রাজধানী ঢাকার আব্দুল্লাহপুর-টঙ্গী সড়কে মধ্যরাতে একটি মোটরসাইকেলে দুই যুবকের মাঝে ‘নিথর’ অবস্থায় দেখা যাওয়া তরুণী মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন বলে দাবি করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই ঘটনার ছবি ভাইরাল হওয়ার পর তরুণী জীবিত নাকি মৃত,তা নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ ও আলোচনা তৈরি হয়।
তবে পরিবারের দাবি,বাসায় পারিবারিক ঝগড়ার পর রাগ করে বেরিয়ে গিয়ে ওই তরুণী একটি বারে মদ্যপান করেন। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে দুই যুবক তাকে মোটরসাইকেলে করে নিয়ে যাচ্ছিলেন।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে ২৬ বছর বয়সী ওই তরুণীর সঙ্গে কথা বলেন এক প্রতিবেদক। মিতু (ছদ্মনাম) নামে পরিচিত ওই তরুণী জানান,তিনি বর্তমানে ভালো আছেন। তবে দুদিন পর বিস্তারিত কথা বলবেন বলে ফোন কেটে দেন।
পরে তার বড় বোন ও দুলাভাইয়ের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা হয়। তাদের গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায়।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার (২৬ আগষ্ট) স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে টঙ্গীর বাসা থেকে বেরিয়ে যান মিতু। তার দুলাভাইয়ের সঙ্গে বোনের ঝগড়া এবং বোনের গায়ে হাত তোলার ঘটনা তিনি মেনে নিতে পারেননি বলেও দাবি পরিবারের।
গত বুধবার রাত আনুমানিক ৩টা ১৫ থেকে ৩টা ২০ মিনিটের দিকে আব্দুল্লাহপুর-টঙ্গী সড়কে একটি মোটরসাইকেলে তিন আরোহীকে দেখতে পান মুফতি মনোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তি। ওমরাহ সফর শেষে বগুড়ায় ফেরার পথে তিনি মোটরসাইকেলটিকে কিছু দূর অনুসরণ করেন।
তার বর্ণনা অনুযায়ী,মোটরসাইকেলের চালকের পেছনে বসা এক যুবক তরুণীকে জাপটে ধরে রেখেছিলেন। তরুণীর দুই পা খালি ছিল এবং অস্বাভাবিকভাবে নিচের দিকে ঝুলছিল। এ দৃশ্য দেখে তিনি তরুণী অচেতন নাকি অন্য কোনো বিপদের শিকার হয়েছেন,তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন।
পরে ঘটনাটির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নেটিজেনদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। অনেকে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণেরও চেষ্টা করেন।
তরুণীর দুলাভাই বলেন,‘মিতু কখনো আগে ড্রিংকস করেনি। সেদিন আমরা স্বামী-স্ত্রী ঝগড়া করছিলাম। বিষয়টি দেখে সে রাগ করে বাসা থেকে চলে যায়। পরে হয়তো উত্তরার কোনো বারে গিয়ে ড্রিংকস করে। অসুস্থ হয়ে পড়লে ছেলেগুলো তাকে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছিল।’
তরুণীর বোন জানান,কিছুদিন আগে তার বোনের বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে। এরপর তাকে নিজের বাসায় নিয়ে রেখেছিলেন তিনি।
তিনি বলেন,‘সেদিন রাগ করে বাসা থেকে বেরিয়ে যায়। পরে বারে অসুস্থ হওয়ার পর আলম ও তার এক বন্ধু তাকে নিয়ে আমার বাসায় আসার চেষ্টা করে। কিন্তু পরে টঙ্গীতে না গিয়ে তারা মিরপুরে চলে যায়। সেখানে এক বান্ধবীর বাসায় রেখে আমাকে ফোন দেয়।’
ভাইরাল ছবিতে মোটরসাইকেলের চালকের আসনে থাকা যুবকের বাড়ি রাজেন্দ্রপুর এলাকায় বলে জানা গেছে। তার নামের শেষাংশ ‘আলম’। তিনি বিবাহিত এবং তার সংসার ও সন্তান রয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
আলম ওই তরুণীর স্বামী কি না,এমন প্রশ্নে তরুণীর দুলাভাই বলেন,‘বিয়ে করবে বলে শুনেছি।’
এদিকে তরুণীর সাবেক এক স্বামী তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছেন। তিনি দাবি করেছেন,মিতু তার কাছ থেকে তিন লাখ টাকা নিয়েছেন এবং একাধিক যুবকের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। হানিট্র্যাপের মতো ঘটনার সঙ্গেও তিনি জড়িত থাকতে পারেন বলে অভিযোগ করেন ওই ব্যক্তি। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
মিরপুরে তরুণীকে রেখে যাওয়া দুই যুবকের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। মোটরসাইকেলটির চালক আলমের মুঠোফোনেও একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।
তরুণীর বোন বলেন,‘আলম এখন পারিবারিকভাবে ঝামেলায় আছে। তার সংসার ও মেয়ে আছে। আমার বোনকে পৌঁছে দিতে গিয়ে সে এখন বিপদে পড়েছে।’
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হলেও তরুণী বর্তমানে সুস্থ আছেন বলে তার পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
মতামত