প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রংপুর সফর ঘিরে নীলফামারীর সৈয়দপুরে সড়কের ডিভাইডার রং করা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে। একইসাথে বিভিন্ন জায়গায় দীর্ঘদিন থেকে জমে থাকা দূর্গন্ধময় আবর্জনা বালু দিয়ে ঢেকে ফেলা হয়েছে। কয়েক দিন ধরে পৌর কর্তৃপক্ষ এসব কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
তবে প্রধান মন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে শহরের সৌন্দর্য্য বর্ধনের উদ্যোগের মধ্যে সৈয়দপুরের দীর্ঘদিনের সড়ক, ড্রেনেজ ও যানজট সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়া নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন পৌরবাসী।
আগামীকসল মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রংপুর সফরে আসার কথা রয়েছে। ঢাকা থেকে আকাশপথে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌছে সড়কপথে রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করবেন তিনি।
এ কারণে সৈয়দপুর শহরের বিভিন্ন সড়কের ডিভাইডার, ফুটপাত ও সড়কের দুই পাশের গাছপালা পরিষ্কার করা হচ্ছে। পুরোনো রঙের ওপর নতুন করে রঙের প্রলেপ দেওয়া হচ্ছে। এমনকি বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা ময়লার ভাগাড়ও বালু দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে।
গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) শহরের বিভিন্ন এলাকায় এসব কার্যক্রম চলতে দেখা যায়। প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে সৈয়দপুর পৌরসভা কর্তৃপক্ষের এ তৎপরতা স্থানীয়দের নজর কেড়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে সৈয়দপুরে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যেও তৎপরতা বেড়েছে।
দলীয় নেতাকর্মীদের কেউ কেউ শহরের বিভিন্ন স্থানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি ও নিজেদের ছবি সংবলিত পোস্টার লাগিয়েছেন। এসব পোস্টারে তাঁকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই শুভেচ্ছা মিছিল বের করা হচ্ছে। জেলা বিএনপির উদ্যোগে প্রস্তুতি সভাও করা হয়েছে।
প্রধান মন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে শহরের সৌন্দর্য্য বর্ধন ও দলীয় নেতাকর্মীদের এমন তৎপরতার মধ্যেই স্থানীয় রাজনৈতিক সচেতন মহলে সৈয়দপুরের সামগ্রিক উন্নয়ন পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সৈয়দপুর শহরের বিভিন্ন সড়ক দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় রয়েছে।
ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতা, তীব্র যানজট এবং চলাচলে ভোগান্তি শহরবাসীর নিত্যদিনের সমস্যা। এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধানে দৃশ্যমান উদ্যোগের অভাব নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন তারা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রধান মন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে শহরের সড়ক ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার করা এবং নতুন করে রং করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে নিয়মিতভাবে এসব কাজ করা হলে শহরের পরিবেশ ও সৌন্দর্য আরও ভালো রাখা সম্ভব হতো বলে মনে করছেন অনেকে।
এদিকে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে শেরেবাংলা সড়ক এবং শহীদ জহুরুল হক সড়কের (বিচালীহাটি) উন্নয়ন ও ড্রেন নির্মাণের কাজ দীর্ঘদিন আগে শুরু হলেও এখনো উল্লেখযোগ্য কাজ বাকি রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পগুলোর কাজের অগ্রগতি ও মান নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। এ বিষয়ে পৌর প্রশাসন ও স্থানীয় দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ।
স্থানীয়দের অভিযোগ ও প্রশ্নের বিষয়গুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও উঠে আসছে। তাঁদের একাংশের মতে, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সাময়িক সৌন্দর্য্য বর্ধনের পাশাপাশি শহরের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে কার্যকর ও স্থায়ী পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সৈয়দপুরের সড়ক, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, যানজট এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবেন। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ড এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা খতিয়ে দেখারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
স্থানীয়দের আলোচনায় প্রশ্ন উঠেছে, সৈয়দপুরের বাস্তব সমস্যা ও উন্নয়ন সংক্রান্ত অভিযোগগুলো যথাযথভাবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌছাচ্ছে কি না। তাদের মতে, সফর উপলক্ষে নেওয়া সাময়িক পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্য্য বর্ধনের উদ্যোগের পাশাপাশি শহরের স্থায়ী উন্নয়ন নিশ্চিত করা জরুরি।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে সৈয়দপুরবাসীর প্রত্যাশা, শহরের বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোর সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। শুধু বিশেষ সফরকে কেন্দ্র করে নয়, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে সৈয়দপুরকে পরিচ্ছন্ন, যানজটমুক্ত ও নাগরিকবান্ধব শহর হিসেবে গড়ে তোলার পদক্ষেপ দেখতে চান তারা।
মতামত