বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

আবরার হত্যার আজ ৭ বছর : দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি পরিবারের



আবরার হত্যার আজ ৭ বছর : দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি পরিবারের
আবরার হত্যার আজ ৭ বছর : দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি পরিবারের

বুয়েট শিক্ষার্থী শহীদ আবরার ফাহাদের ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শেরেবাংলা হলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নির্যাতনে নিহত হন কুষ্টিয়ার সন্তান আবরার ফাহাদ।

সন্তানের মৃত্যুর সাত বছর পেরিয়ে গেলেও হত্যায় জড়িত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং আদালতের দেওয়া রায় কার্যকর না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আবরারের পরিবার। দ্রুত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করে রায় কার্যকরের দাবিও জানিয়েছেন তারা।

কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই সড়কের পাশে আবরার ফাহাদের বাড়ি। ঘরের শোকেসে এখনো সাজানো রয়েছে তার ব্যবহৃত মোবাইল, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র। আগের মতোই রয়েছে তার বিছানা ও পড়ার টেবিল। শুধু নেই আবরার। ছেলের ব্যবহৃত জিনিসপত্র ও অসংখ্য স্মৃতি আঁকড়ে ধরে দিন কাটছে মা রোকেয়া খাতুন ও বাবা বরকত উল্লাহর। সন্তানের নির্মম হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি এখনো তাদের তাড়িয়ে বেড়ায়।

মা রোকেয়া খাতুন বলেন, ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর কুষ্টিয়া থেকে বুয়েটের উদ্দেশে বাসে তুলে দিয়েছিলাম। কে জানতো এই দিনই আমার ছেলের সাথে শেষ দেখা। এই বিদায় যে জীবনের শেষ বিদায় হয়ে যাবে, তা  জানলে ছেলেকে আর পাঠাতাম না।

সেদিন রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের একটি কক্ষে আবরার ফাহাদকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। পরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

বাবা বরকত উল্লাহ বলেন, আমার ছেলে হত্যার  সাত বছর পার হলেও আদালতের দেওয়া রায় পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। আসামি এখনো পলাতক রয়েছে। আমরা শুধু দিন গুনছি কবে রায় পুরোপুরি কার্যকর হবে।

এদিকে নাতির হত্যার বিচারের রায় কার্যকরের অপেক্ষায় রয়েছেন আবরারের ১০৫ বছর বয়সী দাদা আব্দুল গফুর। জীবদ্দশায় নাতি আবরার ফাহাদ হত্যার রায় কার্যকর দেখে যেতে চান তিনি।

আবরার ফাহাদের হত্যাকাণ্ডের সাত বছর পরও ঘটনাটি কুষ্টিয়াবাসীর মনে গভীরভাবে নাড়া দেয়। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করে দ্রুত রায় কার্যকর এবং আবরারের স্বপ্নের বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

শহীদ আবরার ফাহাদ স্মৃতি গ্রন্থাগারের উপদেষ্টা সুলতান মারুফ তালহা বলেন, আবরার ফাহাদ হয়তো তার আদর্শ, স্মৃতি ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে মানুষের মাঝে বেঁচে থাকবেন। কিন্তু মা রোকেয়া খাতুন ও বাবা বরকত উল্লাহ আর কোনোদিন ফিরে পাবেন না তাদের সন্তানকে। আমরা সব সময় প্রতাশা করি আদালতের রায় যেন দ্রুত পুরোপুরি কার্যকর হয়।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬


আবরার হত্যার আজ ৭ বছর : দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি পরিবারের

প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

বুয়েট শিক্ষার্থী শহীদ আবরার ফাহাদের ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শেরেবাংলা হলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নির্যাতনে নিহত হন কুষ্টিয়ার সন্তান আবরার ফাহাদ।

সন্তানের মৃত্যুর সাত বছর পেরিয়ে গেলেও হত্যায় জড়িত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং আদালতের দেওয়া রায় কার্যকর না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আবরারের পরিবার। দ্রুত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করে রায় কার্যকরের দাবিও জানিয়েছেন তারা।

কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই সড়কের পাশে আবরার ফাহাদের বাড়ি। ঘরের শোকেসে এখনো সাজানো রয়েছে তার ব্যবহৃত মোবাইল, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র। আগের মতোই রয়েছে তার বিছানা ও পড়ার টেবিল। শুধু নেই আবরার। ছেলের ব্যবহৃত জিনিসপত্র ও অসংখ্য স্মৃতি আঁকড়ে ধরে দিন কাটছে মা রোকেয়া খাতুন ও বাবা বরকত উল্লাহর। সন্তানের নির্মম হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি এখনো তাদের তাড়িয়ে বেড়ায়।

মা রোকেয়া খাতুন বলেন, ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর কুষ্টিয়া থেকে বুয়েটের উদ্দেশে বাসে তুলে দিয়েছিলাম। কে জানতো এই দিনই আমার ছেলের সাথে শেষ দেখা। এই বিদায় যে জীবনের শেষ বিদায় হয়ে যাবে, তা  জানলে ছেলেকে আর পাঠাতাম না।

সেদিন রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের একটি কক্ষে আবরার ফাহাদকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। পরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

বাবা বরকত উল্লাহ বলেন, আমার ছেলে হত্যার  সাত বছর পার হলেও আদালতের দেওয়া রায় পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। আসামি এখনো পলাতক রয়েছে। আমরা শুধু দিন গুনছি কবে রায় পুরোপুরি কার্যকর হবে।

এদিকে নাতির হত্যার বিচারের রায় কার্যকরের অপেক্ষায় রয়েছেন আবরারের ১০৫ বছর বয়সী দাদা আব্দুল গফুর। জীবদ্দশায় নাতি আবরার ফাহাদ হত্যার রায় কার্যকর দেখে যেতে চান তিনি।

আবরার ফাহাদের হত্যাকাণ্ডের সাত বছর পরও ঘটনাটি কুষ্টিয়াবাসীর মনে গভীরভাবে নাড়া দেয়। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করে দ্রুত রায় কার্যকর এবং আবরারের স্বপ্নের বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

শহীদ আবরার ফাহাদ স্মৃতি গ্রন্থাগারের উপদেষ্টা সুলতান মারুফ তালহা বলেন, আবরার ফাহাদ হয়তো তার আদর্শ, স্মৃতি ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে মানুষের মাঝে বেঁচে থাকবেন। কিন্তু মা রোকেয়া খাতুন ও বাবা বরকত উল্লাহ আর কোনোদিন ফিরে পাবেন না তাদের সন্তানকে। আমরা সব সময় প্রতাশা করি আদালতের রায় যেন দ্রুত পুরোপুরি কার্যকর হয়।



Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream