ডেঙ্গু,হাম, ডায়রিয়া শ্বাসকষ্টজনিত রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে। এখন হাসপাতালের মেঝেতেই বিছানা পেতে রোগীকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এতে শ্বাসকষ্ট রোগীদের আরো কষ্ট বাড়ছে। উপজেলার এ হাসপাতালটি বহু আগেই কাগজ-কলমে ৩০ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও শয্যা এখনও ৩০টি রয়েছে।
খবর নিয়ে জানা গেছে , এ বছরের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত এ হাসপাতাল থেকে ৮৭ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান , সেপ্টেম্বের মাসেই ৪৫জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এ হাসপাতালে ভর্তি হয়। গতকাল ৯ ডেঙ্গু রোগীকে এ হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে। ডেঙ্গুর বিস্তাররোধে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা বেডের ব্যবস্থা করে রোগীকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। তবে হাসপাতাল সুত্রে জানা গেছে , ডেঙ্গু রোগীর চাপ বাড়লে ডেঙ্গু রোগীদের মেঝেতেই বিছানা করে চিকিৎসা নিতে হবে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে শাহজাদপুরের হামের প্রকোপ কিছুটা কমলেও গত নয় মাসে হাম উপসর্গ নিয়ে ৪১জন রোগী এ হাসপাতালে ভর্তি হয়। সবাইকে চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে সম্প্রতি ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়ছে। প্রতিদিন ডায়রিয়া রোগীর চাপ বাড়ছে। এ ছাড়াও মরসুম পরিবর্তনের কারনে শ্বাসকষ্ট জনিত রোগীর পাশাপাশি নানা ধরনের অসুখবিসুখ নিয়ে প্রতিদিন অনেকেই এ হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। ফলে শয্যা সংকট লেগেই আছে।
হাসপাতালের কর্তব্যরত নার্সিং সুপারভাইজার মিসেস শাহানারা খাতুন জানান, হাসপাতালটি ৩০ থেকে ৫০ শশ্যায় উন্নীত করা হলেও এখানে বেডের সংখ্যা আগের ৩০টি রয়েছে। তিনি জানান, সেপ্টেম্বর মাসে শুধু ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৪৫জন বিভিন্ন বয়সের রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়। ডেঙ্গু রোগীদের আলাদা বেড করে সেখানে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গত বুধবার হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে ৯জন ডেঙ্গু রোগীকে এখনও হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার মোঃ মাসুদ রানা জানান, এ মরসুমে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা ৪১জন রোগীকে হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বহিঃবিভাগ থেকে অনেক হামের রোগী চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। যারা শ্বাসকষ্ট ও হাড়ের সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে আসছেন , তাদের পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করতেই হচ্ছে। এছাড়া ডায়রিয়া ও পেটের পীড়া নিয়ে যারা হাসপাতালে আসছেন তাদের অনেককেই হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। এর ফলে রোগীর চাপ প্রতিদিন বাড়ছে। তিনি আরো জানান, হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও জনবল, ডাক্তার ও অবকাঠামোর সহ শয্যা বৃদ্ধি না করায় সেবার পরিধি বাড়ানো কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। শয্যা সংকটে অনেক রোগীকে হাসপাতালের মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
মতামত