বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয়করণের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, শিক্ষকদের পদমর্যাদা ও জীবনমান উন্নয়নের স্বার্থে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয়করণ একদিন হবেই।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট আয়োজিত সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মীর শাহে আলম বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা, পেনশন ও মর্যাদা বৃদ্ধিতে শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয়করণের দাবি বাস্তবায়িত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের পরিকল্পনার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এই অর্থ দিয়ে প্রতিষ্ঠানের ছাদে ৫ দশমিক ৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপন করা যাবে।
তার দাবি, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা পাবে। পাশাপাশি ছুটির দিন ও অতিরিক্ত সময়ে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে বিক্রি করে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান মাসে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারবে।
বর্তমান সরকারের সময়ে শিক্ষা বাজেট তিন গুণ এবং স্বাস্থ্য বাজেট দ্বিগুণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদার গুরুত্ব তুলে ধরে মীর শাহে আলম বলেন, শিক্ষকতা এমন একটি পেশা, যার মাধ্যমে পৃথিবীর অন্যান্য সব পেশার সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষকরা সমাজের চালিকাশক্তি ও গণতন্ত্রের বার্তাবাহক উল্লেখ করে তাদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে এমন অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র সাত মাস। দীর্ঘ আন্দোলনের পর অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার দায়িত্ব নিয়েছে এবং শিক্ষা খাতকে পুনরুজ্জীবিত করার কাজ করছে।
তিনি জানান, আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত অবসরে যাওয়া প্রায় এক লাখ শিক্ষক-শিক্ষিকার ভাতা পরিশোধের জন্য এরই মধ্যে ২ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করা হয়েছে।
শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয়করণ বাস্তবায়নে বছরে অতিরিক্ত ৭০০ থেকে ৮০০ কোটি টাকা প্রয়োজন বলেও জানান তিনি। এ দাবিতে সুশৃঙ্খল ও বৃহৎ পরিসরে জাতীয় সমাবেশ করে মানবিক ও গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি তুলে ধরার পরামর্শ দেন প্রতিমন্ত্রী। বর্তমান সরকার এ দাবির গুরুত্ব বিবেচনা করবে বলেও আশাবাদ জানান তিনি।
এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষকদের অংশগ্রহণ নিয়ে বিতর্কের বিষয়ে মীর শাহে আলম বলেন, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পুরোপুরি জাতীয়করণ না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষকদের অংশ নিতে আইনি বা নীতিগত কোনো বাধা নেই।
মতামত