সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM

দেশের প্রতিটি সংকটে সমাধান নিয়ে হাজির হয়েছে জিয়া পরিবার: তথ্যমন্ত্রী


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| ফটো কার্ড

দেশের প্রতিটি সংকটে সমাধান নিয়ে হাজির হয়েছে জিয়া পরিবার: তথ্যমন্ত্রী
দেশের প্রতিটি সংকটে সমাধান নিয়ে হাজির হয়েছে জিয়া পরিবার: তথ্যমন্ত্রী

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও তার পরিবারের রাজনৈতিক ভূমিকার প্রশংসা করে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এমপি বলেছেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে জিয়া পরিবার একটি বাতিঘর হিসেবে কাজ করছে। দেশের জন্মলগ্ন থেকে যে সংকটই এসেছে, প্রতিটি সংকটের সমাধান হিসেবে জিয়া পরিবার হাজির হয়েছে।

রোববার (১৬ আগস্ট) রাতে বরিশালের গৌরনদী উপজেলা অডিটোরিয়ামে ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বেগম খালেদা জিয়ার অবিস্মরণীয় ভূমিকা ও বর্তমান প্রেক্ষিত’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে যখন দেশের অনেক রাজনৈতিক নেতা আত্মগোপনে চলে গিয়েছিলেন, তখন মেজর জিয়াউর রহমান জাতিকে পথ দেখিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর দেশে যে অস্থিরতা ও সংকট তৈরি হয়েছিল, সেখান থেকেও দেশকে শান্তিপূর্ণ অবস্থায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর জিয়াউর রহমান বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শন প্রণয়ন করেন এবং একটি রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব দেন। তার মৃত্যুর পর দেশে আবার রাজনৈতিক সংকট দেখা দিলে বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ এক দশক রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করে জনগণের রায় নিয়ে ১৯৯১ সালে দেশের প্রথম নির্বাচিত নারী প্রধানমন্ত্রী হন। এর মাধ্যমে তিনি দেশ ও জাতিকে আবারও সংকট থেকে উদ্ধার করেন।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় পার্টির আন্দোলনের মুখে বিএনপি সরকারকে ক্ষমতা ছাড়তে হয়। সে সময় বেগম খালেদা জিয়া সাংবিধানিক পথেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করেন। জাতীয় সংসদে ত্রয়োদশ সংশোধনী পাসের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পরবর্তী নির্বাচনে পরাজয় মেনে নিয়ে তিনি বিরোধী দলের আসনে বসেন। একজন রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে সেদিন তিনি যে দায়িত্ব পালন করেছিলেন, সেটিই তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞার পরিচয় বহন করে।

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ২০০৬ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও পরবর্তী সময়ে ১/১১-এর প্রেক্ষাপটে ‘মাইনাস টু’ তত্ত্বের যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, বেগম খালেদা জিয়া তা ধৈর্যের সঙ্গে মোকাবিলা করেন। দেশ-বিদেশের নানা ষড়যন্ত্রের মধ্যেও ২০০৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার চেষ্টা করেছিলেন।

তিনি বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের কর্মকাণ্ড এবং পরবর্তী সময়ে তাদের রাজনৈতিক পরিণতি দেশের মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বও বিকশিত হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় তিনি আজ দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়েছেন এবং জনগণের ভোটে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি আরও বলেন, ‘এভাবেই জিয়া পরিবার বাংলাদেশের প্রতিটি সংকটে সমাধানের পথ দেখিয়েছে এবং দেশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে।’

জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গৌরনদী উপজেলা ও পৌর শাখা এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান এমপি।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বরিশাল জেলা উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব মিজানুর রহমান খান মুকুল, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম বিপ্লব, সদস্য সচিব জহির সাজ্জাদ হান্নান, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউজ্জামান মিন্টু, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক জাকির হোসেন শরীফ, ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব সফিকুর রহমান শরীফ স্বপনসহ দলীয় নেতাকর্মীরা।

আলোচনা সভা শেষে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬


দেশের প্রতিটি সংকটে সমাধান নিয়ে হাজির হয়েছে জিয়া পরিবার: তথ্যমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ১৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও তার পরিবারের রাজনৈতিক ভূমিকার প্রশংসা করে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এমপি বলেছেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে জিয়া পরিবার একটি বাতিঘর হিসেবে কাজ করছে। দেশের জন্মলগ্ন থেকে যে সংকটই এসেছে, প্রতিটি সংকটের সমাধান হিসেবে জিয়া পরিবার হাজির হয়েছে।

রোববার (১৬ আগস্ট) রাতে বরিশালের গৌরনদী উপজেলা অডিটোরিয়ামে ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বেগম খালেদা জিয়ার অবিস্মরণীয় ভূমিকা ও বর্তমান প্রেক্ষিত’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে যখন দেশের অনেক রাজনৈতিক নেতা আত্মগোপনে চলে গিয়েছিলেন, তখন মেজর জিয়াউর রহমান জাতিকে পথ দেখিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর দেশে যে অস্থিরতা ও সংকট তৈরি হয়েছিল, সেখান থেকেও দেশকে শান্তিপূর্ণ অবস্থায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর জিয়াউর রহমান বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শন প্রণয়ন করেন এবং একটি রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব দেন। তার মৃত্যুর পর দেশে আবার রাজনৈতিক সংকট দেখা দিলে বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ এক দশক রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করে জনগণের রায় নিয়ে ১৯৯১ সালে দেশের প্রথম নির্বাচিত নারী প্রধানমন্ত্রী হন। এর মাধ্যমে তিনি দেশ ও জাতিকে আবারও সংকট থেকে উদ্ধার করেন।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় পার্টির আন্দোলনের মুখে বিএনপি সরকারকে ক্ষমতা ছাড়তে হয়। সে সময় বেগম খালেদা জিয়া সাংবিধানিক পথেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করেন। জাতীয় সংসদে ত্রয়োদশ সংশোধনী পাসের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পরবর্তী নির্বাচনে পরাজয় মেনে নিয়ে তিনি বিরোধী দলের আসনে বসেন। একজন রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে সেদিন তিনি যে দায়িত্ব পালন করেছিলেন, সেটিই তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞার পরিচয় বহন করে।

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ২০০৬ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও পরবর্তী সময়ে ১/১১-এর প্রেক্ষাপটে ‘মাইনাস টু’ তত্ত্বের যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, বেগম খালেদা জিয়া তা ধৈর্যের সঙ্গে মোকাবিলা করেন। দেশ-বিদেশের নানা ষড়যন্ত্রের মধ্যেও ২০০৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার চেষ্টা করেছিলেন।

তিনি বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের কর্মকাণ্ড এবং পরবর্তী সময়ে তাদের রাজনৈতিক পরিণতি দেশের মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বও বিকশিত হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় তিনি আজ দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়েছেন এবং জনগণের ভোটে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি আরও বলেন, ‘এভাবেই জিয়া পরিবার বাংলাদেশের প্রতিটি সংকটে সমাধানের পথ দেখিয়েছে এবং দেশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে।’

জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গৌরনদী উপজেলা ও পৌর শাখা এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান এমপি।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বরিশাল জেলা উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব মিজানুর রহমান খান মুকুল, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম বিপ্লব, সদস্য সচিব জহির সাজ্জাদ হান্নান, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউজ্জামান মিন্টু, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক জাকির হোসেন শরীফ, ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব সফিকুর রহমান শরীফ স্বপনসহ দলীয় নেতাকর্মীরা।

আলোচনা সভা শেষে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream