মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

আশুলিয়ায় পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষে আহত ১৫০


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

আশুলিয়ায় পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষে আহত ১৫০
আশুলিয়ায় পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষে আহত ১৫০

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ কয়েক দফা দাবিতে তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের ৫ম দিনেও চরম উত্তপ্ত ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে সাভার ও আশুলিয়ার তৈরি পোশাকশিল্প এলাকায়। পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে পুলিশ কর্মকর্তাসহ দুই শতাধিক লোক আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে কাঁদানে গ্যাস (টিয়ারশেল) ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়তে হয়েছে। সহিংসতা এড়াতে আশুলিয়া ও সাভারের প্রায় ২৩০টি তৈরি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

আজ সোমবার (২ নভেম্বর ২০২৬) সকাল ৯টা থেকে সাভার ও আশুলিয়ার বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর এবং সাভারের হেমায়েতপুর মহাসড়কে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

সকালে আশুলিয়ার নরসিংহপুরের ‘নিউএজ’ কারখানার শ্রমিকেরা কর্মবিরতি শেষে বাইরে বের হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরবর্তীতে তারা অনন্ত গ্রুপ ও হা-মীম গ্রুপের কারখানার সামনে জড়ো হয়ে আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালায়। এতে আশুলিয়া ও হেমায়েতপুরজুড়ে দুই শতাধিক শ্রমিক ও একাধিক পুলিশ সদস্য আহত হন। আহতদের মধ্যে শিল্প পুলিশ-১-এর এএসপি (অপারেশনস অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স) শোয়েব আহমেদও রয়েছেন।

উত্তেজনার একপর্যায়ে দুপুর ১২টার দিকে নরসিংহপুরের নদী ফিলিং স্টেশনের সামনে একটি তৈরি পোশাক কারখানার কাভার্ডভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধরা। বাইপাইল এলাকা থেকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দুজনকে গ্রেফতার করেছে আশুলিয়া থানা পুলিশ। তারা পোশাক শ্রমিক নাকি বহিরাগত নাশকতাকারী—তা যাচাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আশুলিয়া থানার ওসি তরিকুল ইসলাম।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাভারের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু। তিনি অভিযোগ করেন:

"পতিত সরকারের দোসররা সাভার ও আশুলিয়ায় পোশাক খাতকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে এই আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে। বহিরাগতরা এসে সাধারণ শ্রমিকদের কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে সহিংসতা ও নাশকতা সৃষ্টি করছে।"

একই সুর মিলিয়ে শিল্প পুলিশ সদস্যরা জানান, সাধারণ ও শান্তিপ্রিয় শ্রমিকেরা কাজ করতে চাইলেও বহিরাগতদের উসকানি ও বলপ্রয়োগের কারণে কারখানা বন্ধ করে মহাসড়কে চলে আসতে বাধ্য হচ্ছেন।

বর্তমানে পুরো শিল্পাঞ্চলজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আশুলিয়া ও সাভারের বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


আশুলিয়ায় পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষে আহত ১৫০

প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ কয়েক দফা দাবিতে তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের ৫ম দিনেও চরম উত্তপ্ত ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে সাভার ও আশুলিয়ার তৈরি পোশাকশিল্প এলাকায়। পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে পুলিশ কর্মকর্তাসহ দুই শতাধিক লোক আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে কাঁদানে গ্যাস (টিয়ারশেল) ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়তে হয়েছে। সহিংসতা এড়াতে আশুলিয়া ও সাভারের প্রায় ২৩০টি তৈরি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

আজ সোমবার (২ নভেম্বর ২০২৬) সকাল ৯টা থেকে সাভার ও আশুলিয়ার বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর এবং সাভারের হেমায়েতপুর মহাসড়কে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

সকালে আশুলিয়ার নরসিংহপুরের ‘নিউএজ’ কারখানার শ্রমিকেরা কর্মবিরতি শেষে বাইরে বের হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরবর্তীতে তারা অনন্ত গ্রুপ ও হা-মীম গ্রুপের কারখানার সামনে জড়ো হয়ে আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালায়। এতে আশুলিয়া ও হেমায়েতপুরজুড়ে দুই শতাধিক শ্রমিক ও একাধিক পুলিশ সদস্য আহত হন। আহতদের মধ্যে শিল্প পুলিশ-১-এর এএসপি (অপারেশনস অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স) শোয়েব আহমেদও রয়েছেন।

উত্তেজনার একপর্যায়ে দুপুর ১২টার দিকে নরসিংহপুরের নদী ফিলিং স্টেশনের সামনে একটি তৈরি পোশাক কারখানার কাভার্ডভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধরা। বাইপাইল এলাকা থেকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দুজনকে গ্রেফতার করেছে আশুলিয়া থানা পুলিশ। তারা পোশাক শ্রমিক নাকি বহিরাগত নাশকতাকারী—তা যাচাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আশুলিয়া থানার ওসি তরিকুল ইসলাম।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাভারের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু। তিনি অভিযোগ করেন:

"পতিত সরকারের দোসররা সাভার ও আশুলিয়ায় পোশাক খাতকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে এই আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে। বহিরাগতরা এসে সাধারণ শ্রমিকদের কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে সহিংসতা ও নাশকতা সৃষ্টি করছে।"

একই সুর মিলিয়ে শিল্প পুলিশ সদস্যরা জানান, সাধারণ ও শান্তিপ্রিয় শ্রমিকেরা কাজ করতে চাইলেও বহিরাগতদের উসকানি ও বলপ্রয়োগের কারণে কারখানা বন্ধ করে মহাসড়কে চলে আসতে বাধ্য হচ্ছেন।

বর্তমানে পুরো শিল্পাঞ্চলজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আশুলিয়া ও সাভারের বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে।



Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream