"বাংলাদেশের স্বাধীনতার, মুক্তিযুদ্ধের মুলমন্ত্রই ছিল সমাজতন্ত্র অভিমুখীন একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ও রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও এদেশের শ্রমজীবী মেহনতী মানুষের মৌলিক মানবিক অধিকার নিয়ে বাঁচার নূন্যতম রাষ্ট্রীয় সামাজিক পরিস্থিতি তৈরী করা যায় নি। লুটেরা পুঁজিপতিদের সরকার এবং চলমান বিশ্বব্যবস্থা নয়া সাম্রাজ্যবাদী অর্থনৈতিক শোষণ এবং তার সহযোগীতা প্রদান কারী সামরিক বেসামরিক আমলা, ব্যবসায়িক, অলিগার্ক একটি শোষণের চক্র তৈরী করেছে। এরা সরকার বানায়, অভ্যুত্থান ঘটায়, নতুন সরকার ক্ষমতায় বসায়।
বাংলাদেশে গত তিন বছরের অভিজ্ঞতায় জনগণ দেখছেন কিভাবে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ বাংলাদেশকে বানিজ্যিক এবং সামরিক চুক্তির আওতায় এনে দেশকে চুড়ান্ত অর্থে একটি মার্কিন উপনিবেশ রাষ্ট্রে পরিণত করলো। দেশ সর্বভৌম ক্ষমতা হারিয়েছে। জনগণের মতামত ছাড়াই লাভজনক প্রতিষ্ঠান বন্দর, খনি, গ্যাস, বিদেশীদের দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কোটি কোটি লোক দারিদ্রসীমার নীচে নেমে গেছে, আইনশৃঙ্খলা বাজার ব্যবস্থা, দ্রবমূল্য, গ্যাস, বিদ্যুৎ সংকট, জ্বালানী মূল্যবৃদ্ধি মানুষকে ক্রমান্বয়ে নি:স্ব করছে। মৌলবাদী শক্তির বিপদজনকভাবে উত্থান ঘটেছে। দেশের কৃষিব্যবস্থা কর্পোরেট শক্তির হাতে চলে যাচ্ছে। কৃষি উৎপাদন বিপনন কৃষকের হাতে নেই। কৃষকের প্রতিদিন কৃষি জমি হারাচ্ছেন।
কমরেড আমিনুল ইসলাম গোলাপ রাষ্ট্রের এবং সমাজের এই সংকটগুলোর বিরুদ্ধেই লড়াই করে গেছেন। ভূমিসংস্কার, কৃষি খেতমজুরদের খাস জমি দখলের আন্দোলন, পানির আন্দোলন পল্লী বিদ্যুতের দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন, সামাজিক অনাচার, ধর্ষণের বিরুদ্ধে একজন লড়াকু নেতা ছিলেন কমরেড আমিনুল ইসলাম গোলাপ ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য এবং দীর্ঘসময় জাতীয় কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করে এদেশে বিপ্লবী সংগ্রাম এগিয়ে নিয়ে গেছেন। ব্যবস্থা বদল ছাড়া জনগণের মুক্তির হবে না। তিনি তা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন বিভিন্ন রাজনৈতিক বাকমোড়ে ক্ষমতারলোভ তকে স্পর্শকরে নাই। গাইবান্ধার ভূমিজ সন্তান কমরেড গোলাপের ১ম মৃত্যুবার্ষিকীতে পার্টি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য ও জাতীয় কৃষক সমিতির সভাপতি কমরেড আমিনুল ইসলাম গোলাপের ১ম মৃত্যু বার্ষিকীতে আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্ততায় ওয়ার্কার্স পার্টির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জননেতা নুর আহমদ বকুল উপরোক্ত বক্তব্য রাখেন।
তোপখানা রোডে শহীদ রাসেল আহমেদ খান স্মৃতি ভবনে উক্ত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কমরেড নুর আহমদ বকুল। সভা পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড কিশোর রায়। সভায় আরো বক্তব্য রাখেন কমরেড শরীফ শমসির, কমরেড আবুল হোসাইন, কমরেড জাকির হোসেন রাজু, কমরেড মোস্তফা আলমগীর রতন, কমরেড সাদাকাত হোসেন খান বাবুল, কমরেড সাব্বাহ আলী খান কলিন্স, কমরেড মুর্শিদা আখতার নাহার প্রমুখ।
মতামত