নওগাঁর পোরশায় চিকিৎসকের পরিবর্তে অজ্ঞাত এক অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে দিয়ে সিজারিয়ান অপারেশন করানো এবং চিকিৎসায় চরম গাফিলতি ও অবহেলার অভিযোগে নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় ‘আল-মদিনা ল্যাব অ্যান্ড হাসপাতাল’-এর মালিক মো. আহসান হাবিবকে আটক করেছে পোরশা থানা পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১০ জুলাই ২০২৬ তারিখ বিকেলে মো. আমিন (৩৮) তাঁর প্রসববেদনায় আক্রান্ত স্ত্রী খাদিজা খাতুনকে নিরাপদ চিকিৎসার আশায় নওগাঁর আল-মদিনা ল্যাব অ্যান্ড হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মোসা. শারমিন আক্তার রোগীর শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা ও আল্ট্রাসনোগ্রাম প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে সিজারিয়ান অপারেশনের পরামর্শ দেন। চিকিৎসকের ওপর আস্থা রেখে পরিবারের পক্ষ থেকে অপারেশনের সম্মতি দেওয়া হয় এবং হাসপাতালের যাবতীয় খরচ পরিশোধ করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পরস্পর যোগসাজশে রোগীর পরিবারকে না জানিয়ে নির্ধারিত চিকিৎসকের পরিবর্তে অজ্ঞাত এক ব্যক্তিকে দিয়ে সিজারিয়ান অপারেশন করান। অপারেশনের পর মা ও নবজাতকের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। এ সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রকৃত ঘটনা গোপন করে সময়ক্ষেপণ করে এবং পরে নবজাতককে নওগাঁ সদর হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
নওগাঁ সদর হাসপাতালের চিকিৎসকেরা নবজাতকের অবস্থা সংকটাপন্ন দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১১ জুলাই ২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে নবজাতকটি মারা যায়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে আদালতে মামলা করা হয়। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম ঘটনার তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেফতারের জন্য পোরশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা ও সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়ার পর পোরশা থানা পুলিশের একটি দল সরাইগাছী এলাকা থেকে মামলার এজাহারনামীয় আসামি ও আল-মদিনা ল্যাব অ্যান্ড হাসপাতালের মালিক মো. আহসান হাবিবকে আটক করে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
চিকিৎসাসেবার নামে এমন গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
মতামত