বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

আর্জেন্টিনার বিশ্বরেকর্ড ভাঙল ব্রাজিল


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

আর্জেন্টিনার বিশ্বরেকর্ড ভাঙল ব্রাজিল
ছবি: সংগৃহীত

ফুটবল মাঠে লাল কার্ড দেখার ঘটনা নতুন নয়। তবে একটি ম্যাচে ৫৩টি লাল কার্ড! অবিশ্বাস্য মনে হলেও এমনই এক নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী হলো ব্রাজিলের ফুটবল। অনূর্ধ্ব-২০ পর্যায়ের একটি ম্যাচে দুই দলের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও কর্মকর্তাদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের জেরে রেফারিকে দেখাতে হয়েছে মোট ৫৩টি লাল কার্ড। এর মধ্য দিয়ে ভেঙে গেছে আর্জেন্টিনার গড়া আগের বিশ্বরেকর্ড।

গত রবিবার ব্রাজিলের মিনাস গেরাইস রাজ্যে উবারলান্ডিয়া ও মামোরের মধ্যে রাজ্য চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালের প্রথম লেগে এ ঘটনা ঘটে। ম্যাচের শুরুতে সবকিছু স্বাভাবিক থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে এক খেলোয়াড়কে লাল কার্ড দেখানোর পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

ইএসপিএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে উবারলান্ডিয়ার এক খেলোয়াড়কে মাঠ থেকে বহিষ্কার করেন রেফারি ফার্নান্দো প্যাট্রিক দ্রোসঘিচ মোদেস্তো। এর প্রতিবাদে উবারলান্ডিয়ার বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা মাঠে প্রবেশ করেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ফলে প্রায় ৪০ মিনিট বন্ধ রাখতে হয় খেলা।

পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে আবারও শুরু হয় ম্যাচ। অতিরিক্ত সময়ের নবম মিনিটে গোল করে মামোরেকে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন দলের খেলোয়াড়রা। তবে সেই গোল উদ্‌যাপনই নতুন করে সংঘর্ষের জন্ম দেয়। 

ব্রাজিলের গোল উদ্‌যাপনের সময় মামোরের খেলোয়াড় দাভি প্রতিপক্ষ উবারলান্ডিয়ার খেলোয়াড়দের উদ্দেশে উসকানিমূলক আচরণ করেন। এতে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। মুহূর্তেই তা রূপ নেয় বড় ধরনের সংঘর্ষে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে একের পর এক লাল কার্ড দেখাতে থাকেন রেফারি। সব মিলিয়ে ৪৩ জন খেলোয়াড় এবং কোচিং স্টাফের আট সদস্যকে বহিষ্কার করা হয়। পাশাপাশি উবারলান্ডিয়া ক্লাবের পরিচালনা পর্ষদের দুজন সদস্যকেও লাল কার্ড দেখানো হয়। এভাবে এক ম্যাচেই লাল কার্ডের সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৩-তে।

রেফারি ফার্নান্দো প্যাট্রিক ড্রসঘিচ মোদেস্তোর প্রতিবেদন অনুসারে, দ্বিতীয়ার্ধের ৫৪তম মিনিটে ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে লাল কার্ড দেখানোর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা এবং ম্যাচ শেষ করার নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করাও অসম্ভব হয়ে পড়ে। খেলোয়াড় ও সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি সমাপ্ত ঘোষণা করেন তিনি।

এ ঘটনায় শুধু মাঠের মধ্যেই বিশৃঙ্খলা সীমাবদ্ধ থাকেনি। রেফারিকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এ ছাড়া ম্যাচ শেষে মামোরের খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে ড্রেসিংরুমে ভাঙচুরের অভিযোগও উঠেছে।

এদিকে ঘটনার পর বুধবার উবারলান্ডিয়া ক্লাব সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগ থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেওয়ার ঘোষণা দেয়। ক্লাবটির দাবি, ন্যায্য খেলার আদর্শ ও ক্রীড়াসুলভ আচরণের স্বার্থেই তারা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় দলের পর্যাপ্ত যোগ্য খেলোয়াড় না থাকাও প্রত্যাহারের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফলে দ্বিতীয় লেগে উবারলান্ডিয়া মাঠে না নামায় ওয়াকওভার পেয়ে টুর্নামেন্টের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে মামোরে।

ক্লাবটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণভাবে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তারা জানান, খেলার উন্নয়নের পাশাপাশি ব্যক্তিগত চরিত্র ও শৃঙ্খলার বিকাশও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

উল্লেখ্য, এর আগে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ লাল কার্ড দেখানোর বিশ্বরেকর্ড ছিল ৩৬টি। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে আর্জেন্টিনার পঞ্চম বিভাগের একটি ম্যাচে অ্যাটলেটিকো ক্লেপোল ও ভিক্টোরিয়ানো আরেনাসের খেলোয়াড়দের মধ্যে সংঘর্ষের পর এই রেকর্ড গড়েছিল। এবার ব্রাজিলের ম্যাচে ৫৩টি লাল কার্ড দেখানোর ঘটনায় সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে গেল।

