নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে দাদন ব্যবসায়ী রিপন মিয়ার গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগীরা। শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে নীলফামারী প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কিশোরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সভাপতি রশিদুল ইসলাম।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন অবসরপ্রাপ্ত সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তা আবুল কাশেম, পল্লী চিকিৎসক গাউসুল আজম বিপু, মাদরাসা শিক্ষক আফজালুল হক ও কলেজ শিক্ষক সাইফুল ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে রনচণ্ডী স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, “আমি রিপনের কাছ থেকে এক লাখ টাকা ধার নিয়েছিলাম। এর বিপরীতে তাঁকে ২০টি ফাঁকা চেক দিতে হয়েছে। টাকা পরিশোধ করার পরও তিনি আমার নামে মামলা করেছেন। এখনো তাঁর কাছে আমার ১৬টি চেক জমা রয়েছে। মূল টাকার সঙ্গে উচ্চহারে সুদ নিয়েও আমাকে হয়রানি করছেন তিনি।”
অবসরপ্রাপ্ত সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তা আবুল কাশেম বলেন, “আমি রিপনের কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা ধার নিয়েছিলাম এবং তাঁকে দুই লাখ ৭০ হাজার টাকা পরিশোধ করেছি। তিনি দুটি চেক নিলেও একটির বিপরীতে ১৬ লাখ টাকা এবং অপরটির বিপরীতে ১৪ লাখ টাকার মামলা করেছেন।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, রিপন কিশোরগঞ্জ উপজেলার উত্তর দুরাকুটি এলাকার বাসিন্দা এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী যুবলীগের সদস্য। রাজনৈতিক মামলায় আট মাস কারাভোগ করেছেন তিনি। উচ্চ সুদে টাকা ধার দিয়ে তা আদায়ের পরও শতাধিক মামলা করেছেন। এসব মামলা তাঁর আপন ভাই, ভগ্নিপতি, শ্যালক, শ্যালিকা, শ্যালকের ছেলে ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের দিয়ে করা হয়ে থাকে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
কিশোরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রশিদুল ইসলাম বলেন, রিপনের দাদন ব্যবসার কারণে নিজ উপজেলা ও আশপাশের বিভিন্ন উপজেলার অনেক মানুষ সর্বস্ব হারিয়েছেন। অনেকে জমিজমা ও বসতভিটা হারিয়েছেন। এমনকি তাঁর কারণে অনেক পরিবারে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছে এবং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনাও ঘটেছে। তাঁর অত্যাচারে অনেক মানুষ গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সভাপতি রশিদুল ইসলাম বলেন, “আমরা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে রিপন মিয়ার গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং আদালতে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।”
#
মতামত