রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই পদ্মাপাড়ে ইলিশের হাট



নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই পদ্মাপাড়ে ইলিশের হাট

মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা চলাকালেই পদ্মাপাড়ে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ। ফরিদপুরের সদরপুর ও মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার পদ্মা নদী থেকে এসব মাছ আসছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। আড়িয়াল খাঁ নদের মোহনা পেরিয়ে কাজিরসূরা এলাকায় পদ্মাপাড়ে জমে উঠেছে ইলিশের বেচাকেনা। নিষেধাজ্ঞার মধ্যে এমন বেচাকেনা চলায় সদরপুর ও শিবচর উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের তদারকি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

শুক্রবার বিকেলে সরেজমিনে কাজিরসূরা এলাকায় গিয়ে ইলিশের বেচাকেনার চিত্র দেখা যায়। এ সময় স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পদ্মা নদী থেকে বিভিন্নভাবে ইলিশ এনে সেখানে বিক্রি করা হচ্ছে। তাঁদের দাবি, এসব মাছের বড় একটি অংশ সদরপুর ও শিবচর এলাকার পদ্মা নদী থেকে আসে।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চলতি বছরের ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ২২ দিন দেশব্যাপী মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান চলছে। ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে নিরাপদ প্রজনন ও বংশবিস্তার নিশ্চিত করতে এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এ সময়ে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে নদ-নদী ও উপকূলীয় এলাকায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান পরিচালনার কথা রয়েছে।

নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য শুধু নদীতে ইলিশ ধরা বন্ধ রাখা নয়, অবৈধভাবে আহরণ করা মাছের পরিবহন ও বেচাকেনাও বন্ধ করা। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার মধ্যে কোনো এলাকায় প্রকাশ্যে ইলিশ বিক্রি হলে মাছের উৎস, সরবরাহব্যবস্থা এবং বাজারে নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। নদীতে অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি মাছ বিক্রির স্থান, পরিবহনের পথ ও সম্ভাব্য আড়তগুলোতে নজরদারি না থাকলে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

মা ইলিশের প্রজনন রক্ষায় প্রতিবছর সরকার নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ইলিশ আহরণ বন্ধ রাখে। এ সময়ে জেলেদের নদীতে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকতে হয়। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশকে ডিম ছাড়ার সুযোগ দেওয়া এবং ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন ও প্রাপ্যতা বাড়ানো।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সদরপুর ও শিবচর এলাকার পদ্মা নদী থেকে ইলিশ আসার তথ্য পাওয়া গেলে মাছের উৎস শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে কাজিরসূরা এলাকায় মাছের বেচাকেনা কীভাবে চলছে, নিষিদ্ধ সময়ে এসব মাছ সেখানে কারা আনছেন এবং কারা বিক্রি করছেন, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

সদরপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আবদুল্লাহিল আবরার বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণে পদ্মা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ইলিশের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মৎস্যসম্পদ রক্ষায় এ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬


নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই পদ্মাপাড়ে ইলিশের হাট

প্রকাশের তারিখ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা চলাকালেই পদ্মাপাড়ে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ। ফরিদপুরের সদরপুর ও মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার পদ্মা নদী থেকে এসব মাছ আসছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। আড়িয়াল খাঁ নদের মোহনা পেরিয়ে কাজিরসূরা এলাকায় পদ্মাপাড়ে জমে উঠেছে ইলিশের বেচাকেনা। নিষেধাজ্ঞার মধ্যে এমন বেচাকেনা চলায় সদরপুর ও শিবচর উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের তদারকি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

শুক্রবার বিকেলে সরেজমিনে কাজিরসূরা এলাকায় গিয়ে ইলিশের বেচাকেনার চিত্র দেখা যায়। এ সময় স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পদ্মা নদী থেকে বিভিন্নভাবে ইলিশ এনে সেখানে বিক্রি করা হচ্ছে। তাঁদের দাবি, এসব মাছের বড় একটি অংশ সদরপুর ও শিবচর এলাকার পদ্মা নদী থেকে আসে।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চলতি বছরের ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ২২ দিন দেশব্যাপী মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান চলছে। ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে নিরাপদ প্রজনন ও বংশবিস্তার নিশ্চিত করতে এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এ সময়ে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে নদ-নদী ও উপকূলীয় এলাকায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান পরিচালনার কথা রয়েছে।

নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য শুধু নদীতে ইলিশ ধরা বন্ধ রাখা নয়, অবৈধভাবে আহরণ করা মাছের পরিবহন ও বেচাকেনাও বন্ধ করা। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার মধ্যে কোনো এলাকায় প্রকাশ্যে ইলিশ বিক্রি হলে মাছের উৎস, সরবরাহব্যবস্থা এবং বাজারে নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। নদীতে অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি মাছ বিক্রির স্থান, পরিবহনের পথ ও সম্ভাব্য আড়তগুলোতে নজরদারি না থাকলে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

মা ইলিশের প্রজনন রক্ষায় প্রতিবছর সরকার নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ইলিশ আহরণ বন্ধ রাখে। এ সময়ে জেলেদের নদীতে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকতে হয়। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশকে ডিম ছাড়ার সুযোগ দেওয়া এবং ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন ও প্রাপ্যতা বাড়ানো।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সদরপুর ও শিবচর এলাকার পদ্মা নদী থেকে ইলিশ আসার তথ্য পাওয়া গেলে মাছের উৎস শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে কাজিরসূরা এলাকায় মাছের বেচাকেনা কীভাবে চলছে, নিষিদ্ধ সময়ে এসব মাছ সেখানে কারা আনছেন এবং কারা বিক্রি করছেন, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

সদরপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আবদুল্লাহিল আবরার বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণে পদ্মা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ইলিশের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মৎস্যসম্পদ রক্ষায় এ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream