বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলায় শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে মন্দিরের জন্য বরাদ্দ দেওয়া চাল বিক্রির অর্থ বণ্টন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিটি মন্দিরের জন্য বরাদ্দ ২ হাজার ১০০ কেজি চালের সম্ভাব্য বিক্রয়মূল্য ৮৮ হাজার ২০০ টাকা হলেও পূজা উদ্যাপন কমিটিগুলোকে দেওয়া হয়েছে ৬৯ হাজার টাকা করে। এতে মন্দিরপ্রতি ১৯ হাজার ২০০ টাকা কম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সুভাষ দাসের বিরুদ্ধে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দুর্গাপূজা উপলক্ষে উপজেলার প্রতিটি মন্দিরের জন্য সরকারি বরাদ্দ হিসেবে ৬০০ কেজি চাল দেওয়া হয়। এ ছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্য ও নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসানের পক্ষ থেকে বরাদ্দ দেওয়া হয় আরও ১ হাজার ৫০০ কেজি চাল। সব মিলিয়ে প্রতিটি মন্দিরের জন্য বরাদ্দ দাঁড়ায় ২ হাজার ১০০ কেজি।
উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে গত বুধবার (১৪ অক্টোবর ২০২৬) মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে উপজেলার ২৩টি মন্দিরের বরাদ্দপত্র হস্তান্তর এবং প্রতিমন্ত্রীর পক্ষ থেকে নগদ ৫ হাজার টাকা বিতরণের অনুষ্ঠান হয়।
বিভিন্ন মন্দির কমিটির সূত্রে জানা গেছে, তাঁরা নগদ টাকা পেলেও বরাদ্দের চাল বুঝে পাননি। অভিযোগ রয়েছে, চালের বরাদ্দপত্র নিয়ে যান সুভাষ দাস। পরে উপজেলার পাতারহাট বন্দরের বেকারিপট্টির একটি ফলের দোকানে বসে তিনি প্রতিটি পূজা উদ্যাপন কমিটির নেতার হাতে ৬৯ হাজার টাকা করে দেন।
চালের আড়তদার সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বরাদ্দের চাল প্রতি কেজি ৪২ টাকা দরে বিক্রি করা হলে ২ হাজার ১০০ কেজি চালের মূল্য দাঁড়ায় ৮৮ হাজার ২০০ টাকা। সে হিসাবে মন্দিরপ্রতি ১৯ হাজার ২০০ টাকা কম দেওয়া হয়েছে। তবে চাল বিক্রির প্রকৃত দর নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে।
মদন মোহন মন্দির পূজা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি সুমিত কুমার দাস বলেন, ‘আমরা নিরিবিলি থাকতে চাই। কম-বেশি পেলে তা মন্দির পাবে। এ নিয়ে আর কাদা-ছোড়াছুড়ি করতে চাই না।’
অভিযোগের বিষয়ে সুভাষ দাস বলেন, ২৯৩টি মন্দিরের কর্তৃপক্ষকে চাল নিতে বলা হয়েছিল, কিন্তু তাঁরা চাল নেননি। এ কারণে চালের পরিবর্তে টাকা দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, চার থেকে পাঁচজন চাল ক্রেতার সঙ্গে যাচাই-বাছাই করে প্রতি কেজি ৩৩ টাকা দরে চাল বিক্রি করা হয়েছে। সে হিসাবে প্রতিটি মন্দিরের পাওয়ার কথা ৬৯ হাজার ৩০০ টাকা। তবে দেওয়া হয়েছে ৬৯ হাজার টাকা।
বরাদ্দের চাল বণ্টনের দায়িত্ব তিনি কেন পালন করেছেন, জানতে চাইলে সুভাষ দাস বলেন, ‘দলীয় লোক। এ জন্য আমরা সহযোগিতা করেছি মাত্র।’
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী তৌফিকুর রহমান বিপ্লব বলেন, তাঁরা কোনো নেতাকে বরাদ্দপত্র দেননি; মন্দির কমিটির হাতে বরাদ্দপত্র দিয়েছেন।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক গিয়াস উদ্দিন দিপেন বলেন, বরাদ্দপত্র বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টকে দেওয়া হয়েছে এবং ওই সংগঠন তা বণ্টন করেছে—এ বিষয়ে তিনি জানেন না।
বরাদ্দের চাল বিক্রির প্রকৃত মূল্য, অর্থ বণ্টনের প্রক্রিয়া এবং মন্দির কমিটিগুলোকে কম টাকা দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
মতামত