সূত্র: ইএসপিএন

বিষয় : আর্জেন্টিনা ব্রাজিল লাল কার্ড বিশ্বরেকর্ড

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬


আর্জেন্টিনার বিশ্বরেকর্ড ভাঙল ব্রাজিল

প্রকাশের তারিখ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

ফুটবল মাঠে লাল কার্ড দেখার ঘটনা নতুন নয়। তবে একটি ম্যাচে ৫৩টি লাল কার্ড! অবিশ্বাস্য মনে হলেও এমনই এক নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী হলো ব্রাজিলের ফুটবল। অনূর্ধ্ব-২০ পর্যায়ের একটি ম্যাচে দুই দলের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও কর্মকর্তাদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের জেরে রেফারিকে দেখাতে হয়েছে মোট ৫৩টি লাল কার্ড। এর মধ্য দিয়ে ভেঙে গেছে আর্জেন্টিনার গড়া আগের বিশ্বরেকর্ড।

গত রবিবার ব্রাজিলের মিনাস গেরাইস রাজ্যে উবারলান্ডিয়া ও মামোরের মধ্যে রাজ্য চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালের প্রথম লেগে এ ঘটনা ঘটে। ম্যাচের শুরুতে সবকিছু স্বাভাবিক থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে এক খেলোয়াড়কে লাল কার্ড দেখানোর পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

ইএসপিএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে উবারলান্ডিয়ার এক খেলোয়াড়কে মাঠ থেকে বহিষ্কার করেন রেফারি ফার্নান্দো প্যাট্রিক দ্রোসঘিচ মোদেস্তো। এর প্রতিবাদে উবারলান্ডিয়ার বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা মাঠে প্রবেশ করেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ফলে প্রায় ৪০ মিনিট বন্ধ রাখতে হয় খেলা।

পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে আবারও শুরু হয় ম্যাচ। অতিরিক্ত সময়ের নবম মিনিটে গোল করে মামোরেকে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন দলের খেলোয়াড়রা। তবে সেই গোল উদ্‌যাপনই নতুন করে সংঘর্ষের জন্ম দেয়। 

ব্রাজিলের গোল উদ্‌যাপনের সময় মামোরের খেলোয়াড় দাভি প্রতিপক্ষ উবারলান্ডিয়ার খেলোয়াড়দের উদ্দেশে উসকানিমূলক আচরণ করেন। এতে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। মুহূর্তেই তা রূপ নেয় বড় ধরনের সংঘর্ষে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে একের পর এক লাল কার্ড দেখাতে থাকেন রেফারি। সব মিলিয়ে ৪৩ জন খেলোয়াড় এবং কোচিং স্টাফের আট সদস্যকে বহিষ্কার করা হয়। পাশাপাশি উবারলান্ডিয়া ক্লাবের পরিচালনা পর্ষদের দুজন সদস্যকেও লাল কার্ড দেখানো হয়। এভাবে এক ম্যাচেই লাল কার্ডের সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৩-তে।

রেফারি ফার্নান্দো প্যাট্রিক ড্রসঘিচ মোদেস্তোর প্রতিবেদন অনুসারে, দ্বিতীয়ার্ধের ৫৪তম মিনিটে ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে লাল কার্ড দেখানোর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা এবং ম্যাচ শেষ করার নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করাও অসম্ভব হয়ে পড়ে। খেলোয়াড় ও সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি সমাপ্ত ঘোষণা করেন তিনি।

এ ঘটনায় শুধু মাঠের মধ্যেই বিশৃঙ্খলা সীমাবদ্ধ থাকেনি। রেফারিকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এ ছাড়া ম্যাচ শেষে মামোরের খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে ড্রেসিংরুমে ভাঙচুরের অভিযোগও উঠেছে।

এদিকে ঘটনার পর বুধবার উবারলান্ডিয়া ক্লাব সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগ থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেওয়ার ঘোষণা দেয়। ক্লাবটির দাবি, ন্যায্য খেলার আদর্শ ও ক্রীড়াসুলভ আচরণের স্বার্থেই তারা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় দলের পর্যাপ্ত যোগ্য খেলোয়াড় না থাকাও প্রত্যাহারের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফলে দ্বিতীয় লেগে উবারলান্ডিয়া মাঠে না নামায় ওয়াকওভার পেয়ে টুর্নামেন্টের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে মামোরে।

ক্লাবটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণভাবে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তারা জানান, খেলার উন্নয়নের পাশাপাশি ব্যক্তিগত চরিত্র ও শৃঙ্খলার বিকাশও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

উল্লেখ্য, এর আগে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ লাল কার্ড দেখানোর বিশ্বরেকর্ড ছিল ৩৬টি। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে আর্জেন্টিনার পঞ্চম বিভাগের একটি ম্যাচে অ্যাটলেটিকো ক্লেপোল ও ভিক্টোরিয়ানো আরেনাসের খেলোয়াড়দের মধ্যে সংঘর্ষের পর এই রেকর্ড গড়েছিল। এবার ব্রাজিলের ম্যাচে ৫৩টি লাল কার্ড দেখানোর ঘটনায় সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে গেল।

সূত্র: ইএসপিএন


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream