হার নিশ্চিত জেনেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জামায়াত জোট, কেন এই কৌশল?
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীর জয় প্রায় নিশ্চিত—তারপরও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী দিয়েছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, পরাজয়ের সম্ভাবনা জেনেও কেন নির্বাচনের মাঠে নামল তারা?
এবার রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অন্যদিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট মনোনয়ন দিয়েছে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান ও মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে।
সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ভোটেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। বর্তমান সংসদে বিএনপির ২৪৭ জন সদস্য থাকায় দলটির প্রার্থী সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় সুবিধায় রয়েছেন। এর সঙ্গে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ থাকায় দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে সংসদ সদস্যদের ভোট দেওয়ার সুযোগও সীমিত।
ফলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ফল নিয়ে অনিশ্চয়তা কম। কিন্তু তারপরও অলি আহমদকে প্রার্থী করে জামায়াত জোট মূলত রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে।
জামায়াত নেতা হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, জয়-পরাজয় তাদের কাছে মূল বিষয় নয়। প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচন না হওয়াই তাদের লক্ষ্য। তার মতে, নির্বাচনে প্রতিযোগিতা থাকাটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।
তবে বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, এর পেছনে আরও বড় রাজনৈতিক হিসাব রয়েছে। নির্বাচনে অংশ নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করা, ভবিষ্যতের রাজনৈতিক দরকষাকষিতে নিজেদের অবস্থান শক্ত করা এবং সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় সংস্কার নিয়ে বিতর্ককে সামনে রাখাও জোটটির উদ্দেশ্য হতে পারে।
অলি আহমদকে প্রার্থী করার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। একজন স্বীকৃত মুক্তিযোদ্ধাকে সামনে রেখে জামায়াত জোট সাধারণ মানুষের কাছে ভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের অনেকে।
অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদের মতে, রাষ্ট্রপতির মতো সাংবিধানিক পদে প্রার্থী বাছাইয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আগে আলোচনা হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। তার মতে, এই নির্বাচন দুই রাজনৈতিক পক্ষের মধ্যে সংলাপ ও পারস্পরিক সমঝোতার ঘাটতিও প্রকাশ করছে।
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ১৬ আগস্ট এবং প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৮ আগস্ট। এরপর ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে ভোটগ্রহণের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হবে।
১৯৯১ সালের পর এবারই প্রথম রাষ্ট্রপতি পদে একাধিক প্রার্থী নিয়ে নির্বাচন হতে যাচ্ছে। তাই ফলাফল প্রায় অনুমিত হলেও জামায়াত জোটের এই অংশগ্রহণকে শুধু নিয়ম রক্ষার লড়াই হিসেবে দেখছেন না বিশ্লেষকরা। বরং সামনে আসছে আরও বড় প্রশ্ন—এই নির্বাচন কি ভবিষ্যৎ রাজনীতির নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে?
মতামত