শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

ভারতে গরুর মাংস খাওয়ার কথা বলায় শিক্ষকের উপহাস: দশম শ্রেণির ছাত্রের আত্মহত্যা



ভারতে গরুর মাংস খাওয়ার কথা বলায় শিক্ষকের উপহাস: দশম শ্রেণির ছাত্রের আত্মহত্যা
ভারতে গরুর মাংস খাওয়ার কথা বলায় শিক্ষকের উপহাস: দশম শ্রেণির ছাত্রের আত্মহত্যা( বাংলা এফ এম)

ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের কোয়েম্বাত্তুরে গরুর মাংস খাওয়ার কথা জানানোয় শিক্ষক ও সহপাঠীদের উপহাস এবং মানসিক হেনস্থার শিকার হয়ে আলিকান (১৬) নামের দশম শ্রেণির এক ছাত্র আত্মহত্যা করেছে। তফসিলি জাতিভুক্ত পরিবারের এই একমাত্র সন্তানের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও শ্রেণিশিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।

নিহত আলিকান কোয়েম্বাত্তুরের পীলামেডু এলাকার শ্রী কে কে নাইডু উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিল। তার বাবা অশোক কুমার ধোপাখানায় এবং মা কৌশল্যা দেবী গৃহকর্মীর কাজ করেন। অত্যন্ত সাধারণ পরিবারের একমাত্র সন্তান ছিল আলিকান।

পরিবারের দেওয়া অভিযোগ অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার শ্রেণিকক্ষে তফসিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ বিশেষ ভাতা পাওয়ার নিয়মকানুন নিয়ে আলোচনা করছিলেন শ্রেণিশিক্ষক বিজয় কুমার। ওই সময় তিনি শিক্ষার্থীদের কাছে জানতে চান—কারা গরুর মাংস খায়। এ সময় আলিকান হাত তুলে জানায় যে তাদের পরিবারে গরুর মাংস খাওয়া হয়।

অভিযোগ রয়েছে, এই কথা জানানোর পরই শ্রেণিশিক্ষক বিজয় কুমার তাকে নানা কটূকথা বলে সবার সামনে অপদস্থ করেন এবং দুই সহপাঠীও তাকে নিয়ে উপহাস করতে শুরু করে। ক্লাসের বাইরেও এই মানসিক নির্যাতন অব্যাহত থাকে। পরে আলিকান বিষয়টি প্রধান শিক্ষক অরুণ কুমারের কাছে গিয়ে জানালেও তিনি কোনো ধরনের প্রতিকার বা ব্যবস্থা নেননি। ঘটনার দিন বাবা-মা উভয়েই কাজে বাইরে থাকায় বাড়িতে ফিরে ছেলের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান।

ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর বিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীও পুলিশের কাছে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণের সাক্ষ্য দেয়। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রধান শিক্ষক অরুণ কুমার এবং শ্রেণিশিক্ষক বিজয় কুমারের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং তফসিলি জাতি ও উপজাতির ওপর নির্যাতন প্রতিরোধ আইনের (SC/ST Act) বিভিন্ন ধারায় মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে।

শোকাহত বাবা-মা অভিযুক্ত শিক্ষকদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। প্রাথমিক তদন্ত শেষে পুলিশ পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করছে বলে জানানো হয়েছে।

শিক্ষকের এহেন বৈষম্যমূলক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের জেরে একজন কিশোরের প্রাণহানির এই ঘটনা ভারতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, জাতিগত বৈষম্য এবং শিক্ষকদের পেশাগত দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন করে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬


ভারতে গরুর মাংস খাওয়ার কথা বলায় শিক্ষকের উপহাস: দশম শ্রেণির ছাত্রের আত্মহত্যা

প্রকাশের তারিখ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের কোয়েম্বাত্তুরে গরুর মাংস খাওয়ার কথা জানানোয় শিক্ষক ও সহপাঠীদের উপহাস এবং মানসিক হেনস্থার শিকার হয়ে আলিকান (১৬) নামের দশম শ্রেণির এক ছাত্র আত্মহত্যা করেছে। তফসিলি জাতিভুক্ত পরিবারের এই একমাত্র সন্তানের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও শ্রেণিশিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।

নিহত আলিকান কোয়েম্বাত্তুরের পীলামেডু এলাকার শ্রী কে কে নাইডু উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিল। তার বাবা অশোক কুমার ধোপাখানায় এবং মা কৌশল্যা দেবী গৃহকর্মীর কাজ করেন। অত্যন্ত সাধারণ পরিবারের একমাত্র সন্তান ছিল আলিকান।

পরিবারের দেওয়া অভিযোগ অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার শ্রেণিকক্ষে তফসিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ বিশেষ ভাতা পাওয়ার নিয়মকানুন নিয়ে আলোচনা করছিলেন শ্রেণিশিক্ষক বিজয় কুমার। ওই সময় তিনি শিক্ষার্থীদের কাছে জানতে চান—কারা গরুর মাংস খায়। এ সময় আলিকান হাত তুলে জানায় যে তাদের পরিবারে গরুর মাংস খাওয়া হয়।

অভিযোগ রয়েছে, এই কথা জানানোর পরই শ্রেণিশিক্ষক বিজয় কুমার তাকে নানা কটূকথা বলে সবার সামনে অপদস্থ করেন এবং দুই সহপাঠীও তাকে নিয়ে উপহাস করতে শুরু করে। ক্লাসের বাইরেও এই মানসিক নির্যাতন অব্যাহত থাকে। পরে আলিকান বিষয়টি প্রধান শিক্ষক অরুণ কুমারের কাছে গিয়ে জানালেও তিনি কোনো ধরনের প্রতিকার বা ব্যবস্থা নেননি। ঘটনার দিন বাবা-মা উভয়েই কাজে বাইরে থাকায় বাড়িতে ফিরে ছেলের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান।

ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর বিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীও পুলিশের কাছে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণের সাক্ষ্য দেয়। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রধান শিক্ষক অরুণ কুমার এবং শ্রেণিশিক্ষক বিজয় কুমারের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং তফসিলি জাতি ও উপজাতির ওপর নির্যাতন প্রতিরোধ আইনের (SC/ST Act) বিভিন্ন ধারায় মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে।

শোকাহত বাবা-মা অভিযুক্ত শিক্ষকদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। প্রাথমিক তদন্ত শেষে পুলিশ পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করছে বলে জানানো হয়েছে।

শিক্ষকের এহেন বৈষম্যমূলক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের জেরে একজন কিশোরের প্রাণহানির এই ঘটনা ভারতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, জাতিগত বৈষম্য এবং শিক্ষকদের পেশাগত দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন করে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।



Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream