দৈনিক জনবাণী পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত দুটি প্রতিবেদনকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর দাবি করে পত্রিকাটির সম্পাদক, মফস্বল বার্তা সম্পাদক এবং উজিরপুর উপজেলা প্রতিনিধিকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন সাংবাদিক মোঃ মাহফুজুর রহমান মাসুম।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) তাঁর পক্ষে বরিশাল জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নুপুর রানী ভদ্র এ আইনি নোটিশ পাঠান।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, গত ২৩ সেপ্টেম্বর দৈনিক জনবাণীর অনলাইন সংস্করণে ‘দালাল মাসুমের অপকর্ম—রূপায়ণ সাংস্কৃতিক সংঘে নামে সরকারি টাকা হরিলুট’ এবং ২৪ সেপ্টেম্বর ‘দালালের অপকর্ম পর্ব-২—উজিরপুরে স্বৈরাচারের দোসর মোস্তফার রক্ষাকবচ মাসুম’ শিরোনামে দুটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
নোটিশে দাবি করা হয়েছে, এসব প্রতিবেদনে সাংবাদিক মাসুমকে ‘দালাল’ ও ‘রক্ষাকবচ’ হিসেবে আখ্যায়িত করার পাশাপাশি সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, আর্থিক অনিয়ম, ব্যবসা দখল, রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন এবং ঠিকাদারদের ওপর প্রভাব বিস্তারসহ বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে।
আইনি নোটিশে বলা হয়, এসব অভিযোগের সমর্থনে নির্দিষ্ট সরকারি নথি, নিরীক্ষা প্রতিবেদন, তদন্ত প্রতিবেদন, আদালতের রায় কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত উপস্থাপন করা হয়নি। ফলে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর মাধ্যমে তাঁর সামাজিক, ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, মোঃ মাহফুজুর রহমান মাসুম দৈনিক আমার দেশ ও বৈশাখী টেলিভিশনের উজিরপুর উপজেলা প্রতিনিধি, মেসার্স আভা কংক্রিট ব্রিকস অ্যান্ড ব্লক ফ্যাক্টরির নির্বাহী পরিচালক ও হেড অব মার্কেটিং এবং উজিরপুর রূপায়ণ সাংস্কৃতিক সংঘের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রকাশিত সংবাদে উত্থাপিত অভিযোগগুলোকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে তিনি জানান, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ কিংবা প্রতিবেদনে উল্লেখিত কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তিনি জড়িত নন।
আইনি নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে, গুরুতর অভিযোগ প্রকাশের আগে তাঁর বক্তব্য গ্রহণের যথাযথ সুযোগ দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি প্রকাশিত প্রতিবেদনেও তাঁর বক্তব্য যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি।
নোটিশের মাধ্যমে সাত দিনের মধ্যে প্রকাশিত দুটি প্রতিবেদন অনলাইনসহ সংশ্লিষ্ট সব মাধ্যম থেকে প্রত্যাহার, একই গুরুত্ব ও দৃশ্যমানতায় প্রতিবাদ ও সংশোধনী প্রকাশ, প্রকাশ্যে নিঃশর্ত লিখিত ক্ষমা প্রার্থনা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত থাকার দাবি জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া তাঁর পেশাগত ও সামাজিক সুনামহানির জন্য আইনসম্মত ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিষয়ে লিখিত প্রতিকারমূলক প্রস্তাব এবং সংবাদ প্রকাশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব তথ্য-উপাত্ত সংরক্ষণের দাবিও জানানো হয়েছে।
নির্ধারিত সাত দিনের মধ্যে যথাযথ প্রতিকার না পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে দেওয়ানি ও ফৌজদারি প্রতিকারসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
৫ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে জারি করা এ আইনি নোটিশে প্রাপক হিসেবে দৈনিক জনবাণীর সম্পাদক, মফস্বল বার্তা সম্পাদক এবং পত্রিকাটির উজিরপুর উপজেলা প্রতিনিধি মোহাম্মদ এমদাদুল কাশেম সেন্টুর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
মতামত