নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় চুলার আগুন থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দুটি বসতবাড়ির সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এ ঘটনায় দুটি পরিবারের বসতঘর, আসবাবপত্র ও ঘরে থাকা মালামালসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আগুনে দুটি গরু ও তিনটি ছাগল পুড়ে মারা গেছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার ৫নং মাঝগাঁও ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের মাদাইমুরী দক্ষিণপাড়া গ্রামে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির মালিকরা হলেন, ওই গ্রামের মোঃ মমিন হোসেন (৫০), পিতা ছপির উদ্দীন এবং সাবদুল সরদার, পিতা মোঃ আবুল হোসেন সরদার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরের দিকে একটি বাড়ির রান্নার চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশাপাশি থাকা দুটি বসতবাড়িতে। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, পরিবারের সদস্যরা ঘরের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাননি। একপর্যায়ে দুটি বাড়ির সবকিছু আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। প্রায় ৩০ মিনিটের চেষ্টায় স্থানীয় এলাকাবাসীর সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ততক্ষণে দুটি পরিবারের ঘরবাড়ি ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অগ্নিকাণ্ডে মমিন হোসেনের আনুমানিক ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে সাবদুল সরদারের প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে প্রাথমিকভাবে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৭ লাখ টাকা। এ ছাড়া আগুনে দুটি গরু ও তিনটি ছাগল মারা যাওয়ায় পরিবার দুটি আরও বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
হঠাৎ এই অগ্নিকাণ্ডে পরিবার দুটির স্বপ্ন ও দীর্ঘদিনের কষ্টার্জিত সম্পদ মুহূর্তেই ধ্বংস হয়ে গেছে। বসতবাড়ি হারিয়ে তারা এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় এলাকাবাসী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার দুটির পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দ্রুত সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
মতামত