নওগাঁ সদর উপজেলার ভীমপুর এলাকায় প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই এক ভূমিহীন ব্যক্তির বসতিঘর ভাঙচুর করে উচ্ছেদের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে।
গত ৩১ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী মো. হারুন আলী এ ঘটনায় প্রতিকার ও জড়িতদের শাস্তির দাবিতে গত ২ নভেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ পত্র দিয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়, হারুন আলী দীর্ঘদিন ধরে খালের পাড়ের সরকারি জমিতে বসবাস করে আসছিলেন। ঘটনার দিন তিনি বাড়িতে না থাকার সুযোগে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর টিনের ঘর ও ছাপড়া ভেঙে মালামাল তছনছ করেন। পরে প্রতিবাদ জানালে তাঁকে সেখানে পুনরায় ঘর নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়।অভিযোগে মো. সোহেল রানা, মো. আশরাফুল ইসলাম সোনার, মো. রিফাত ও মো. কামাল হোসেনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সোহেল রানা দাবি করেন, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশে ওই ব্যক্তিকে উচ্ছেদ করা হয়েছে এবং সেখানে যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করা হবে। তবে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জালাল উদ্দিনের দাবি, সেখানে যাত্রী ছাউনি নয়, বর্জ্য ফেলার স্থান নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
অন্যদিকে নওগাঁ সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. মাহবুবুর আলম জানান, ওই স্থানে বর্জ্য ফেলার জায়গা কিংবা যাত্রী ছাউনি নির্মাণের কোনো প্রকল্প বা বরাদ্দ তাঁদের দপ্তরে নেই।
নওগাঁ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নূরুল আমিন বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত, ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের তীব্র দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
মতামত