রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

সৈয়দপুরে চেয়ারম্যান বানানোর লোভ দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ইউপি সচিব মেম্বার চক্র



সৈয়দপুরে চেয়ারম্যান বানানোর লোভ দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ইউপি সচিব মেম্বার চক্র
সৈয়দপুরে চেয়ারম্যান বানানোর লোভ দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ইউপি সচিব মেম্বার চক্র

নির্বাচিত চেয়ারম্যান বরখাস্ত হওয়ার প্রেক্ষিতে শুন্য পদে দায়িত্ব দেওয়ার লোভ দেখিয়ে এক মহিলা মেম্বারের কাছ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন ইউপি সচিবের নেতৃত্বে একটি চক্র। কিন্তু দীর্ঘ ৩ মাসেও চেয়ারম্যান হতে না পেরে মহিলা মেম্বার সালিসিতে তৎপর হলে গোপনে লেনদেনের এই ঘটনা প্রকাশ হয়ে যায়। এর প্রেক্ষিতে ঘটনা ধামাচাপা দিতে রাতের আধারে পরিষদের রেজুলেশন খাতা চুরির অপচেষ্টা চালায় ইউপি সচিব। কিন্তু ধরা পড়ে শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে পুরো ঘটনা।

চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা ঘটেছে নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নে। ফেসবুকে প্রচার হওয়া ভিডিও ফুটেজ সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান ৩ হোসনেয়ারা। তিনি সালিসি বৈঠকে উপস্থিত স্থানীয় বিএনপি নেতা, কয়েকজন ইউপি সদস্য ও গন্যমান্য ব্যক্তির সামনে বলছেন, চেয়ারম্যান বানানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে মোট ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়েছেন ৬ জন।

এর মধ্যে ইউপি সচিব মোকছেদুল ইসলাম ৫০ হাজার, সদ্য বরখাস্ত হওয়া চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন সরকারের পিএস মাসুদ ৫০ হাজার, ৯ নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোরসালিন ২০ হাজার, ৩ নং ওয়ার্ডের মেম্বার আলিম ১০ হাজার, ৭ নং ওয়ার্ড মেম্বার জলিল ১০ হাজার এবং ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য মোসলেমা ১০ হাজার টাকা নিয়েছেন। এখন পদও নাই, টাকাও নাই। এ অবস্থায় বিভিন্ন জনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। কিন্তু কোন সুরাহা হচ্ছেনা।

দ্বিতীয় ভিডিওতে দেখা যায়, সালিসি বৈঠকের ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টা চাউর হওয়ার প্রেক্ষিতে অপকর্ম ঢাকতে রাতের আধারে ইউনিয়ন পরিষদের রেজুলেশন খাতা গ্রাম পুলিশের মাধ্যম চুরির চেষ্টা করেছে ইউপি সচিব। ধরা পড়ে গ্রাম পুলিশ (চৌকিদার) মানিক স্বীকার করেন তাঁকে ইউপি সচিব চাবি দিয়ে পাঠিয়েছেন। রেজুলেশন খাতা নিয়ে সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকারের কাছে নিয়ে যেতে বলেছেন।

এদিকে গত রাতেই গোপন স্থানে বসে ৫ নং ওয়ার্ড মেম্বার ও প্যানেল চেয়ারম্যান ২ জালাল উদ্দীনকে চেয়ারম্যান করার রেজুলেশন করা হয়েছে এবং তা সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। এক্ষেত্রে ইউপি সচিবের মাধ্যমে ২ লাখ লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।  এব্যাপারে জালাল উদ্দীন বলেন, নিয়ম অনুযায়ীই আমি চেয়ারম্যান হচ্ছি। কারণ এক নং প্যানেল চেয়ারম্যান আলালের বিরুদ্ধে ভিডাব্লিউবি উপকার ভোগীদের সঞ্চয়ের টাকা নিজের হাতে রাখার অভিযোগ হয়েছে। আর প্যানেল চেয়ারম্যান ৩ হোসেনয়ারা ইউপি সচিবসহ বিভিন্ন জনকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে দূর্নীতি করেছ্।ে

