২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত দক্ষিণ আফ্রিকান আইনজ্ঞ নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাই। আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার রক্ষা এবং যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার বিচারে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি এ বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণা করে।
নাভি পিল্লাই দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্টের প্রথম অশ্বেতাঙ্গ নারী বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ছিলেন। এ ছাড়া রুয়ান্ডার জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতেও বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
বর্ণবাদী শাসনামলে দক্ষিণ আফ্রিকায় আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন নাভি পিল্লাই। বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে তাঁর দীর্ঘ লড়াই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাঁকে পরিচিত করে তোলে। পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।
রুয়ান্ডার গণহত্যার বিচারেও তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য। ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যার অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। গণহত্যায় উসকানিমূলক প্রচারণার অভিযোগে বিচারের ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
নোবেল কমিটির মতে, রাষ্ট্র ও জাতীয় নেতাদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং সহিংসতা ও সংঘাতের শিকার মানুষের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কাজ করেছেন নাভি পিল্লাই। আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োগ ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকা শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ।
গত বছর ২০২৫ সালে ভেনেজুয়েলায় গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের আন্দোলনে ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছিলেন।
মতামত