জামালপুরের মাদারগঞ্জে স্কুল ছাত্রী মরিয়ম আক্তার হত্যার বিষয়ে ধর্ষক জামিলুল ইসলাম ও তার স্ত্রী সুবেদা বেগমের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। পুলিশ দুই আসামীকেই গ্রেপ্তারের পর আদালতে সোর্পদ করে। পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে আসামীদের কারাগারে পাঠায় আদালত।
মাদারগঞ্জ উপজেলার চরলোটাবর গ্রামের বাহাদুর মিয়ার কন্যা স্কুল ছাত্রী মরিয়ম আক্তার ১০ সেপ্টেম্বর সকালে বাড়ী থেকে স্কুলে যায়। স্কুল থেকে আর বাড়ী ফিরে আসেনি। নিখোঁজ হওয়ার ৩ দিন পর ১৩ সেপ্টেম্বর মাদারগঞ্জ মডেল থানার পুলিশ মরিয়ম আক্তারের লাশ উদ্ধার করে। তার লাশ ধর্ষক জামিলুল ইসলামের বসত ঘরের মেঝেতে পুতে রাখা হয়ে ছিলো। পুলিশের উপস্থিতিতে মরিয়মের লাশ মাটির নিচ থেকে উদ্ধার হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ১০ সেপ্টেম্বর সকাল ৮.৩০ ঘটিকার সময় মরিয়ম আক্তার সিদুলী সরকারি প্রাইমারী স্কুলে যায়। সে সিদুলী সরকারি প্রাইমারী স্কুলের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলো। স্কুল তালাবদ্ধ থাকায় স্কুলের পাশেই তার বান্ধবীর বাড়ীতে যায়। বান্ধবী ও তার মা বাড়ীতে না থাকায় মরিয়মের বান্ধবীর বাবা জামিলুল ইসলাম(৪৫) একাই বাড়ীতে অবস্থান করছিলেন। মরিয়ম আক্তার বাড়ীতে যাওয়ার পর জামিলুল ইসলাম একা পেয়ে জোর পূর্বক মরিয়মকে ধর্ষণ করে। ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য জন্য গলায় ওড়না পেচিয়ে শ^াষরুদ্ধ করে মরিয়মকে হত্যা করে জামিলুল। এর পর নিজ ঘরের মেঝেতে মাটিচাপা দেয় মরিয়মের লাশ।
অন্য দিকে মরিয়মকে না পেয়ে তার পরিবারের সদস্যরা তাকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখোঁজি করতে থাকে। উক্ত বিষয়ে মরিয়মের মা মাদারগঞ্জ মডেল থানায় একটি জিডি করেন। জিডি নং ৪৮৪। ঘটনার ৩ দিন পর পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে চরলোটাবর গ্রামে জামিলুল ইসলামের বাড়ীতে অভিযান চালিয়ে মাটির নিচ থেকে মরিয়মের লাশ উদ্ধার করে। একই সময় জামিলুল ইসলাম ও তার স্ত্রী সুবেদা বেগমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মাদারগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ¯েœহাশীষ রায় জানান, বসত ঘরের মালিক জামিলুল ইসলাম ও তার স্ত্রী সুবেদা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জামিলুল ইসলাম স্বীকার করেছে হত্যার পূর্বে স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছিলো। ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্যই জামিলুল তাকে হত্যা করে নিজ বসত ঘরের মেঝেতে মাটিচাপা দিয়ে রাখে।
মাদারগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া বলেন, জামিলুল ইসলাম নিজেই ধর্ষক এবং ঘাতক। তার স্ত্রী বিষয়টি জানার পর গোপন রাখার চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেন, লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে। রিপোর্ট পেলে আরও নির্ভরযোগ্য বিস্তারিত বলা যাবে। তিনি বলেন, আসামীরা বর্তমানে কারাগারে রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন করা হবে। আদালতের অনুমতি পাওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদের কার্যক্রম শুরু হবে।
মতামত