গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা এলাকার মান্নান প্লাজায় অবস্থিত একটি আবাসিক হোটেলে গত ১৩ অক্টোবর মঙ্গলবার রাতে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। দীর্ঘদিন ধরে ওই আবাসিক হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপ ও অনৈতিক ব্যবসা চলে আসছিল বলে স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল। সেই সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ এই ঝটিকা অভিযান চালায়।
অভিযান চলাকালে হোটেলের বিভিন্ন কক্ষ থেকে অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকা অবস্থায় নারী ও পুরুষ এবং হোটেল পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষসহ সর্বমোট ৩৯ জনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটককৃতদের মধ্যে একাধিক নারী, পুরুষ এবং হোটেলের কর্মচারী-ব্যবস্থাপক জড়িত রয়েছেন।
চন্দ্রা মান্নান প্লাজা এলাকার এক স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দা সাক্ষাৎকারে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "এখানে এই আবাসিক হোটেলের নামে দীর্ঘদিন ধরে নোংরা ব্যবসা চলছিল। ঘরের পাশে বা বাজারের মতো জনবহুল এলাকায় এই ধরনের অসামাজিক কাজের কারণে আমাদের পরিবার ও সন্তানদের নিয়ে চলাফেরা করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। পুলিশের এই অভিযানকে আমরা স্বাগত জানাই এবং আমরা চাই এই হোটেলটি চিরতরে সিলগালা করে দেওয়া হোক।"
অভিযান ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে কালিয়াকৈর থানার দ্বায়িত্বরত কর্মকর্তা জানান, "চন্দ্রা এলাকার ওই আবাসিক হোটেলে দীর্ঘদিন ধরে আইনবহির্ভূত অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতে আমরা সেখানে অভিযান চালাই এবং ৩৯ জনকে আটক করি। বুধবার সকালে আটককৃতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে গাজীপুর জেলা কারাগারে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।"
পুলিশের এই অভিযানের পর চন্দ্রা ও এর আশেপাশের এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। ১৪ অক্টোবর বুধবার সকাল থেকে আটককৃতদের আদালতে সোপর্দ করার আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
মতামত