‘যেখানে মানবতা, সেখানেই আমাদের পথচলা’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার কালিঞ্জিপাড়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় দুটি ফগার মেশিন এবং রাতে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ১১টি ল্যাম্পপোস্ট স্থাপন করেছে কালিঞ্জিপাড়া সূর্য তরুণ সামাজিক ও সহযোগী সংগঠন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় কালিঞ্জিপাড়ার মজুমদার বাড়ি মসজিদ রোড সংলগ্ন এলাকায় এসব ফগার মেশিন ও ল্যাম্পপোস্টের উদ্বোধন করা হয়।
কালিঞ্জিপাড়া সূর্য তরুণ সামাজিক ও সহযোগী সংগঠনের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ শাহাবুদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরুড়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার আনিসুর রহমান।
প্রধান অতিথি সূর্য তরুণ সামাজিক ও সহযোগী সংগঠনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক এ ধরনের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। মানুষের কল্যাণ ও এলাকার উন্নয়নে সংগঠনটি ভবিষ্যতেও আরও বেশি সামাজিক কর্মকাণ্ড নিয়ে এগিয়ে যাবে বলে আমি আশাবাদী। সংগঠনটির এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং আগামী দিনে আরও বৃহৎ পরিসরে মানুষের পাশে দাঁড়াবে—এ কামনা করছি।”
আয়োজকরা জানান, স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তা, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ডেঙ্গুর প্রকোপের পাশাপাশি এলাকায় মশা-মাছি ও ক্ষতিকর পোকামাকড়ের উপদ্রব রয়েছে। এ কারণে দুটি ফগার মেশিনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসব মেশিনের মাধ্যমে সপ্তাহে অন্তত একবার পুরো এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, রাতের বেলায় মানুষের চলাচল নিরাপদ করা এবং অন্ধকারজনিত বিভিন্ন ঝুঁকি কমাতে প্রাথমিকভাবে ১১টি ল্যাম্পপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে কালিঞ্জিপাড়ার পুরো এলাকাকে সোলার ল্যাম্পপোস্টের আওতায় আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।
আয়োজকদের দাবি, ল্যাম্পপোস্ট স্থাপনের ফলে এলাকার রাস্তাগুলো আলোকিত হবে। এতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি নারী ও শিশুরা রাতে স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তার সঙ্গে চলাচল করতে পারবেন। একই সঙ্গে ফগার মেশিনের নিয়মিত ব্যবহারে মশার উপদ্রব কমিয়ে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সহায়ক হবে বলে তারা আশা করছেন।
সংগঠনটি একটি অরাজনৈতিক সামাজিক সংগঠন হিসেবে বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ভবিষ্যতেও সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মসূচি অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে আমরাতলী মডেল গার্লস স্কুলের শিক্ষক জালাল উদ্দিন মামুনের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মনোহরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক নাজমুল হাসান নওফেল। এছাড়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তারা, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সংগঠনের উপদেষ্টা ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
মতামত