পাইকগাছায় মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও জমি দখলের প্রতিবাদ করায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং নিজেদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোকে ‘মিথ্যা ও হয়রানিমূলক’ দাবি করে তা প্রত্যাহারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মো. তনু জমাদ্দার।
শনিবার (২৯ আগস্ট) পাইকগাছা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন তনু জমাদ্দার। তিনি লস্কর ইউনিয়নের আলমতলা গ্রামের রহমত জমাদ্দার, ইবাদুল গাজী ও টুটুলের নেতৃত্বে একটি পক্ষের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তোলেন।
লিখিত বক্তব্যে তনু জমাদ্দার দাবি করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে অভিযুক্তরা এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে মাদক কেনাবেচা ও সেবন, চাঁদাবাজি এবং জমি দখলসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন। এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় তাদের সঙ্গে বিরোধের সৃষ্টি হয় বলে জানান তিনি।
তিনি অভিযোগ করেন, চলতি বছরের গত ৫ আগস্ট দপুরে ইবাদুল, রহমত, আবুল দফাদার, বাদশা, হোসাইন, সুমন, তুহিন, টুটুল, হাবিব, শহিদ, আবু তালেব, আসিফ, শাহমত, বাদশা জমাদ্দার, সাইদুর জমাদ্দার, আব্দুল্লাহ, নাহিদ, আহসানসহ আরও কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে চর মসজিদ মোড়ের একটি মুদি দোকানে হামলা চালান। এ সময় দোকানে থাকা নগদ এক লাখ টাকা এবং চাল, ডাল, চিনিসহ প্রায় দেড় লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তনুর ভাষ্য, হামলাকারীদের ভয়ে তিনি ও নুরুল ইসলামসহ কয়েকজন মসজিদের মুয়াজ্জিন নজরুল ইসলামের বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেখানেও হামলাকারীরা প্রবেশ করে মারধর করলে তানভীর নামে একজনের বাম হাত ভেঙে যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে তারা বাড়িতে ফিরে গেলে সেখানেও দা, লাঠি, রড ও হাতুড়ি নিয়ে হামলা চালিয়ে বসতঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
এ ছাড়া ওই দিন বিকেলে পাইকগাছা থানায় মামলা করতে যাওয়ার সময় পৌরসভা চত্বরে তার বাবা নুর ইসলাম জমাদ্দার ও মা নাসিমা বেগমকে মারধর করা হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।
তনু জমাদ্দার আরও বলেন, হামলা ও ভাঙচুরের পর তাদের পক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে থানায় ও আদালতে একাধিক মামলা করা হয়েছে। এসব মামলাকে ‘মিথ্যা, বানোয়াট ও হয়রানিমূলক’ দাবি করে তিনি বলেন, মামলার কারণে এলাকার অনেক মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং কেউ কেউ বাড়িছাড়া হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আলমতলা গ্রামকে মাদকমুক্ত করতে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা, হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আলমগীর জমাদ্দার, ফাতেমা বেগম, নাসিমা বেগম, তানভীর জমাদ্দার, বাবু জমাদ্দার ও তনু জমাদ্দার।
মতামত