ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অব্যবহৃত সিরিঞ্জ, ক্যানুলা ও স্যালাইন পাওয়া গেছে নগরের শম্ভুগঞ্জের একটি বর্জ্য সংরক্ষণাগারে। এসব চিকিৎসাসামগ্রীর মেয়াদ শেষ হতে এখনো দুই থেকে পাঁচ বছর বাকি। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।
বর্জ্য বাছাইয়ের কাজে যুক্ত শ্রমিকদের দাবি, হাসপাতাল থেকে প্রতিদিন বর্জ্যের সঙ্গে এসব চিকিৎসাসামগ্রী সেখানে আসে। পরে কিছু সামগ্রী হাসপাতালে ফেরত দেওয়া হয় এবং বাকিগুলো পাইকারি দরে বিক্রি করা হয়। তবে হাসপাতাল থেকে এসব সামগ্রী কীভাবে বাইরে যাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শম্ভুগঞ্জের ওই সংরক্ষণাগারে কয়েক বস্তা সিরিঞ্জ, ক্যানুলা ও স্যালাইন পাওয়া গেছে। সামগ্রীগুলোর গায়ে থাকা মেয়াদ অনুযায়ী, কিছু ২০২৮ সাল এবং কিছু ২০৩১ সাল পর্যন্ত ব্যবহারযোগ্য।
বর্জ্য বাছাইয়ের কাজে যুক্ত শ্রমিক জুবেদা খাতুন জানান, সেখানে মোট ১১ জন শ্রমিক কাজ করেন। তাঁদের মধ্যে চারজন হাসপাতাল থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করেন এবং বাকি সাতজন সংরক্ষণাগারে সেগুলো বাছাই করেন। তাঁর দাবি, প্রতিদিন বর্জ্যের সঙ্গে নতুন সিরিঞ্জ, ক্যানুলা ও স্যালাইন আসে। ১০ থেকে ১২ দিন পর কয়েক বস্তা জমলে সেগুলো হাসপাতালকে ফেরত দেওয়া হয়। বাকি সামগ্রী পাইকারি দরে বিক্রি করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন হাসপাতাল থেকে ৩৫ থেকে ৪০ ভ্যানগাড়ি বর্জ্য সরানো হয়। এসব বর্জ্য থেকে প্রতি সপ্তাহে তিন বস্তা বা তার বেশি অব্যবহৃত চিকিৎসাসামগ্রী পাওয়া যায় বলে দাবি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। তাঁদের মতে, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসামগ্রীর সংকট ও রোগীদের বাইরে থেকে প্রয়োজনীয় উপকরণ কেনার অভিযোগের মধ্যে মেয়াদ থাকা সামগ্রী বর্জ্যের সঙ্গে পাওয়া যাওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক। তাঁরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
নগরের ভাটিকাশর এলাকার বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে অনেক রোগীকে বাইরে থেকে বিভিন্ন সামগ্রী কিনতে হয়। এ অবস্থায় অব্যবহৃত চিকিৎসাসামগ্রী বর্জ্যের সঙ্গে বাইরে যাওয়ার ঘটনা তদন্ত করা প্রয়োজন।
নাগরিক সংগঠন ময়মনসিংহ মঞ্চের মুখ্য সমন্বয়ক ইমতিয়াজ আহমেদ তানসেনও বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর মতে, হাসপাতালের চিকিৎসাসামগ্রী কীভাবে বাইরে যাচ্ছে এবং এ ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের তদারকিতে কোনো ঘাটতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।
এ বিষয়ে ঠিকাদার আশরাফুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও যোগাযোগ করে বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে হাসপাতালের সিনিয়র স্টোর কর্মকর্তা ডা. ঝন্টু সরকার বলেন, অব্যবহৃত সিরিঞ্জ, ক্যানুলা ও স্যালাইন হাসপাতালের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ছুটি শেষে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ডেকে জবাবদিহি চাওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এখন মূল প্রশ্ন, হাসপাতালের মজুত থেকে এসব চিকিৎসাসামগ্রী কীভাবে বর্জ্যের সঙ্গে বাইরে যাচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকেরা।
তথ্যসূত্রের দাবিগুলো আলাদা করুনপুনরাবৃত্তি কমিয়ে প্রতিবেদনটি সংক্ষিপ্ত করুন
মতামত