কামারপুকুর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বলেন, ইউপি সচিব মোখছেদুল ইসলাম কামারপুকুর ইউনিয়নেরই সন্তান। কিন্তু চরম দূর্নীতিবাজ হয়ে পড়েছেন। ইতোপূর্বে তার ছেলের নামে প্রতিবন্ধি ভাতা করাসহ নানা অনিয়মের কারণে তাকে পাশ^বর্তী কিশোরগঞ্জ উপজেলায় বদলী করা হয়েছিল। আবার টাকা দিয়ে সে নিজ ইউনিয়নেই চাকরী করছে। যা সরকারী চাকুরিবিধি অনুযায়ী বেআইনী। তাছাড়া তিনি অতিরিক্ত ফি আদায় করাসহ নানা অনিয়ম করে চলেছেন। স্থানীয় লোক হওয়ায় তিনি অকপটে এসব দূর্নীতি করে চলেছেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সচিব মোকছেদুল ইসলামের মতামত জানতে রোববার সকালে ইউনিয়ন পরিষদে গেলে তিনি বলেন, আমি কোন টাকা নেইনি। হোসেনয়ারা আমার টেবিলের ড্রয়ারে ৫ হাজার টাকা রেখে গিয়েছিল। তা আমি একটা কাজে খরচ করে ফেলেছি। দ্রুত ফেরত দিয়ে দিবো। আর অন্য কেউ টাকা নিয়েছে কি না তা আমার জানা নাই।

এদিকে সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপি সভাপতি আলহাজ¦ অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার বলেন, চৌকিদার আমার নাম কেন বলেছে? আমি কি তাকে আসতে বলেছি? আমি এ ব্যাপারে তার বিরুদ্ধে মানহানী মামলা করবো। আর ইউনিয়ন পরিষদের কোন বিষয়েই আমার কোন মাথাব্যাথা নেই। তাই সেখানে ঘটা কোন ঘটনার সাথে আমাকে জড়িয়ে কেউ কিছু বললে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিবো।

সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারহা ফাতেহা তাকমিলা বলেন, বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখছি। সত্যতা পাওয়া গেলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একজন সরকারী কর্মচারী হিসেবে তিনি কোনভাবেই এমন কাজে নিযুক্ত হতে পারেন না। তাই প্রাথমিকভাবে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হতে পারে।

স্থানীয় সরকারের নীলফামারী জেলার উপপরিচালক (ডিডিএলজি) সাইদুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের বিষয়ে লিখিত পাওয়া গেলে বিভাগীয় তদন্ত করা হবে। তাতে সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর এ সংক্রান্ত ভিডিও আমি এখনও দেখিনি। দেখে সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নিবো।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬


সৈয়দপুরে চেয়ারম্যান বানানোর লোভ দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ইউপি সচিব মেম্বার চক্র

প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

নির্বাচিত চেয়ারম্যান বরখাস্ত হওয়ার প্রেক্ষিতে শুন্য পদে দায়িত্ব দেওয়ার লোভ দেখিয়ে এক মহিলা মেম্বারের কাছ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন ইউপি সচিবের নেতৃত্বে একটি চক্র। কিন্তু দীর্ঘ ৩ মাসেও চেয়ারম্যান হতে না পেরে মহিলা মেম্বার সালিসিতে তৎপর হলে গোপনে লেনদেনের এই ঘটনা প্রকাশ হয়ে যায়। এর প্রেক্ষিতে ঘটনা ধামাচাপা দিতে রাতের আধারে পরিষদের রেজুলেশন খাতা চুরির অপচেষ্টা চালায় ইউপি সচিব। কিন্তু ধরা পড়ে শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে পুরো ঘটনা।

চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা ঘটেছে নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নে। ফেসবুকে প্রচার হওয়া ভিডিও ফুটেজ সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান ৩ হোসনেয়ারা। তিনি সালিসি বৈঠকে উপস্থিত স্থানীয় বিএনপি নেতা, কয়েকজন ইউপি সদস্য ও গন্যমান্য ব্যক্তির সামনে বলছেন, চেয়ারম্যান বানানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে মোট ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়েছেন ৬ জন।

এর মধ্যে ইউপি সচিব মোকছেদুল ইসলাম ৫০ হাজার, সদ্য বরখাস্ত হওয়া চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন সরকারের পিএস মাসুদ ৫০ হাজার, ৯ নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোরসালিন ২০ হাজার, ৩ নং ওয়ার্ডের মেম্বার আলিম ১০ হাজার, ৭ নং ওয়ার্ড মেম্বার জলিল ১০ হাজার এবং ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য মোসলেমা ১০ হাজার টাকা নিয়েছেন। এখন পদও নাই, টাকাও নাই। এ অবস্থায় বিভিন্ন জনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। কিন্তু কোন সুরাহা হচ্ছেনা।

দ্বিতীয় ভিডিওতে দেখা যায়, সালিসি বৈঠকের ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টা চাউর হওয়ার প্রেক্ষিতে অপকর্ম ঢাকতে রাতের আধারে ইউনিয়ন পরিষদের রেজুলেশন খাতা গ্রাম পুলিশের মাধ্যম চুরির চেষ্টা করেছে ইউপি সচিব। ধরা পড়ে গ্রাম পুলিশ (চৌকিদার) মানিক স্বীকার করেন তাঁকে ইউপি সচিব চাবি দিয়ে পাঠিয়েছেন। রেজুলেশন খাতা নিয়ে সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকারের কাছে নিয়ে যেতে বলেছেন।


এদিকে গত রাতেই গোপন স্থানে বসে ৫ নং ওয়ার্ড মেম্বার ও প্যানেল চেয়ারম্যান ২ জালাল উদ্দীনকে চেয়ারম্যান করার রেজুলেশন করা হয়েছে এবং তা সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। এক্ষেত্রে ইউপি সচিবের মাধ্যমে ২ লাখ লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।  এব্যাপারে জালাল উদ্দীন বলেন, নিয়ম অনুযায়ীই আমি চেয়ারম্যান হচ্ছি। কারণ এক নং প্যানেল চেয়ারম্যান আলালের বিরুদ্ধে ভিডাব্লিউবি উপকার ভোগীদের সঞ্চয়ের টাকা নিজের হাতে রাখার অভিযোগ হয়েছে। আর প্যানেল চেয়ারম্যান ৩ হোসেনয়ারা ইউপি সচিবসহ বিভিন্ন জনকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে দূর্নীতি করেছ্।ে

কামারপুকুর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বলেন, ইউপি সচিব মোখছেদুল ইসলাম কামারপুকুর ইউনিয়নেরই সন্তান। কিন্তু চরম দূর্নীতিবাজ হয়ে পড়েছেন। ইতোপূর্বে তার ছেলের নামে প্রতিবন্ধি ভাতা করাসহ নানা অনিয়মের কারণে তাকে পাশ^বর্তী কিশোরগঞ্জ উপজেলায় বদলী করা হয়েছিল। আবার টাকা দিয়ে সে নিজ ইউনিয়নেই চাকরী করছে। যা সরকারী চাকুরিবিধি অনুযায়ী বেআইনী। তাছাড়া তিনি অতিরিক্ত ফি আদায় করাসহ নানা অনিয়ম করে চলেছেন। স্থানীয় লোক হওয়ায় তিনি অকপটে এসব দূর্নীতি করে চলেছেন।


এসব অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সচিব মোকছেদুল ইসলামের মতামত জানতে রোববার সকালে ইউনিয়ন পরিষদে গেলে তিনি বলেন, আমি কোন টাকা নেইনি। হোসেনয়ারা আমার টেবিলের ড্রয়ারে ৫ হাজার টাকা রেখে গিয়েছিল। তা আমি একটা কাজে খরচ করে ফেলেছি। দ্রুত ফেরত দিয়ে দিবো। আর অন্য কেউ টাকা নিয়েছে কি না তা আমার জানা নাই।

এদিকে সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপি সভাপতি আলহাজ¦ অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার বলেন, চৌকিদার আমার নাম কেন বলেছে? আমি কি তাকে আসতে বলেছি? আমি এ ব্যাপারে তার বিরুদ্ধে মানহানী মামলা করবো। আর ইউনিয়ন পরিষদের কোন বিষয়েই আমার কোন মাথাব্যাথা নেই। তাই সেখানে ঘটা কোন ঘটনার সাথে আমাকে জড়িয়ে কেউ কিছু বললে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিবো।

সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারহা ফাতেহা তাকমিলা বলেন, বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখছি। সত্যতা পাওয়া গেলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একজন সরকারী কর্মচারী হিসেবে তিনি কোনভাবেই এমন কাজে নিযুক্ত হতে পারেন না। তাই প্রাথমিকভাবে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হতে পারে।

স্থানীয় সরকারের নীলফামারী জেলার উপপরিচালক (ডিডিএলজি) সাইদুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের বিষয়ে লিখিত পাওয়া গেলে বিভাগীয় তদন্ত করা হবে। তাতে সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর এ সংক্রান্ত ভিডিও আমি এখনও দেখিনি। দেখে সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নিবো।



Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream