রাজধানীর উত্তরখানে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির (২৮) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় অবশেষে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম হেলাল বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে এই মামলাটি করেছেন। মামলা দায়েরের পরপরই হেফাজতে থাকা তাহসিফের জুনিয়র বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর ২০২৬) তাকে ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদনে আদালতে পাঠানোর কথা নিশ্চিত করেছে নৌ পুলিশ।
নৌ পুলিশের তুরাগ ফাঁড়ির ডিইউটি অফিসার এএসআই মোস্তাফিজ তথ্য নিশ্চিত করে জানান যে, উত্তরখান থানায় তাহসিফের বাবার করা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে দীপকে আদালতে পাঠানোর প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ করা হয়েছে। নৌ পুলিশের পক্ষ থেকে আসামিকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে তুলে ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হবে।
উত্তরখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিব জানান, তাহসিফের বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিলে তা হত্যা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়।
গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন তাহসিফ। পরিবারের দাবি, ছোট ভাইতুল্য বন্ধু দীপের ডাকে সাড়া দিয়েই তিনি বাসা থেকে বের হয়েছিলেন।
ঘটনার দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের একটি গ্যারেজের সামনে সিসিটিভি ফুটেজে তাহসিফ ও দীপকে একসঙ্গে দেখা যায়। সেখানে হাত মেলানোর পর দুজনকে আলাদা দুটি মোটরসাইকেলে রওনা হতে দেখা যায়।
নিখোঁজের পরদিন ২৮ অক্টোবর বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে হাতঘড়ি ও পকেটে থাকা আইফোনের সূত্র ধরে তাহসিফের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে টঙ্গী নদী পুলিশ। ময়নাতদন্ত শেষে উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
২৯ অক্টোবর রাতে মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের বাসা থেকে আটক করার পর পিবিআই দীপকে নিয়ে তুরাগ নদসংলগ্ন মাজার বস্তি এলাকায় অভিযান চালায়। সেখানে তার দেওয়া তথ্যে নম্বরপ্লেটবিহীন একটি কালো রঙের সুজুকি জিক্সার ১৫০ সিসি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে দীপ দাবি করেছিলেন, তুরাগ নদের তীরে কিছু লোক তাদের ধাওয়া করলে তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন এবং তিনি পালিয়ে আসেন। তবে তার বক্তব্যের একাধিক সংগতি ও অসংগতি যাচাইয়ের পর পিবিআই আসামি ও উদ্ধারকৃত আলামত নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
ছেলের রহস্যজনক মৃত্যুর পর থেকেই এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ করে আসছিলেন তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। ধাওয়ার মুখে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে মৃত্যুর যে দাবি দীপ করেছেন, তা নিয়ে শুরু থেকেই তীব্র সন্দেহ প্রকাশ করে তাহসিফের পরিবার। পরিবারের স্পষ্ট বক্তব্য, তাহসিফ খুব ভালো সাঁতার জানতেন; ফলে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে তাঁর ডুবে মরার গল্প সাজানো ও কাল্পনিক।
বাবার দায়েরকৃত এই হত্যা মামলা এবং আসামি দীপের রিমান্ড শুনানির মধ্য দিয়েই তাহসিফ সাউরির নির্মম মৃত্যুর প্রকৃত সত্য উন্মোচিত হবে বলে আশা করছেন স্বজনরা।
মতামত