ভালো বেতনে কাজের লোভ দেখিয়ে সীমান্ত পার করে ভারতে পাচার করার পর পুনের কুখ্যাত যৌনপল্লিতে বিক্রি করে দেওয়া ছয় বাংলাদেশি নারীকে উদ্ধার করেছে ভারতীয় পুলিশ।
গত বুধবার (২৮ অক্টোবর ২০২৬) ভোরে ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের পুনে শহরের বুধওয়ার পেথ এলাকার একাধিক নিষিদ্ধ পল্লিতে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে বন্দিদশা থেকে তাঁদের উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মানবপাচার চক্রের চার দালালের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পুনে পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (জোন-১) ঋষিকেশ রাওয়ালের নির্দেশে একটি সমন্বিত বিশেষ দল গঠন করা হয়। ফারাসখানা, বিশ্রামবাগ ও খাদক থানার সমন্বয়ে গঠিত এই যৌথ টিম বুধবার ভোরে বুধওয়ার পেথ এলাকার নির্দিষ্ট কয়েকটি যৌনপল্লিতে একযোগে ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানের পর ফারাসখানা থানা পুলিশ বাদী হয়ে মানবপাচার ও জোরপূর্বক অসামাজিক কাজে বাধ্য করার অভিযোগে ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে। গ্রেপ্তার দুই দালালকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং পলাতক অন্য দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উদ্ধার হওয়া নারীরা জানান, প্রায় চার মাস আগে ভালো বেতনে আকর্ষণীয় চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অবৈধ সীমান্ত পারাপারের মাধ্যমে তাঁদের বাংলাদেশ থেকে ভারতে নেওয়া হয়। তাঁদের কারো কাছেই বৈধ পাসপোর্ট বা কাগজপত্র ছিল না। মুম্বাইসহ বিভিন্ন বড় শহরে কাজের আশ্বাস দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত পুনেতে এনে নিষিদ্ধ পল্লির সর্দারনিদের কাছে চড়া দামে বিক্রি করে দেওয়া হয়।
উদ্ধারকৃত নারীদের আপাতত একটি সুরক্ষা কেন্দ্রে (রিসকিউ হোম) আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আশ্রয়ে রাখা হয়েছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে তাঁদের বাংলাদেশে প্রত্যাবাসনের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ থেকে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে নারী পাচারের ক্ষেত্রে পুনের বুধওয়ার পেথ এলাকাকে দীর্ঘদিন ধরে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করছে পাচারকারী আন্তর্জাতিক চক্রগুলো। চলতি বছরের মার্চ মাসেও একই এলাকার যৌনপল্লি থেকে চারজন বাংলাদেশি নারীকে উদ্ধার করেছিল পুনে সিটি পুলিশ, যাদেরকে হুবহু একই কায়দায় চাকরির ফাঁদে ফেলে জোরপূর্বক দেহব্যবসায় নামানো হয়েছিল।
মতামত