ফরিদপুরের ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে এক ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার বিকেলে কানাইপুরে ট্রাক, বাস, প্রাইভেট কার ও ইজিবাইকের ত্রিমুখী সংঘর্ষে দুজন নিহত হন। নিহতরা সম্পর্কে মা-ছেলে। এর ঠিক এক ঘণ্টা আগে একই মহাসড়কের মধুখালীতে বাস ও অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হন আরও তিনজন।
বিকেল ৪টার দিকে ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের তেতুলতলা এলাকায় ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিহত ব্যক্তিরা হলো মাগুরার মহম্মদপুর থানার আলোকদিয়া গ্রামের সুমি বেগম (৩২) ও তাঁর ছোট ছেলে শাওন (৭)। দুর্ঘটনায় সুমি বেগমের স্বামী পলাশ (৩৮) গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ (ফমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন করিমপুর হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক আবদুস সালাম।
হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুর শহর থেকে একটি বালুবাহী ট্রাক কানাইপুরের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে ট্রাকটির সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর ট্রাকের চাকা বিস্ফোরিত হয়ে সেটি মহাসড়কের ওপর উল্টে যায়। এ সময় সামনে থেকে আসা একটি প্রাইভেট কার ও ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে। প্রাইভেট কারটির একাংশ ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে দুমড়েমুচড়ে যায়। ইজিবাইকটি বালু ও ট্রাকের নিচে পুরোপুরি চাপা পড়ে।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশ বালু সরিয়ে ইজিবাইক থেকে আহত অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করে। পরে ক্রেনের সাহায্যে ট্রাক সরিয়ে প্রাইভেট কার থেকে একজনকে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া চারজনকে ফমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন। বাসের কোনো যাত্রী হতাহত হননি বলে জানা গেছে।
এর আগে বেলা ৩টার দিকে একই মহাসড়কের মধুখালী উপজেলার আড়পাড়া ইউনিয়নের আড়ুয়াকান্দি এলাকায় ফরিদপুর থেকে মাগুরাগামী একটি অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে মাগুরা থেকে ছেড়ে আসা কিং ফিশার নামের একটি লোকাল বাসের সংঘর্ষ হয়। এতে তিনজন নিহত ও চারজন আহত হন।
নিহত ও আহত ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় এখনো জানা যায়নি। তাঁরা সবাই অ্যাম্বুলেন্সের যাত্রী ছিলেন বলে জানিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ।
মতামত