ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার চেকপোস্ট -জয়নগর সড়কটি প্রয়োজনীয় সংস্কারের অভাবে দীর্ঘ দিন ধরে বেহাল দশায় পরিণত হয়ে আছে। সড়কে পিচ খোয়া উঠে স্থানে স্থানে সৃষ্টি হচ্ছে বড় বড় গর্ত। সামান্য বৃষ্টিতে সড়কের গর্তে পানি জমে কাদায় পরিণত হচ্ছে। দিন যতই যাচ্ছে সংস্কারের অভাবে এই সড়কটি বেহাল দশায় পরিণত হচ্ছে। এ অবস্থার ফলে স্কুল-কলেজ মাদরাসা শিক্ষার্থী,অসুস্থ রোগীসহ পথচারীরা চরম ভোগান্তি নিয়ে যাতায়ত করছেন।
স্থানীয় একাধিক লোকজন জানায়, উপজেলার চেকপোস্ট - জয়নগর সড়কটি খুবই জনগুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। এই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন সেনারবাদি, উমেদপুর, বাউতলা, ছয়ঘরিয়া, জয়নগরসহ অন্ত:ত ৭টি গ্রামের মানুষ নানা প্রকারের যানবাহন দিয়ে চলাচল করছে। কিন্তু এই সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে বেহাল দশায় পরিণত হয়ে আছে। দ্রæত সড়কটির সংস্কার করে নিরাপদ ও নির্বিঘœ চলাচলের ব্যবস্থা করার তারা দাবি জানান।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এই সড়কের বেশীরভাগ জায়গাতে পিচ উঠে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়ে আছে। কোথাও আবার সড়কের দুই পাশ ভেঙে আছে। সামান্য বৃষ্টি হলে পানি জমে কাদায় পরিণত হচ্ছে। সড়কের বেহাল দশার কারণে অসুস্থ রোগীসহ সাধারণ পথচারীরা প্রতিনিয়ত ভোগান্তি নিয়ে যাতায়ত করছে। বেহাল এ সড়কে চলতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। ভাঙাচোরা সড়ক হওয়ার কারণে যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়াও।
স্থানীয় বাসিন্দা মো: দেলোয়ার হোসেন জানায়, দীর্ঘ দিন ধরে এই সড়কের সংস্কার কাজ না হওয়ায় বেশীভাগ অংশ বেহাল দশায় পরিণত হয়ে আছে। এই সড়কে সব চাইতে বেশী কষ্ট করতে হচ্ছে অসুস্থ রোগী নিয়ে। সড়কটি দ্রুত সংস্কার করতে সংশ্লিষ্ট পক্ষের নিকট দাবি জানায়।
মো: মনিরুল ইসলাম বলেন, সীমান্ত এলাকার অন্ত:ত ৭টি গ্রামের এটি হলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। এই সড়কে ছোটবড় নানা প্রকারের যানবাহ দিয়ে অসংখ্য লোকজন চলাচল করছে। বর্তমানে এই সড়কের বেশীভাগ অংশে পিচ খোয়া উঠে খানাখন্দে হয়ে চলাচলে ভোগান্তির যেন শেষ নেই। নির্বাচন আসলে সবাই প্রতিশ্রতি দিয়ে যায়। এরপর আর কেউ আসে না।
মো: জাহাঙ্গীর মিয়া বলেন, আমাদের গ্রাম থেকে শহর বেশ দুরে। সব কাজ শহরে গিয়ে করতে হয়। বেহাল সড়কের কারণে চলাচল করতে খুবই কষ্ট হচ্ছে। তাছাড়া কোন অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে কষ্টের যেন শেষ নেই।
সিএনজি চালক সাচ্চু মিয়া বলেন, এই সড়ক দিয়ে যানবাহন চালাতে খুবই ভয় করে। বেহাল দশার কারণে প্রায় সময়ই গাড়ির চাকা গর্তে আটকে যায়। গাড়ি থেকে যাত্রীকে নেমে গাড়ি ঠেলা দিতে হয়। এক দিন গাড়ি চালালে পরের দিন চালানো খুবই কষ্ট হয়ে যায়। সারা শরীর ব্যাথা করে।
ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম বলেন, মালামাল আনতে প্রায় সময় আখাউড়া শহরে যেতে হয়। কিন্তু সড়কের উপর থেকে ইট সুরকি,বিটুমিন উঠে বেহাল দশায় পরিণত হয়ে আছে। সড়ক দিয়ে চলাচল করতে এখন খুবই ভয় করে।
মো: মিজান মিয়া,বলেন, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন নানা প্রয়োজনে শতশত লোক শহরে আসা যাওয়া করছে। সড়কটি দীর্ঘ দিন ধরে বেহাল দশায় পরিণত হয়ে আছে সংস্কারের কোন উদ্যোগ নেই। দিন যতই যাচ্ছে ততই বেহাল বাড়ছে। একবার এই রাস্তা দিয়ে যাতায়ত করতে দ্বিতীয়বার যেতে ইচ্ছে করে না।
কলেজ শিক্ষার্থী মো: আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রতিদিন সড়ক পথে কলেজে যাওয়া আসা করতে হয়। বর্তমানে সড়কে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় চলাচল করতে খুবই দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এই বেহাল সড়ক দিয়ে এক দিন কলেজে গেলে পরের দিন যেতে মন চাই না। যানবাহন ভাড়া ও অতিরিক্ত দিতে হচ্ছে, সেইসাথে সময় ও বেশী লাগছে।
আখাউড়া উপজেলা প্রকৌশলী মো: আমিনুল ইসলাম বলেন, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন নামে নতুন একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পে সড়কটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রকল্পটি যখন পাস হবে আশা করছি দ্রু সময়ের মধ্যে এই সড়কের কাজ করা হবে।
মতামত