কুড়িগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সামনে ধরলা নদীর ভয়াবহ ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন নদীভাঙনকবলিত এলাকার শতাধীক মানুষ।
বৃহ:বার (২০ আগস্ট) সকাল ১১টায় কুড়িগ্রাম জেলার উন্নয়ন বোর্ডের সামনে ফুলবাড়ী উপজেলার ৪ নম্বর বড়ভিটা ইউনিয়নের ১ নম্বর চর মেখলী ওয়ার্ডের স্থানীয় জনগণের আয়োজনে এবং অ্যাক্টিভিস্টা কুড়িগ্রামের সহযোগিতায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে ভুক্তভোগীরা বলেন, ধরলা নদীর ভাঙনে ইতোমধ্যে তাদের বসতভিটা, আবাদি জমিসহ শত শত বিঘা জমি নদীগর্ভে বিলীন সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ধর্মীয় মসজিদ হুমকির মুখে পরেছে। প্রতি বছর ভাঙনে নতুন নতুন এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা না হলে অবশিষ্ট ঘরবাড়ি ও সম্পদও হারিয়ে নিঃস্ব হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে তাদের।
তারা আরও বলেন, পাশের লালমনিরহাট জেলার উপজেলা এবং কুড়িগ্রাম জেলার তিনটি উপজেলায় এই নদী সংযুক্ত রয়েছে তাদের এলাকায় বাঁধ নির্মাণ করা হলেও শুধুমাত্র ফুলবাড়ী উপজেলার চর মেখলীসহ এ অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এমন সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তাই বৈষম্য দূর করে জরুরি ভিত্তিতে ধরলা নদীর তীর রক্ষায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানান তারা।
‘অ্যাক্টিভিস্টা কুড়িগ্রাম এর প্রতিনিধি আরজু খাতুন বলেন, চর মেখলী একটি অবহেলিত এলাকা। নদীভাঙন রোধে এখানে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা জরুরি। সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
কুড়িগ্রাম হাব এর সাধারণ সম্পাদক এম রশিদ আলী বলেন একই নদীর চার উপজেলায় বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছড়িয়ে পড়লেও নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়া তিন উপজেল স্থায়ী বাদ হলেও উপজেলা কোন ধরনের কোন বাঁধবা নেওয়া হয়নি আমরা চাই দ্রুত স্থায়ী বাদক।
১ নম্বর চর মেখলী ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ইলিয়াস আলী বলেন, নির্বাচনের সময় তিনি এলাকার মানুষের জন্য কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পরও তার ওয়ার্ডের শত শত বিঘা জমি, ২ টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান,১ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধরলা নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ ও একাধিকবার মানববন্ধন করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তিনি দ্রুত চর মেখলীর মানুষের দুর্দশা নিরসনে প্রশাসন ও সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা অবিলম্বে ধরলা নদীর ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণসহ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের বসতভিটা ও আবাদি জমি রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
মতামত