মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করতে ও তাদের মেধার স্বীকৃতি দিতে ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার আমজাদহাট ইউনিয়নে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে নগদ অর্থ ও শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে আমজাদহাট ইউনিয়নের এক স্থানীয় মিলনায়তনে বিশিষ্ট সমাজসেবক এবং আসন্ন ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী তোফায়েল আহমেদ ভূঁইয়া (কুঠি)-এর নিজস্ব অর্থায়নে ও একক উদ্যোগে এই আর্থিক সম্মাননা ও মেধা বৃত্তি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে আমজাদহাট ইউনিয়নের বিভিন্ন বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা থেকে সদ্য প্রকাশিত এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থী, তাদের অভিভাবক, স্থানীয় শিক্ষাবিদ এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
বৃত্তি ও সম্মাননাপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে কয়েকজন কৃতি শিক্ষার্থী তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন। "ফলাফল ভালো করার পর এমন একটি সম্মাননা ও আর্থিক সহযোগিতা আমাদের আগামী দিনের পড়াশোনার গতিকে আরও বাড়িয়ে দেবে। তোফায়েল আহমেদ ভূঁইয়া আংকেলের এই উদ্যোগ আমাদের মতো মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য অনেক বড় অনুপ্রেরণা।" "আজকের এই বৃত্তি পেয়ে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। ব্যক্তিগত অর্থায়নে এভাবে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর নজির সত্যিই প্রশংসনীয়।"
অনুষ্ঠান শেষে একান্ত সাক্ষাৎকারে বিশিষ্ট সমাজসেবক তোফায়েল আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, "শিক্ষাই হচ্ছে একটি জাতির মেরুদণ্ড। আমার এলাকার এই কৃতি সন্তানরাই আগামী দিনে দেশের হাল ধরবে। টাকার অভাবে যেন কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষা ব্যাহত না হয়, সেই লক্ষ্য থেকেই আমি আমার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে এই ক্ষুদ্র প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছি। ভবিষ্যতেও আমজাদহাটের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে আমার এই সামাজিক ও অর্থায়নের ধারা অব্যাহত থাকবে।"
বৃত্তিপ্রাপ্ত এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, "বর্তমান বাজারে সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চালানো আমাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে। এই কঠিন সময়ে তোফায়েল আহমেদ ভূঁইয়া কুঠি সাহেব যেভাবে আমাদের সন্তানদের মেধার মূল্যায়ন করে পাশে দাঁড়িয়েছেন, তা সত্যি আমাদের অন্তর ছুঁয়ে গেছে। আমরা উনার দীর্ঘায়ু ও সাফল্য কামনা করি।"
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, এলাকার অসচ্ছল ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য তোফায়েল আহমেদ ভূঁইয়ার এই অর্থায়ন অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং প্রশংসনীয় উদ্যোগ। অনুষ্ঠানে স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক মণ্ডলী এবং সমাজসেবকগণ উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের হাতে বৃত্তির নগদ অর্থ ও ক্রেস্ট তুলে দেন। অনুষ্ঠানটি স্থানীয় সুধী সমাজের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।
মতামত