মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও দাবি করেছেন, ২০২৫ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধের বিস্তার ঠেকাতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তাঁর দাবি, পারমাণবিক অস্ত্রধারী দুই দেশকে সংঘাত থেকে বিরত রাখতে তিনি উভয় দেশের ওপর সর্বোচ্চ ২৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাণিজ্য শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন।
আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে শুক্রবার ফ্লোরিডায় এক নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প আটটি যুদ্ধ মীমাংসা করার দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন।
সমাবেশে তিনি বলেন, ভারত ও পাকিস্তানকে থামাতে তিনি বাণিজ্যকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দুই দেশ সংঘাত চালিয়ে গেলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য করতে পারবে না এবং তাদের ওপর ২৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তিনি। ট্রাম্প দাবি করেন, এই হুমকির পর দুই দেশ গুলি চালানো বন্ধ করে এবং যুদ্ধের অবসান ঘটে।
এ সময় নিজের ভূমিকার জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ায় ক্ষোভও প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘আমি কি নোবেল পুরস্কার পেয়েছি? না।’
গত বছর পেহেলগামে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সশস্ত্র সংঘাত শুরু হলে তা থামানোর কৃতিত্ব বারবার নিজের বলে দাবি করে আসছেন ট্রাম্প। তবে এ বিষয়ে তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতার কথা বরাবরই অস্বীকার করে আসছে ভারত।
নয়াদিল্লির বক্তব্য অনুযায়ী, ‘অপারেশন সিন্দুর’ চলাকালে সামরিক পদক্ষেপ বন্ধ করতে পাকিস্তানের সামরিক অভিযানবিষয়ক মহাপরিচালক (ডিজিএমও) তাঁর ভারতীয় প্রতিপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে অনুরোধ জানান। এরপরই দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।
ভারত গত বছরের ৭ মে ‘অপারেশন সিন্দুর’ শুরু করে। ওই অভিযানে পাকিস্তান ও পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সন্ত্রাসী অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালায় ভারতীয় বাহিনী। ভারতের দাবি, অভিযানে সন্ত্রাসীদের গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিগুলোতে আঘাত হানা হয়। পরে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে অনুরোধ পাওয়ার পর ১০ মে অভিযান স্থগিত করে ভারত।
তবে ভারত-পাকিস্তান সংঘাত থামাতে নিজের ভূমিকা নিয়ে ট্রাম্পের দাবির বিপরীতে নয়াদিল্লি জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল দুই দেশের সামরিক কর্মকর্তাদের সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে।
মতামত