বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
কৃষ্ণসাগরে হামলা, গম সরবরাহে বিকল্প পথে আমদানিকারকেরা

কৃষ্ণসাগরে হামলা, গম সরবরাহে বিকল্প পথে আমদানিকারকেরা

কৃষ্ণসাগর অঞ্চল থেকে আসা গমের চালান জাহাজ ও শস্য রপ্তানি অবকাঠামোয় হামলার কারণে বিলম্বিত হচ্ছে। ফলে এশিয়ার গম আমদানিকারকেরা বিকল্প সরবরাহ নিশ্চিত করতে সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া ও আর্জেন্টিনা থেকে অন্তত ৫ লাখ মেট্রিক টন গম কেনার চুক্তি করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনটি বাণিজ্যিক সূত্র। রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম গম আমদানিকারক ইন্দোনেশিয়াসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের আমদানিকারকেরা বিকল্প উৎস থেকে গম কিনতে আগের তুলনায় অনেক বেশি দাম দিচ্ছেন। কারণ, এসব দেশের কয়েকটি তাদের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে গম আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। আন্তর্জাতিক একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের এশিয়াভিত্তিক এক ব্যবসায়ী—যার প্রতিষ্ঠান এ অঞ্চলের ময়দা ও আটা উৎপাদনকারীদের গম সরবরাহ করে—বলেন, গত এক সপ্তাহ থেকে ১০ দিনের মধ্যে জরুরি চাহিদা পূরণে অস্ট্রেলিয়া ও আর্জেন্টিনার গম কেনার বেশ কিছু বড় আকারের চুক্তি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে যেসব চালান এখনো পৌঁছায়নি, সেগুলোর পরিবর্তে আমদানিকারকরা বিকল্প চালান নেওয়ার চেষ্টা করছেন।’ রাশিয়া ও ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বন্দর ও জাহাজে হামলার কারণে শস্য টার্মিনালগুলোর কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে গম আমদানিকারকরা সরবরাহ সংকটের মুখে পড়েছেন। রপ্তানি মৌসুমের সবচেয়ে ব্যস্ত সময়ে এসে এই পরিস্থিতিতে কয়েক ডজন গমের চালান পাঠানো বিলম্বিত হয়েছে বা বাতিল করতে হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কৃষিপণ্য বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান এডিএম গত বুধবার জানায়, ৩১ আগস্ট একটি ড্রোন হামলায় ইউক্রেনের কৃষ্ণসাগরীয় বন্দর ওদেসায় তাদের ইউইপি শস্য টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ার প্রিমিয়াম হোয়াইট গমের জন্য ক্রেতারা প্রতি টনে প্রায় ৩১৫ থেকে ৩৩০ ডলার দাম দিয়েছেন। এই দামের মধ্যে পণ্য ও পরিবহন খরচ, অর্থাৎ কস্ট অ্যান্ড ফ্রেইট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার গমের চুক্তি হয়েছে প্রতি টনে প্রায় ৩১০ থেকে ৩১৫ ডলারে। এই দাম আগস্ট-সেপ্টেম্বর সময়ে পৌঁছানোর কথা থাকা বেশিরভাগ কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের গমের চালানের দামের তুলনায় অনেক বেশি। ওই চালানগুলো সাধারণত প্রতি টনে প্রায় ২৬০ থেকে ২৮০ ডলারে বুক করা হয়েছিল। শিকাগো বোর্ড অব ট্রেড বা সিবিওটি-তে গমের বেঞ্চমার্ক ফিউচার জুনের শেষ দিক থেকে প্রায় ৩৫ শতাংশ বেড়েছে। এর প্রধান কারণ কৃষ্ণসাগর অঞ্চল থেকে গম সরবরাহে ঘাটতি। একই সঙ্গে আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী রপ্তানিকারক দেশগুলোর গমের নগদ বাজারের দামও বেড়েছে। গত মঙ্গলবার সিবিওটির গমের দাম সাড়ে তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। এর পেছনে ছিল মস্কো কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে হামলা বন্ধে একটি সাময়িক স্থগিতাদেশ বা মোরাটোরিয়াম প্রত্যাখ্যান করেছে এমন খবর এবং রাতভর ইউক্রেনের বন্দর অবকাঠামোয় হামলা চালানোর ঘটনা। এশিয়ার শস্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরবরাহের জন্য প্রায় ২০ লাখ থেকে ২৫ লাখ টন কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের গম বুক করেছে। এই পরিমাণ এশিয়ার মোট আমদানি চাহিদার প্রায় ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ। তবে ক্রমবর্ধমান জাহাজ চলাচলের বিলম্বের কারণে উদ্বেগ বাড়ছে যে, বুক করা গমের একটি অংশ হয়তো শেষ পর্যন্ত ক্রেতাদের কাছে পৌঁছাবে না। ইন্দোনেশিয়া ছাড়াও বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা কৃষ্ণসাগর অঞ্চল থেকে গম আমদানি করে। এদিকে, ক্রেতারা অস্ট্রেলিয়া ও আর্জেন্টিনা থেকে বড় পরিমাণে গম নিশ্চিত করলেও তাৎক্ষণিক চাহিদা মেটাতে কেউ কেউ কনটেইনারে করে গম আনার পথও বেছে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এশিয়াভিত্তিক দ্বিতীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘কিছু ময়দা উৎপাদনকারী কনটেইনারে গম আনা পছন্দ করছেন। কারণ তারা সরবরাহকারীদের সঙ্গে কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের চালান আরও কিছুদিন দেরিতে নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘তারা বেশি দামের গমের প্রতি অতিরিক্ত ঝুঁকি নিতে চান না। তাই তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটাতে তারা কনটেইনারে করে গম আনছেন।’

মেসির পর নেতৃত্বের আর্মব্যান্ড রোমেরোর হাতে

আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের নেতৃত্বে পরিবর্তন আসছে লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বলার পর। ক্রিস্তিয়ান রোমেরো মেসির উত্তরসূরি হিসেবে স্থায়ী অধিনায়ক হতে যাচ্ছেন। ইএসপিএনের সাংবাদিক এস্তেবান এদুলের বরাতে এমন খবর প্রকাশিত হয়েছে। আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তির পর রোমেরোকেই এগিয়ে রাখা হচ্ছে নেতৃত্বের জন্য। যদিও আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন অধিনায়কের নাম ঘোষণা করেনি। মেসি নিয়মিত অধিনায়ক থাকা অবস্থাতেই রোমেরো নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা পেয়েছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে চিলির বিপক্ষে ম্যাচে প্রথমবার আর্জেন্টিনাকে নেতৃত্ব দেন তিনি। শারীরিক অস্বস্তির কারণে সেদিন মেসি বেঞ্চে ছিলেন। রোমেরোর নেতৃত্বে ম্যাচটি ১-০ গোলে জেতে আর্জেন্টিনা। পরবর্তী সময়ে ভেনেজুয়েলা ও মৌরিতানিয়ার বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচেও অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পরেছেন এই ডিফেন্ডার। ফলে মেসি-পরবর্তী সময়ে তাকেই নেতৃত্বে দেখার সম্ভাবনা আগে থেকেই তৈরি হয়েছিল। ২৮ বছর বয়সী রোমেরোর জাতীয় দলে অভিষেক ২০২১ কোপা আমেরিকার আগে চিলির বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে। এরপর লিওনেল স্কালোনির দলের রক্ষণভাগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে ওঠেন তিনি। এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনার হয়ে খেলেছেন ৫৮ ম্যাচ, গোল করেছেন চারটি। রোমেরোর জাতীয় দল অধ্যায়েই আর্জেন্টিনা জিতেছে ২০২১ ও ২০২৪ কোপা আমেরিকা, ২০২২ বিশ্বকাপ এবং ফিনালিসিমা। মেসি, অ্যাঞ্জেল দি মারিয়া, নিকোলাস ওতামেন্দিদের প্রজন্মের পর এবার নতুন নেতৃত্বের কেন্দ্রবিন্দু হতে পারেন রোমেরো। ২৮ বছর বয়সে অধিনায়কত্ব পেলে সামনে দীর্ঘ সময় নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ থাকবে তার। ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত আর্জেন্টিনাকে নেতৃত্ব দেওয়ার সম্ভাবনাও থাকছে এই টটেনহাম ডিফেন্ডারের সামনে। তবে আপাতত বিষয়টি নিশ্চিত নয়। এএফএর আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায় থাকতে হবে। একাধিক প্রতিবেদনে অবশ্য মেসির পর স্থায়ী অধিনায়ক হিসেবে রোমেরোকেই সবচেয়ে এগিয়ে রাখা হয়েছে।

মেসির পর নেতৃত্বের আর্মব্যান্ড রোমেরোর হাতে

বাবার শেষকৃত্যে যোগ দিতে রোজারিওতে মেসি

বাবাকে শেষবিদায় জানাতে নিজ শহর আর্জেন্টিনার রোজারিওতে ফিরেছেন লিওনেল মেসি। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর স্থানীয় সময় শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে মারা যান মেসির বাবা হোর্হে মেসি। শনিবার (৮ আগস্ট) তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে। কঠিন এই সময়ে পরিবারের পাশে থাকতে ইন্টার মায়ামির কাছ থেকে ছুটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আর্জেন্টিনায় পৌঁছান আর্জেন্টাইন মহাতারকা।ক্যারিয়ারের শুরু থেকে মেসির ফুটবলযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল হোর্হে মেসির। বাবার শেষবিদায়ে রোজারিওতে ফিরে মেসি মা সেলিয়া ও পরিবারের অন্য সদস্যদেরও পাশে দাঁড়িয়েছেন। স্থানীয় সময় সকালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে রওনা দিয়ে রাত ৮টার কিছু পর রোজারিওতে পৌঁছান তিনি। ৬৮ বছর বয়সী হোর্হে মেসি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। রোজারিওর কাছের শহর পেরেজে তাকে সমাহিত করা হবে।মেসির বাবার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ফুটবল বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শোকবার্তা এসেছে। মেসির সাবেক ক্লাব বার্সেলোনা, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ, নিজ শহরের রোসারিও সেন্ট্রাল ও নিউয়েলস ওল্ড বয়েজসহ বিভিন্ন ক্লাব ও সংগঠন তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। এদিকে মেসিকে এবং তার পরিবারের প্রতি শোকবার্তা জানাতে ভোলেনি তার বর্তমান ক্লাব ইন্টার মায়ামি। বিভিন্নভাবে পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন ক্লাব সতীর্থরাও। হোর্হের মৃত্যুর দিনে তারকা খেলোয়াড়কে ছাড়াই লিগস কাপে মন্টেরির বিপক্ষে মাঠে নামে ইন্টার মায়ামি। ম্যাচের আগে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। গ্যালারিতে সমর্থকেরাও ‘ফোর্সা, লিও’ অর্থাৎ ‘শক্ত থাকো, লিও’ লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে মেসির প্রতি সমর্থন জানান। এরপর রদ্রিগো ডি পলের গোলে লিড নেয় ইন্টার মায়ামি। বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত এক শটে গোল করেন এই আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার। গোলের পরপরই জার্সি খুলে নিচে পরা মেসির ১০ নম্বর জার্সি দেখান তিনি। ডি পল গোলটি উৎসর্গ করেন জাতীয় দল এবং ক্লাব অধিনায়ক মেসিকে। 

বাবার শেষকৃত্যে যোগ দিতে রোজারিওতে মেসি

ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের বল উঠছে নিলামে

ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল। ১৯৮৬ সালে  বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার হয়ে ডিয়েগো ম্যারাডোনার করা বিতর্কিত সেই  গোল আজও সমানভাবে স্মরণীয়। গোলটির পর ম্যারাডোনা বলেছিলেন, এটি হয়েছিল ‘কিছুটা ম্যারাডোনার মাথা দিয়ে, আর কিছুটা ঈশ্বরের হাত দিয়ে’। এবার সেই ঐতিহাসিক গোলের সাক্ষী বলটি উঠতে যাচ্ছে নিলামে।যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসভিত্তিক নিলাম প্রতিষ্ঠান ‘হেরিটেজ অকশনস’ আগামী ২১ থেকে ২৩ আগস্ট বলটির নিলামের আয়োজন করবে। প্রতিষ্ঠানটির ধারণা, নিলামে বলটির দাম আট অঙ্কে পৌঁছাতে পারে, অর্থাৎ কমপক্ষে ১ কোটি ডলার বা প্রায় ১২৩ কোটি টাকা। তবে নিলামে বলটির ভিত্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩০ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।হেরিটেজ অকশনস’-এর ক্রীড়া বিভাগের সহসভাপতি ড্যান ইমলার বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, ‘আমার মনে হয় এটি ফুটবল বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে স্মরণীয় বল।’ ইমলারের দেওয়া আরেকটি তথ্য অবশ্য বলটির গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সেই ম্যাচে ম্যারাডোনার দ্বিতীয় গোলটিও হয়েছিল এই বল দিয়েই।১৯৮৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে ম্যারাডোনা অবিস্মরণীয় ও আলোচিত দুটি গোল করেন। ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল ছাড়াও তিনি ইংল্যান্ডের পাঁচজন ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষককে বোকা বানিয়ে আরেকটি গোল করেন, যা গোল অব দ্য সেঞ্চুরি নামে পরিচিত।সেই ম্যাচে ম্যারাডোনা যে জার্সি পরেছিলেন, সেটিও পরে ইতিহাস গড়েছে। নিলামে সেই জার্সির দাম উঠেছিল ৯৩ লাখ ডলার, অর্থাৎ প্রায় ১১৫ কোটি টাকা। ফুটবলে এটিই সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হওয়া জার্সির রেকর্ড।

ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের বল উঠছে নিলামে
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream