বরিশালে যুবদলের মহানগর, জেলা দক্ষিণ ও জেলা উত্তরের তিন কমিটিতে দীর্ঘদিন ধরে ঘুরেফিরে রয়েছেন পুরোনো নেতারাই। এক দশকেও নতুন নেতৃত্ব না আসায় ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মধ্যে। এরই মধ্যে কোনো নেতা বহিষ্কৃত হয়ে স্বপদে ফিরেছেন, কেউ মারা গেছেন, আবার কেউ বছরের পর বছর ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করছেন। তবে নতুন পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হয়নি।
আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর ২০২৬) যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হলেও নতুন নেতৃত্বের প্রশ্নে অসন্তোষ কাটেনি।
মহানগর যুবদল: ২০১৬ সালের শেষ দিকে গঠিত কমিটির সভাপতি আক্তারুজ্জামান শামীমকে ২০২৩ সালে অব্যাহতি দেওয়া হয়। সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান মামুনও একপর্যায়ে বহিষ্কৃত হয়ে পরে স্বপদে ফেরেন। দীর্ঘদিন নতুন কমিটি না হওয়ায় সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন নেতা-কর্মীরা।
মহানগর যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মাজহারুল ইসলাম জাহান বলেন, “১০ বছর ধরে মহানগর যুবদল একই কমিটি দিয়ে চলছে। এই সময়ে নতুন নেতৃত্ব আনা উচিত ছিল।”
দক্ষিণ জেলা যুবদল: ২০১৭ সালের এপ্রিলে গঠিত কমিটির সভাপতি পারভেজ আকন বিপ্লব ২০২১ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি মারা যান। এরপর থেকে মাসুদ রেজা খান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং এইচ এম তসলিম উদ্দিন সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।
জেলা দক্ষিণ যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজ আহমেদ বাবলু বলেন, “এভাবে তো সংগঠন চলতে পারে না। নতুন নেতৃত্ব আসা দরকার।”
তবে তসলিম উদ্দিন বলেন, “অস্থিতিশীল অবস্থার কারণে নতুন কমিটি করা সম্ভব হয়নি। নতুন কমিটি গঠনের বিষয়টি দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।”
উত্তর জেলা যুবদল: ২০১৬ সালে গঠিত আহ্বায়ক কমিটি ভেঙে দেওয়ার পর সালাউদ্দিন পিপলু জমাদ্দারকে আবার আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
বর্তমানে সদস্যসচিব হিসেবে রয়েছেন গোলাম মোর্শেদ মাসুদ। তিনি বলেন, “পাঁচ বছর তেমন বেশি সময় নয়।”
যুবদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঈনুদ্দীন রুবেল বলেন, “নতুন-পুরোনোর সমন্বয়ে হয়তো বরিশাল যুবদলের নেতৃত্ব গঠন করা হবে।”
দীর্ঘদিন কমিটি পুনর্গঠন না হওয়ায় তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে সংগঠনে গতিশীলতা ফেরানোর প্রত্যাশা তাঁদের।
মতামত