহস্পতিবার মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, ইরানের ওপর ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর আর্থিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।

একইসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পও সতর্ক করে বলেন, কোনও দেশ ইরানকে যে কোনও ধরনের সহায়তা করলে তাদেরও অর্থনৈতিক শাস্তির মুখে পড়তে হবে। নতুন নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত সোমবার জানানো হবে বলে জানিয়েছিলেন বেসেন্ট।

বিষয় : যুক্তরাষ্ট্র তেহরান পেজেশকিয়ান

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬


যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ চান পেজেশকিয়ান

প্রকাশের তারিখ : ২২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

কয়েক মাস ধরে চলমান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান ঘটানোর আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, তেহরান কূটনৈতিক আলোচনায় অচলাবস্থা থাকলেও ‘শক্তিশালী অবস্থানে’ আছে।

ডাক্তারদের এক সমাবেশে শুক্রবার পেজেশকিয়ান বলেন, “আমরা এখন শক্তি ও মর্যাদার অবস্থানে আছি। তাই এখনই যুদ্ধের অবসান ঘটানোই ভালো।”

তিনি বলেন, “আমাদের বিজয় পুরো বিশ্ব স্বীকার করছে এবং জোর দিয়ে বলছে, সব ধরনের আইন ও বিধিবিধান লঙ্ঘন করে আমেরিকা আমাদের স্কুল, হাসপাতাল ও অবকাঠামোয় হামলা চালিয়েছে এবং সারা বিশ্বে ঘৃণিত হয়েছে।”

আল জাজিরা লিখেছে, পেজেশকিয়ানের ক্ষমতা প্রেসিডেন্ট হিসেবে শেষ পর্যন্ত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির কর্তৃত্বের অধীন। এর মধ্যেই পার্লামেন্টের কট্টরপন্থি সমালোচকদের বিরোধিতার মুখে জুনে ওয়াশিংটনের সঙ্গে করা সমঝোতা স্মারকের পক্ষেও অবস্থান নিয়েছেন তিনি। ওই সমালোচকরা অভিযোগ করেছেন, তার সরকার যুক্তরাষ্ট্রকে নানা ছাড় দিয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, “তারা এই চুক্তির এমন একটি ধারাও দেখাতে পারবে না যেটিকে আত্মসমর্পণ হিসেবে গণ্য করা যায়। এতে সব প্রতিশ্রুতিই অপর পক্ষের জন্য প্রযোজ্য।”

ইরানে গেল ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে হামলা করে। তার প্রতিক্রিয়ায় পশ্চিম এশিয়ার যেসব দেশে মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও ঘাঁটি রয়েছে সেসব দেশে হামলা চালায় ইরান। তার পর থেকে একাধিকবার যুদ্ধ বিরতির সমঝোতায় পৌঁছলেও কার্যত যুদ্ধ বন্ধ হয়নি। সর্বশেষ ৬০ দিনের সমঝোতা স্মারক হওয়ার পর স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা শুরু হলেও তা থমকে যায়। এ সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ শেষ হওয়ার কয়েক দিন পরই শুক্রবার ইরানের সামরিক নেতৃত্ব সতর্ক করে বলেছে, নতুন কোনো হুমকি দেখা দিলে পাল্টা হামলা চালাতে তারা প্রস্তুত রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির হুমকির জবাবে ‘বিধ্বংসী’ প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। ইরানের নেতৃত্বকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেওয়ার পর এ হুঁশিয়ারি দেয় তেহরান।

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল আলি আবদোল্লাহি দেশের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে বলেন, “ইরানের জবাব হবে চূড়ান্ত এবং ব্যাপক। স্থল, সমুদ্র, আকাশ, আকাশ প্রতিরক্ষা ও সাইবার ক্ষেত্রে প্রস্তুতি রয়েছে। শত্রুর নতুন হুমকির বিরুদ্ধে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বিধ্বংসী, শাস্তিমূলক ও মারাত্মক জবাব দেবে।”

ওমানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা শুরু করার এবং সমঝোতার লক্ষ্যে অনুকূল পরিবেশ তৈরি করার বিষয়ে শুক্রবার ইরান ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপ হয়েছে।

পাশাপাশি তারা হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলকে প্রভাবিত করা সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেছেন।

গুরুত্বপূর্ণ এ জলপথটির একটি অংশ তেহরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যদিও যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বিরুদ্ধে পাল্টা নৌ অবরোধ আরোপ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম বলছে, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাংশ দিয়ে গোপনে তেলবাহী জাহাজের বহর পরিচালনা ও সেগুলোর নিরাপত্তা দিচ্ছে মার্কিন নৌবাহিনী। এর ফলে প্রতিদিন ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি ব্যারেল তেল রপ্তানি সম্ভব হচ্ছে।

ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের আলোচনায় বসার আগ্রহ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের সুযোগ সীমিত হয়ে এসেছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এর মানে হল, আমরা পরিস্থিতি কী দাঁড়ায়, তা দেখছি।”

ডনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে পুরো অঞ্চলেই আমাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, যার মধ্যে স্থলভাগের অনেকটা এলাকাও পড়ে। তাই তারা একটি চুক্তি করতে চায়, কিন্তু আমার মতে, তারা সঠিক চুক্তিতে যেতে এখনও প্রস্তুত নয়।”

এর আগে বৃহস্পতিবার মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, ইরানের ওপর ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর আর্থিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।

একইসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পও সতর্ক করে বলেন, কোনও দেশ ইরানকে যে কোনও ধরনের সহায়তা করলে তাদেরও অর্থনৈতিক শাস্তির মুখে পড়তে হবে। নতুন নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত সোমবার জানানো হবে বলে জানিয়েছিলেন বেসেন্ট।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream