সিলেটের সীমান্তঘেঁষা উপজেলা গোয়াইনঘাটে মাদক, চোরাচালান ও সীমান্ত অপরাধ দমনে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে থানা পুলিশ। গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ওমর ফারুকের সার্বিক দিকনির্দেশনায় পুলিশের এসব অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসামিকে গ্রেপ্তার এবং বিপুল পরিমাণ মাদক ও চোরাচালানি পণ্য জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, অপরাধ দমনে তাদের কঠোর অবস্থানের কারণে একটি স্বার্থান্বেষী মহল ক্ষুব্ধ হয়ে থানার ওসি, সেকেন্ড অফিসার এসআই তানভীর ফয়েজসহ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা চালাচ্ছে। পুলিশের পক্ষ থেকে এসব প্রচারণাকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করা হয়েছে।
থানা সূত্রে জানা যায়, গত ৩ জুলাই থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন মামলায় মোট ২৫৩ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে মাদক মামলায় ৩২ জন, চোরাচালান মামলায় ২৩ জন, জিআর পরোয়ানায় ৬১ জন, জিআর সাজা পরোয়ানায় ১৩ জন, সিআর পরোয়ানায় ৪০ জন, সিআর সাজা পরোয়ানায় ১১ জন এবং নিয়মিত মামলায় ৬৪ জন রয়েছেন। এছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় আরও ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের তথ্যমতে, এ সময়ে মাদকবিরোধী ২৮টি মামলায় ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে ১৬০ লিটার চোলাই মদ, ২ হাজার ৫৭৫ বোতল ভারতীয় এসকাফ কফ সিরাপ, ১৬৭ বোতল ও ৪২ ক্যান বিভিন্ন ধরনের ভারতীয় মদ, ১ হাজার ৬৮০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ৬১ দশমিক ৫ পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা মাদকের আনুমানিক মূল্য ৬০ লাখ টাকার বেশি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সীমান্তবর্তী উপজেলা হওয়ায় চোরাচালান প্রতিরোধেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে থানা পুলিশ। গত ৩ জুলাই থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৭টি চোরাচালান মামলায় ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসব অভিযানে ৩ লাখ ১২ হাজার ৫০০ শলাকা ভারতীয় নাসির বিড়ি, প্রায় ১ হাজার ৯০০ কেজি ভারতীয় জিরা, ৯ হাজার ৮৭২ পিস বিভিন্ন কোম্পানির ভারতীয় চকলেট ও অন্যান্য সামগ্রী, ২২০ বোতল ভারতীয় অলিভ অয়েল, ডাবর আমলা হেয়ার অয়েল ও বিভিন্ন প্রসাধনী সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে।
এছাড়া ভারতীয় আইফোন, অন্যান্য মোবাইল ফোন ও ব্যাগেজ সামগ্রীসহ চোরাচালানে ব্যবহৃত একটি পুরোনো রেজিস্ট্রেশনবিহীন সিএনজি, একটি পিকআপ, একটি ডিআই পিকআপ, ইঞ্জিনচালিত কাঠ ও বারকি নৌকা এবং বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল জব্দের কথাও জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, সীমান্ত অপরাধ, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে অভিযান জোরদার হওয়ার পর থেকেই একটি মহল বিভিন্ন মাধ্যমে পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণা চালাচ্ছে। তবে এসব প্রচারণায় কান না দিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ওমর ফারুক বলেন, “গোয়াইনঘাট উপজেলাকে মাদক, চোরাচালানসহ সব ধরনের অপরাধমুক্ত করতে থানা পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছে। কোনো বিভ্রান্তিকর প্রচারণায় কান না দিয়ে অপরাধ দমনে পুলিশকে সহযোগিতা করার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানাই।”
তিনি আরও বলেন, সীমান্ত অপরাধ দমন, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবেন
মতামত