বিদায়বেলায় আজ বিষাদ ছুঁয়েছে ভক্তদের হৃদয়ে। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে আজ বুধবার শেষ হচ্ছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। ছয় দিনের পূজা-অর্চনা ও আনন্দ-উৎসব শেষে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ৩৫টি পূজামণ্ডপে চলছে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানোর প্রস্তুতি। উৎসবের আমেজের পাশাপাশি মণ্ডপে-মণ্ডপে বিরাজ করছে বিদায়ের আবহ। এদিকে উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম খান বাবুল।
মণ্ডপ পরিদর্শনকালে তিনি পূজারীদের খোঁজখবর নেন এবং নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপন ও নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে অবগত হন। এ সময় ঢাকঢোল বাজিয়ে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন।
উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিমা, বর্ণিল আলোকসজ্জা ও নান্দনিক সাজসজ্জায় উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। পূজা-অর্চনা, প্রার্থনা ও প্রতিমা দর্শনে মণ্ডপগুলোতে ভিড় করছেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। তবে উৎসবের শেষ দিনে আনন্দের পাশাপাশি প্রিয় দেবীকে বিদায় জানানোর প্রস্তুতিও চলছে।
দর্শনার্থী লিপন কুমার দাস বলেন, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখছেন তিনি। প্রতিমার শৈল্পিক নির্মাণ ও মণ্ডপের সাজসজ্জা তাঁর ভালো লেগেছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদযাপন করতে পেরে তাঁরা আনন্দিত।
দর্শনার্থী শুভ দে বলেন, দুর্গাপূজা তাঁদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। সারা বছর তাঁরা এ দিনগুলোর জন্য অপেক্ষা করেন। পূজামণ্ডপে পরিচিতজনদের সঙ্গে দেখা হওয়া এবং সবার সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার মধ্য দিয়ে উৎসব পূর্ণতা পায়।
সদরপুর পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক গোবিন্দ ভৌমিক বলেন, আনন্দ-উৎসাহের মধ্য দিয়ে উপজেলার মণ্ডপগুলোতে দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে। পূজার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। প্রতিমা বিসর্জনসহ শেষ দিনের আনুষ্ঠানিকতা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সবাই সতর্ক রয়েছেন।
সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন বলেন, দুর্গাপূজা ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দায়িত্ব পালন করছে। প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত এ নিরাপত্তাব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
বুধবার রাতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে এ বছরের দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটবে। দেবী দুর্গার বিদায়ের মধ্য দিয়ে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রত্যাশা রয়ে যাবে।
মতামত