বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে বেহাল গাজীপুরের কড্ডা উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র



দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে বেহাল গাজীপুরের কড্ডা উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র

গাজীপুরের কড্ডা এলাকায় অবস্থিত মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র যা স্থানীয়ভাবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নামে পরিচিত দীর্ঘদিন ধরে তীব্র চিকিৎসক ও জনবল সংকট, অবকাঠামোগত অনগ্রসরতা এবং সেবার চরম ঘাটতিতে নিমজ্জিত রয়েছে। স্থানীয় ভুক্তভোগী বাসিন্দার তথ্য অনুযায়ী, এই অঞ্চলের সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষ, বিশেষ করে নারী ও শিশুরা বছরের পর বছর ধরে এখানে এসে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

বছরের পর বছর পার হলেও কেন্দ্রটির আধুনিকায়ন বা সেবার মানোন্নয়নে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। প্রসূতি মা ও শিশুদের জন্য বিশেষায়িত এই কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসার বাইরে জরুরি কোনো জটিল রোগের চিকিৎসা মিলছে না।

ল্যাব বা প্রয়োজনীয় মেডিকেল টেকনোলজিস্ট না থাকায় সাধারণ পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য রোগীদের বাইরের প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে হচ্ছে।

গাজীপুর ও এর আশপাশের মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রগুলোর মূল সমস্যা হলো তীব্র শূন্যপদ। কেন্দ্রটিতে নিয়মিত মেডিকেল অফিসার ও বিশেষজ্ঞ গাইনি চিকিৎসক উপস্থিত না থাকার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অনেক সময় চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতে সাধারণ পরিদর্শিকা বা কর্মচারীরাই কোনোমতে জোড়াতালি দিয়ে কেন্দ্রটি চালু রাখেন, যা রোগীদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

কড্ডা ও এর আশপাশের শিল্পাঞ্চলের নারী ও পুরুষ রোগীরা কড্ডা স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির ব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে নিয়মিত কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে। চিকিৎসা নিতে আসা নারী রোগীদের সাথে দায়িত্বরত নার্স বা মাঠকর্মীদের অপেশাদার ও রুক্ষ আচরণের অভিযোগ অত্যন্ত প্রবল。 সাধারণ মানুষ এখানে এসে যথাযথ সম্মান ও মনোযোগ পান না। সরকারিভাবে বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহের নিয়ম থাকলেও রোগীদের অভিযোগ—অধিকাংশ প্রয়োজনীয় ওষুধ বাইরে থেকে চড়া দামে কিনতে বাধ্য করা হয়। সামান্য জটিলতা দেখা দিলেই বা প্রসবকালীন সময়ে ঝুঁকি এড়াতে রোগীকে দ্রুত গাজীপুর সদর হাসপাতাল বা শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে দেওয়া হয়। এতে জরুরি মুহূর্তে রোগীরা চরম দুর্ভোগ ও জীবন ঝুঁকিতে পড়েন।

ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল এলাকায় অবস্থিত হলেও দীর্ঘ দুই যুগের বেশি সময় ধরে আধুনিকায়নের ছোঁয়া লাগেনি কড্ডা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে। শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি, নতুন ভবন নির্মাণ কিংবা আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ না করায় ব্যাহত হচ্ছে স্থানীয় সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা। ফলে দীর্ঘ আড়াই দশকেও কেন্দ্রটি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

গাজীপুরের কড্ডার এই স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রটির জীর্ণ দশা দূর করতে এবং ডাক্তার ও কর্মচারীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ এবং ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করা এখন সময়ের দাবি।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬


দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে বেহাল গাজীপুরের কড্ডা উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র

প্রকাশের তারিখ : ২২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

গাজীপুরের কড্ডা এলাকায় অবস্থিত মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র যা স্থানীয়ভাবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নামে পরিচিত দীর্ঘদিন ধরে তীব্র চিকিৎসক ও জনবল সংকট, অবকাঠামোগত অনগ্রসরতা এবং সেবার চরম ঘাটতিতে নিমজ্জিত রয়েছে। স্থানীয় ভুক্তভোগী বাসিন্দার তথ্য অনুযায়ী, এই অঞ্চলের সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষ, বিশেষ করে নারী ও শিশুরা বছরের পর বছর ধরে এখানে এসে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

বছরের পর বছর পার হলেও কেন্দ্রটির আধুনিকায়ন বা সেবার মানোন্নয়নে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। প্রসূতি মা ও শিশুদের জন্য বিশেষায়িত এই কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসার বাইরে জরুরি কোনো জটিল রোগের চিকিৎসা মিলছে না।

ল্যাব বা প্রয়োজনীয় মেডিকেল টেকনোলজিস্ট না থাকায় সাধারণ পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য রোগীদের বাইরের প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে হচ্ছে।

গাজীপুর ও এর আশপাশের মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রগুলোর মূল সমস্যা হলো তীব্র শূন্যপদ। কেন্দ্রটিতে নিয়মিত মেডিকেল অফিসার ও বিশেষজ্ঞ গাইনি চিকিৎসক উপস্থিত না থাকার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অনেক সময় চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতে সাধারণ পরিদর্শিকা বা কর্মচারীরাই কোনোমতে জোড়াতালি দিয়ে কেন্দ্রটি চালু রাখেন, যা রোগীদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

কড্ডা ও এর আশপাশের শিল্পাঞ্চলের নারী ও পুরুষ রোগীরা কড্ডা স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির ব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে নিয়মিত কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে। চিকিৎসা নিতে আসা নারী রোগীদের সাথে দায়িত্বরত নার্স বা মাঠকর্মীদের অপেশাদার ও রুক্ষ আচরণের অভিযোগ অত্যন্ত প্রবল。 সাধারণ মানুষ এখানে এসে যথাযথ সম্মান ও মনোযোগ পান না। সরকারিভাবে বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহের নিয়ম থাকলেও রোগীদের অভিযোগ—অধিকাংশ প্রয়োজনীয় ওষুধ বাইরে থেকে চড়া দামে কিনতে বাধ্য করা হয়। সামান্য জটিলতা দেখা দিলেই বা প্রসবকালীন সময়ে ঝুঁকি এড়াতে রোগীকে দ্রুত গাজীপুর সদর হাসপাতাল বা শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে দেওয়া হয়। এতে জরুরি মুহূর্তে রোগীরা চরম দুর্ভোগ ও জীবন ঝুঁকিতে পড়েন।

ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল এলাকায় অবস্থিত হলেও দীর্ঘ দুই যুগের বেশি সময় ধরে আধুনিকায়নের ছোঁয়া লাগেনি কড্ডা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে। শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি, নতুন ভবন নির্মাণ কিংবা আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ না করায় ব্যাহত হচ্ছে স্থানীয় সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা। ফলে দীর্ঘ আড়াই দশকেও কেন্দ্রটি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

গাজীপুরের কড্ডার এই স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রটির জীর্ণ দশা দূর করতে এবং ডাক্তার ও কর্মচারীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ এবং ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করা এখন সময়ের দাবি।



Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream