মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM

কওমি ছাত্র ঐক্যের আপত্তি উড়িয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কনসার্ট



কওমি ছাত্র ঐক্যের আপত্তি উড়িয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কনসার্ট

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের নবীনবরণ উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নিয়ে আপত্তি ওঠার পর শেষ পর্যন্ত ‘সমঝোতার’ ভিত্তিতে বিকল্প ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হয়েছে কনসার্ট। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কলেজের দক্ষিণ ক্যাম্পাসে আয়োজিত এ কনসার্টে প্রিয় ব্যান্ড ‘হাইওয়ে’র গান শুনতে শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন বয়সী শ্রোতাদের ব্যাপক সমাগম ঘটে।

আয়োজকরা শুরু থেকেই অনুষ্ঠানটিকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করলেও কনসার্ট বন্ধের দাবিতে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের আপত্তির কারণে শেষ মুহূর্তে ভেন্যু পরিবর্তন করা হয়। কলেজের মূল ক্যাম্পাসের পরিবর্তে দক্ষিণ ক্যাম্পাসে আয়োজন করা হয় সংগীত পরিবেশনার এই পর্ব।

নবীনবরণ অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় সোমবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে। কলেজের মূল ক্যাম্পাস-সংলগ্ন নিয়াজ মুহম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে আলোচনা সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য খালেদ হোসেন মাহবুব। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম, জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি জহিরুল হক, সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান মোল্লাসহ অন্যরা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ এ কে এম ওবায়দুল হক।

নবীনবরণ ও আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শেষে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কলেজের দক্ষিণ ক্যাম্পাসে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া আয়োজনে পরে মঞ্চে ওঠেন জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘হাইওয়ে’র ভোকাল হাসান ইথার ও তার দলের সদস্যরা।

প্রিয় ব্যান্ডের গান শুনতে শুরু থেকেই দক্ষিণ ক্যাম্পাসে ভিড় করতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। ‘হাইওয়ে’র পরিবেশনা শুরু হলে পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে উচ্ছ্বাস। গানের তালে তালে আনন্দে মেতে ওঠেন উপস্থিত শিক্ষার্থীরা।

তিনটি গান পরিবেশনের পর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আসরের নামাজের জন্য বিরতি দেওয়া হয়। বিরতি শেষে আবারও মঞ্চে ফিরে আসেন হাসান ইথার ও তার দল। একের পর এক গানে শ্রোতাদের মাতিয়ে রাখেন তারা। শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শেষ হয় নবীনবরণের সাংস্কৃতিক আয়োজন।

এর আগে গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে নবীনবরণ কনসার্ট বন্ধের দাবিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য খালেদ হোসেন মাহবুব ও জেলা পরিষদ প্রশাসক সিরাজুল ইসলামের কাছে স্মারকলিপি দেয় কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ।

পরদিন শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সংসদ সদস্য খালেদ হোসেন মাহবুবের বাসভবনে কওমি ছাত্র নেতাদের সঙ্গে কলেজ কর্তৃপক্ষের একটি ‘সমঝোতা বৈঠক’ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, কলেজের প্রধান ক্যাম্পাসে নবীনবরণ, আলোচনা সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। আর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে কলেজের দক্ষিণ ক্যাম্পাসে। পাশাপাশি অনুষ্ঠানে কোনো ধরনের ‘অশ্লীলতা হবে না’—এমন শর্তও নির্ধারণ করা হয়।

সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সোমবার মূল ক্যাম্পাসে নবীনবরণের আনুষ্ঠানিকতা এবং দক্ষিণ ক্যাম্পাসে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। আপত্তি ও ভেন্যু পরিবর্তনের মধ্যেও শেষ পর্যন্ত কনসার্টে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি ও উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


কওমি ছাত্র ঐক্যের আপত্তি উড়িয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কনসার্ট

প্রকাশের তারিখ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের নবীনবরণ উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নিয়ে আপত্তি ওঠার পর শেষ পর্যন্ত ‘সমঝোতার’ ভিত্তিতে বিকল্প ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হয়েছে কনসার্ট। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কলেজের দক্ষিণ ক্যাম্পাসে আয়োজিত এ কনসার্টে প্রিয় ব্যান্ড ‘হাইওয়ে’র গান শুনতে শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন বয়সী শ্রোতাদের ব্যাপক সমাগম ঘটে।

আয়োজকরা শুরু থেকেই অনুষ্ঠানটিকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করলেও কনসার্ট বন্ধের দাবিতে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের আপত্তির কারণে শেষ মুহূর্তে ভেন্যু পরিবর্তন করা হয়। কলেজের মূল ক্যাম্পাসের পরিবর্তে দক্ষিণ ক্যাম্পাসে আয়োজন করা হয় সংগীত পরিবেশনার এই পর্ব।

নবীনবরণ অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় সোমবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে। কলেজের মূল ক্যাম্পাস-সংলগ্ন নিয়াজ মুহম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে আলোচনা সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য খালেদ হোসেন মাহবুব। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম, জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি জহিরুল হক, সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান মোল্লাসহ অন্যরা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ এ কে এম ওবায়দুল হক।

নবীনবরণ ও আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শেষে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কলেজের দক্ষিণ ক্যাম্পাসে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া আয়োজনে পরে মঞ্চে ওঠেন জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘হাইওয়ে’র ভোকাল হাসান ইথার ও তার দলের সদস্যরা।

প্রিয় ব্যান্ডের গান শুনতে শুরু থেকেই দক্ষিণ ক্যাম্পাসে ভিড় করতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। ‘হাইওয়ে’র পরিবেশনা শুরু হলে পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে উচ্ছ্বাস। গানের তালে তালে আনন্দে মেতে ওঠেন উপস্থিত শিক্ষার্থীরা।

তিনটি গান পরিবেশনের পর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আসরের নামাজের জন্য বিরতি দেওয়া হয়। বিরতি শেষে আবারও মঞ্চে ফিরে আসেন হাসান ইথার ও তার দল। একের পর এক গানে শ্রোতাদের মাতিয়ে রাখেন তারা। শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শেষ হয় নবীনবরণের সাংস্কৃতিক আয়োজন।

এর আগে গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে নবীনবরণ কনসার্ট বন্ধের দাবিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য খালেদ হোসেন মাহবুব ও জেলা পরিষদ প্রশাসক সিরাজুল ইসলামের কাছে স্মারকলিপি দেয় কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ।

পরদিন শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সংসদ সদস্য খালেদ হোসেন মাহবুবের বাসভবনে কওমি ছাত্র নেতাদের সঙ্গে কলেজ কর্তৃপক্ষের একটি ‘সমঝোতা বৈঠক’ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, কলেজের প্রধান ক্যাম্পাসে নবীনবরণ, আলোচনা সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। আর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে কলেজের দক্ষিণ ক্যাম্পাসে। পাশাপাশি অনুষ্ঠানে কোনো ধরনের ‘অশ্লীলতা হবে না’—এমন শর্তও নির্ধারণ করা হয়।

সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সোমবার মূল ক্যাম্পাসে নবীনবরণের আনুষ্ঠানিকতা এবং দক্ষিণ ক্যাম্পাসে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। আপত্তি ও ভেন্যু পরিবর্তনের মধ্যেও শেষ পর্যন্ত কনসার্টে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি ও উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream