পটুয়াখালীর বাউফলে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী ও ব্যবসায়ী গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডলকে প্রাণনাশ ও জীবিত পুড়িয়ে মারার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে বিএনপি নেতা ফরিদ উদ্দিন গাজীকে দলীয় সব সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি সরকার কুট্টি ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. মজিবুর রহমান টোটুল স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়, ফরিদ উদ্দিন গাজীর বিরুদ্ধে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডলকে প্রাণনাশের হুমকি, বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জীবিত পুড়িয়ে মারার হুমকি দেওয়ার অভিযোগসংক্রান্ত একটি কল রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে। এতে দলের শৃঙ্খলা ও আদর্শের পরিপন্থি কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠায় দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
এ অবস্থায় দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা ও সাংগঠনিক ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখার স্বার্থে জেলা বিএনপির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফরিদ উদ্দিন গাজীকে বাউফল উপজেলা বিএনপির সদস্য পদসহ দলের সব সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
ওই চিঠির অনুলিপি বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, বাউফল উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবসহ সংশ্লিষ্ট নেতাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডলকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ফরিদ উদ্দিন গাজীর বিরুদ্ধে বাউফল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। অভিযোগসংক্রান্ত প্রায় ১ মিনিট ৫৭ সেকেন্ডের একটি কথোপকথনের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডলকে পুড়িয়ে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল বাউফল সদর ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং ঢাকায় জমি কেনাবেচার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তিনি আসন্ন ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে এলাকায় ব্যানার ও ফেস্টুন টানিয়েছেন বলে জানা গেছে। তার অভিযোগ, প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।
এদিকে হুমকির অভিযোগ ওঠার পর ফরিদ উদ্দিন গাজীকে অন্য একটি মামলায় পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলে জানিয়েছেন বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম। তিনি জানান, ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ফরিদ উদ্দিন গাজীকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মতামত