সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

যুদ্ধ বন্ধের আশায় ব্যারেলপ্রতি কমল তেলের দাম



যুদ্ধ বন্ধের আশায় ব্যারেলপ্রতি কমল তেলের দাম
যুদ্ধ বন্ধের আশায় ব্যারেলপ্রতি কমল তেলের দাম

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এ খবরে বিশ্ববাজারে কমতে শুরু করেছে জ্বালানি তেলের দাম। সোমবার এশিয়ার বাজারে লেনদেনের শুরুতেই অপরিশোধিত তেলের দুই প্রধান মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমে যায়।

যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতায় পৌঁছাতে ইরান ও কাতারের সরকারি কর্মকর্তারা টানা তৃতীয় দিনের মতো আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। আলোচনায় অগ্রগতির আশায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সোমবার দুপুর ১২টার দিকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম কমে ব্যারেলপ্রতি ১০৯ ডলার ৮০ সেন্টে দাঁড়ায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম নেমে আসে ১০০ ডলার ৫০ সেন্টে। অয়েলপ্রাইস ডটকম ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে গত অক্টোবরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম গত ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। ওই মাসের শেষ কার্যদিবস ৩০ অক্টোবর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৮ ডলারে ওঠে। পুরো অক্টোবরে ব্রেন্টের দাম বেড়েছিল ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ। আর ডব্লিউটিআইয়ের দাম বেড়েছিল ১৫ দশমিক ২ শতাংশ।

আগামীকাল ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন। আশঙ্কা ছিল, এই নির্বাচন সামনে রেখে ইরানের সঙ্গে নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু হবে। ফলে তেলের বাজারে বাড়তি চাপ তৈরি হয়। নির্বাচন শেষে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সামরিক পদক্ষেপ আরও জোরালো হতে পারে—এমন আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন।

তবে গত সপ্তাহের মূল্যবৃদ্ধির পর কূটনৈতিক আলোচনার খবরে বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার রয়টার্সকে বলেন, গত সপ্তাহে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধির পর বাজারে কিছুটা সংশোধন হয়েছে।

তবে ইরানের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য ও অবস্থান আরও কঠোর হলে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারের কাছাকাছি যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ওয়াটারার।

তবে এবার তেলের দাম এতটা যে বাড়েনি, বিশ্লেষকদের মতে তার মূল কারণ হলো চীনের চাহিদা কমে যাওয়া। চীনের প্রবৃদ্ধির গতি অনেক দিন ধরেই শ্লথ। সেই সঙ্গে তাদের বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বেড়েছে। আরও অনেক দেশের চীনের পথ অনুসরণ করে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বাড়াচ্ছে। ফলে বিশ্ববাজারে তেলের চাহিদা অনেকটা কমে গেছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি গতকাল রোববার বলেছেন, কাতারের সঙ্গে পরামর্শ অব্যাহত রাখতেই আলোচনা হচ্ছে। আলোচনায় অগ্রগতিও হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইরান প্রতিরক্ষা ও কূটনীতি—উভয় পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত বন্ধে কাতার মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। তবে আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও যুদ্ধের অবসান নিয়ে এখনো নিশ্চিত সমঝোতা হয়নি। ফলে তেলের বাজার দুটি বিষয়ই বিবেচনা করছে। একদিকে কূটনৈতিক অগ্রগতি হতে পারে, আরেক দিকে সংঘাত বেড়ে যাওয়ারও আশঙ্কা আছে।

তেলের দাম বাড়বে না কমবে, সে ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ওপেক ও সহযোগী দেশগুলো। সাধারণত দেখা যায়, এই জোট উৎপাদন বাড়ালে তেলের দাম কমার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়, উৎপাদন কমালে উল্টো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। তবে তেলের দাম শুধু উৎপাদনের ওপর নির্ভর করে না। চাহিদা, মজুত, ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি, পরিবহন ব্যয় ও ডলারের বিনিময়মূল্যও গুরুত্বপূর্ণ।

চলমান অনিশ্চয়তার মধ্যে ডিসেম্বর মাসে তেল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অপরিবর্তিত রেখেছে ওপেক প্লাস। গতকাল সৌদি আরব, রাশিয়াসহ সাতটি গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদেশের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ইরান যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানি ব্যাহত হওয়ায় উৎপাদন হ্রাস–বৃদ্ধির বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে এই জোট। ২৯ নভেম্বর ওপেক প্লাসের পরবর্তী বৈঠকে ২০২৭ সালের উৎপাদন নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

বিষয় : জ্বালানি তেল হরমুজ প্রণালী তেলের দাম

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬


যুদ্ধ বন্ধের আশায় ব্যারেলপ্রতি কমল তেলের দাম

প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এ খবরে বিশ্ববাজারে কমতে শুরু করেছে জ্বালানি তেলের দাম। সোমবার এশিয়ার বাজারে লেনদেনের শুরুতেই অপরিশোধিত তেলের দুই প্রধান মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমে যায়।

যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতায় পৌঁছাতে ইরান ও কাতারের সরকারি কর্মকর্তারা টানা তৃতীয় দিনের মতো আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। আলোচনায় অগ্রগতির আশায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সোমবার দুপুর ১২টার দিকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম কমে ব্যারেলপ্রতি ১০৯ ডলার ৮০ সেন্টে দাঁড়ায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম নেমে আসে ১০০ ডলার ৫০ সেন্টে। অয়েলপ্রাইস ডটকম ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে গত অক্টোবরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম গত ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। ওই মাসের শেষ কার্যদিবস ৩০ অক্টোবর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৮ ডলারে ওঠে। পুরো অক্টোবরে ব্রেন্টের দাম বেড়েছিল ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ। আর ডব্লিউটিআইয়ের দাম বেড়েছিল ১৫ দশমিক ২ শতাংশ।

আগামীকাল ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন। আশঙ্কা ছিল, এই নির্বাচন সামনে রেখে ইরানের সঙ্গে নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু হবে। ফলে তেলের বাজারে বাড়তি চাপ তৈরি হয়। নির্বাচন শেষে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সামরিক পদক্ষেপ আরও জোরালো হতে পারে—এমন আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন।

তবে গত সপ্তাহের মূল্যবৃদ্ধির পর কূটনৈতিক আলোচনার খবরে বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার রয়টার্সকে বলেন, গত সপ্তাহে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধির পর বাজারে কিছুটা সংশোধন হয়েছে।

তবে ইরানের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য ও অবস্থান আরও কঠোর হলে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারের কাছাকাছি যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ওয়াটারার।

তবে এবার তেলের দাম এতটা যে বাড়েনি, বিশ্লেষকদের মতে তার মূল কারণ হলো চীনের চাহিদা কমে যাওয়া। চীনের প্রবৃদ্ধির গতি অনেক দিন ধরেই শ্লথ। সেই সঙ্গে তাদের বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বেড়েছে। আরও অনেক দেশের চীনের পথ অনুসরণ করে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বাড়াচ্ছে। ফলে বিশ্ববাজারে তেলের চাহিদা অনেকটা কমে গেছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি গতকাল রোববার বলেছেন, কাতারের সঙ্গে পরামর্শ অব্যাহত রাখতেই আলোচনা হচ্ছে। আলোচনায় অগ্রগতিও হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইরান প্রতিরক্ষা ও কূটনীতি—উভয় পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত বন্ধে কাতার মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। তবে আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও যুদ্ধের অবসান নিয়ে এখনো নিশ্চিত সমঝোতা হয়নি। ফলে তেলের বাজার দুটি বিষয়ই বিবেচনা করছে। একদিকে কূটনৈতিক অগ্রগতি হতে পারে, আরেক দিকে সংঘাত বেড়ে যাওয়ারও আশঙ্কা আছে।

তেলের দাম বাড়বে না কমবে, সে ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ওপেক ও সহযোগী দেশগুলো। সাধারণত দেখা যায়, এই জোট উৎপাদন বাড়ালে তেলের দাম কমার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়, উৎপাদন কমালে উল্টো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। তবে তেলের দাম শুধু উৎপাদনের ওপর নির্ভর করে না। চাহিদা, মজুত, ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি, পরিবহন ব্যয় ও ডলারের বিনিময়মূল্যও গুরুত্বপূর্ণ।

চলমান অনিশ্চয়তার মধ্যে ডিসেম্বর মাসে তেল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অপরিবর্তিত রেখেছে ওপেক প্লাস। গতকাল সৌদি আরব, রাশিয়াসহ সাতটি গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদেশের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ইরান যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানি ব্যাহত হওয়ায় উৎপাদন হ্রাস–বৃদ্ধির বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে এই জোট। ২৯ নভেম্বর ওপেক প্লাসের পরবর্তী বৈঠকে ২০২৭ সালের উৎপাদন নিয়ে আলোচনা হতে পারে।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream