মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রচলিত ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ (এআই) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নাম পরিবর্তনের পক্ষে মত দিয়েছেন। প্রযুক্তিটির নতুন নামকরণের প্রস্তাব দেওয়ার পাশাপাশি তিনি ‘এআই ফোর্স’ নামে একটি নতুন বিশেষ সামরিক কাঠামোর ব্যবস্থা গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে এ খাতের তদারকিতে শিগগিরই একজন ‘এআই জার’ নিয়োগের কথাও জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া ধারাবাহিক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এসব কথা জানান।
ট্রাম্প উল্লেখ করেন, অনেকেই মনে করেন প্রযুক্তিটির জন্য ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ নামটি পুরোপুরি যথাযথ নয়। এরপর নিজের অনুসারীদের মতামত জানতে ট্রুথ সোশ্যালে একটি অনলাইন ভোটের (পোল) আয়োজন করেন তিনি। সেখানে বিকল্প হিসেবে তিনটি নতুন নাম প্রস্তাব করেন—‘সুপিরিয়র ইন্টেলিজেন্স’, ‘এক্সট্রিম ইন্টেলিজেন্স’ ও ‘সুপ্রিম ইন্টেলিজেন্স’।
এর কয়েক ঘণ্টা পর অপর এক পোস্টে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতকে ধ্বংস বা দুর্বল করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। বিষয়টিকে তিনি ডেমোক্র্যাটদের আগের বিভিন্ন রাজনৈতিক ‘হোক্স’ বা ভিত্তিহীন প্রচারণার সঙ্গে তুলনা করেন।
প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম টেকক্রাঞ্চ জানিয়েছে, ট্রাম্প তার এই দাবির পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দেননি। তবে বাস্তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের জন্য তথ্যকেন্দ্র (ডাটা সেন্টার) নির্মাণ নিয়ে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলের রাজনীতিকদের মধ্যেই সমালোচনা রয়েছে। এমনকি মাত্রাতিরিক্ত জ্বালানি ব্যবহারের কারণে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য সম্প্রতি বড় ডাটা সেন্টার নির্মাণের নতুন অনুমোদন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।
ট্রাম্প অতীতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় কিছু নিরাপত্তাবিধি থাকার পক্ষে কথা বললেও বর্তমানে তিনি প্রযুক্তিটি নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। শনিবারের ঘোষণায় তিনি মার্কিন এআই শিল্পের সুরক্ষা ও বিকাশ ত্বরান্বিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জানান, তাঁর প্রথম মেয়াদে গঠিত ‘স্পেস ফোর্স’-এর আদলেই নতুন ‘এআই ফোর্স’ গঠন করা হবে।
এর পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসংক্রান্ত বিষয়গুলো সমন্বয়ের জন্য একজন ‘এআই জার’ নিয়োগের কথা জানান তিনি। তবে প্রস্তাবিত এই ‘এআই ফোর্স’ এবং ‘এআই জার’-এর সুনির্দিষ্ট আইনি বা সাংগঠনিক দায়িত্ব কী হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করা হয়নি।
এর আগে ট্রাম্প প্রশাসনে ডেভিড স্যাকস কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ক্রিপ্টোবিষয়ক নীতিমালার দায়িত্বে ছিলেন। চলতি বছরের শুরুতে তিনি ওই পদ ছেড়ে প্রেসিডেন্টের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা পরিষদের সহসভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ফলে নতুন এআই কাঠামো কার নেতৃত্বে কীভাবে পরিচালিত হবে, সেদিকে এখন প্রযুক্তি বিশ্বের নজর।
মতামত